বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের বাজার চড়া, পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ

বাংলাদেশের বাজারে চাল, ডাল, লবণ, তেল, পিয়াজ সব পণ্যেরই দামের উচ্চ হার। শিক্ষার ব্যয়ও বাড়ছে দিন দিন। নানা ছুঁতোয় বাড়ি ভাড়া বাড়াচ্ছে বাড়িওয়ালা। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের সংসার যেন চলতে চায় না।

মাস দুই ধরে চালের বাজার চড়া। সরু চাল ৭০ টাকা আর মোটা চাল ৫০ টাকার উপর কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। সরকার ন্যায্য মূল্যে আতপ চাল দিচ্ছে ৩০ টাকা করে।
এদিক হঠাৎ করেই পেঁয়াজে দাম লাফিয়ে কেজি প্রতি ৯০ টাকায় উঠে গেছে।

পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক দামে অনেক দিন পর হলেও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সরকার। পেঁয়াজের দাম কিভাবে বাগে আনা যায় তার জন্য আজ জরুরি ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এ বৈঠকে পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে একটি বাজার মনিটরিং জোরদার করা, যে গুদামে পেঁয়াজ মজুদ করে রাখা হয়, তা পরিদর্শন করা এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অন্যতম।
এ প্রসঙ্গে রাজধানীর একজন সরকারি চাকরিজীবী নুরুন্নাহার মেরী রেডিও তেহরানকে বলেন, তাদের চাকরিতে বছরে একবার বেতন বৃদ্ধি পায় অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে প্রতি সপ্তাহে। মধ্যবিত্ত বা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ কুলিয়ে উঠতে পারছে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, এক মাস আগে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫-৪০ টাকা, যা গতকাল রোববার বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকায়; অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৭৩ শতাংশ। এক মাস আগে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৪৫-৫০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়। এ ক্ষেত্রে এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ।

জানা গেছে, আর দেড় মাস পর নতুন পেঁয়াজ উঠবে বাজারে। নতুন পেঁয়াজ আসার আগ মুহূর্তে এ পণ্যটির দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণত মওসুম সামনে রেখে এই সময়টাতে দেশীয় মজুদকৃত পেঁয়াজ বাজারে ছাড়া হয়ে থাকে। এবার বাজারে দেশীয় ভালোমানের পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহ ভালো থাকার পরও দাম বাড়ছে হু হু করে। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে এ পণ্যটির মজুদকারী, আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট জড়িত।

You Might Also Like