আরজিনার স্বীকারোক্তি, শাহিন রিমান্ডে

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিহত জামিলের স্ত্রী আরজিনা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আরজিনার প্রেমিক শাহিন মল্লিকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. শাখাওয়াত হোসেন আসামিদের আদালতে হাজির করেন।

আরজিনা বেগম স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শাহিন মল্লিকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী আরজিনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে আদালত শাহিন মল্লিকের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আরজিনা ও শাহিনের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা আরজিনার স্বামী জামিলকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। জামিলকে হত্যা করতে দেখে ফেলায় তার মেয়ে নুসরাতকেও হত্যা করা হয়। তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত জরুরি। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা জানার জন্য শাহিনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আদালতে শাহিনের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না। আদালতকে কিছু বলার আছে কি না, তা শাহিনের কাছে জানতে চান বিচারক। তখন শাহিন আদালতকে বলেন, তার কিছু বলার আছে।

শাহিন আদালতকে বলেন, আরজিনা এবং আমি পাশাপাশি থাকার কারণে দুজনের সম্মতিতে আমাদের মাঝে একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথমে আরজিনা আমাকে প্রোপোজ করে। একপর্যায়ে আরজিনা বাসা থেকে তার বাবার বাড়ি চলে যায়। দুই মাস পর সে আবার জামিলের সংসারে ফিরে আসে। এদিকে আরজিনার পরিবার আমার আর আরজিনার সম্পর্কটা মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে আরজিনা আমাকে বলে, সংসার করতে চাইলে আগে জামিলকে খুন করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি আমার এক বান্ধবীকে দিয়ে একটি ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ আরজিনাকে এনে দিই। আরজিনা সেই ঘুমের ওষুধ করলার সাথে মিশিয়ে জামিলকে খাওয়ায়। জামিল ঘুমিয়ে পড়লে আমি তাকে কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করি। জামিলকে মারার দৃশ্য নুসরাত দেখে ফেলায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলি।

শাহিন আরো বলেন, আমি তাদের মারতে চাইনি। হঠাৎ একটা এক্সিডেন্ট হয়ে গেছে। জীবনে প্রথম এমন কাজ করেছি। জীবনে আর এমন কাজ করব না।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শাহিনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২ নভেম্বর সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ময়নারবাগের ৩০৬ নম্বর পাঠান ভিলার তৃতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় জামিল শেখ (৩৮) ও তার মেয়ের নুসরাতের মরদেহ। ওই ঘটনায় বিকেলেই নিহত জামিল শেখের ভাই মো. শামীম শেখ বাদী হয়ে বাড্ডায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহত জামিলের স্ত্রী আরজিনা বেগম (৩০) ও ওই বাসায় সাবলেট থাকা শাহিন মল্লিককে (২৬) আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের পর সন্দেহভাজন হিসেবে আটক আরজিনা বেগমকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে খুলনার লবণচড়া থানা এলাকায় ভাইয়ের বাসা থেকে শাহিন মল্লিককে গ্রেপ্তার করে বাড্ডা থানা পুলিশ।

শাহিনের বাড়ি খুলনার দাকোপ উপজেলায় কালাবনি-ছুতারখালি গ্রামে। তার বাবার নাম নাজিমউদ্দিন মল্লিক।

পুলিশ জানায়, নিহত জামিলের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের করপাড়া ইউনিয়নের বনপাড়া গ্রামে। পাঠান ভিলার ৩ তলায় দুটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন বেসরকারি একটি অফিসের গাড়িচালক জামিল। গত কোরবানির ঈদের পর স্ত্রী আরজিনা (৩০), মেয়ে নুসরাত (৭) ও ছেলে আলফিকে (৩) নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন জামিল।

You Might Also Like