মায়ের সামনেই মেয়েকে হত্যা করে প্রেমিক

পরকীয়ায় বুঁদ ছিলেন আরজিনা বেগম। স্বপ্ন দেখছিলেন প্রেমিক শাহীন মল্লিকের সঙ্গে ফের ঘর-সংসার শুরু করবেন। স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একমাত্র বাধা ছিলেন স্বামী জামিল শেখ। তাই তাকে পথ থেকে সরানো সিদ্ধান্ত নেন এই প্রেমিক যুগল।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার রাতে শক্ত কাঠ দিয়ে জামিল শেখকে কয়েকবার আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ ঘটনা মেয়ে দেখে ফেলায় তাকেও হত্যা করেন শাহীন। এ সবকিছুই হয় আরজিনার সামনেই।

গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি বাসার চিলেকোঠা থেকে জামিল শেখ (৩৮) ও তার নয় বছর বয়সী মেয়ে নূসরাতের লাশ উদ্ধার করে বাড্ডা থানা পুলিশ। কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়ায় ওইদিনই আরজিনাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রাতেই জামিল শেখের ভাই শামিম শেখ বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি মামলা (নং-০৪) দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয় আরজিনা বেগম ও তার প্রেমিক শাহীন মল্লিককে।

আটক আরজিনাকে রাতেই ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে খুলনার বটিয়াঘাটা থানা এলাকা থেকে শাহীন মল্লিককে গ্রেপ্তার করে বাড্ডা থানা পুলিশ।

আরজিনা ও শহীনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জামিল শেখ আগে যে বাসায় ভাড়া ছিলেন সে বাসা থেকে শাহীন ও আরজিনার পরকীয়া শুরু হয়। গত মাসে জামিল-আরজিনা দম্পতি নতুন বাসায় ওঠেন। কৌশলে আরজিনা শহীন ও তার স্ত্রীকে নতুন বাসায় সাবলেট হিসেবে নেয়। উদ্দেশ্য ছিল তারা আরো কাছাকাছি থাকবে।

তিনি জানান, তাদের পরকীয়া সম্পর্ক কতদিনের তা জানা যায়নি। তবে গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা নতুন ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেন। তবে যেহেতু আরজিনার স্বামী আছেন সেহেতু নতুনভাবে তাদের বিয়ে করা কঠিন ছিল। এটাকে তারা স্বপ্ন পূরণে বাধা হিসেবে দেখছিলেন। তাই পথের কাঁটা সরাতে জামিল শেখকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা।

পূর্বপরিকল্পনা অনুয়ায়ী বুধবার রাতে দরজা খুলে স্বামী-সন্তানদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন আরজিনা। মাঝরাতের কোনো এক সময় শাহীন জামিলের ঘরে প্রবেশ কর। আগে থেকে আরজিনা শাহীনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। শাহীন ঘরে প্রবেশ করে শক্ত শুকনো কাঠ দিয়ে জামিলের মাথায় আঘাত করেন। এতে ‍ঘুম থেকে জেগে ওঠে জামিল। বলেন, ‘শাহীন তুই আমাকে মারছিস কেন?’ শাহীন কোনো কথা না শুনে জামিলকে বারবার আঘাত করতে থাকে। এ সময় জামিল মারা যান। ঘটনাটি জামিলের মেয়ে নুসরাত দেখে ফেলায় খানিকটা ভীত হয়ে পড়েন আরজিনা ও শাহীন। ঘটনার সাক্ষী না রাখতে মায়ের সামনেই শাহীন নুসরাতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা আরো জানান, শাহীনের স্ত্রী এ বিষয়ে কিছু জানত না বলে পুলিশকে জানিয়েছে। তবে সে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে তার স্বামী তার কাছে এসে বলে, বাসায় খুন হয়েছে। চলো আমরা এখান থেকে চলে যাই। স্ত্রীকে নিয়ে ভোরে পালিয়ে খুলনার উদ্দেশে চলে যান শাহীন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের বাড্ডা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার আশরাফুল কবির জানান, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে। আগামীকাল শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলে আশা করছি।

You Might Also Like