রোহিঙ্গা নির্যাতন: মিয়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপ করবে আমেরিকা

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন এবং দমন পীড়নের সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কথা ভাবছে আমেরিকা।

সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সম্প্রতি যা ঘটেছে, বিশেষ করে রোহিঙ্গাসহ অন্য সম্প্রদায় যে সহিংস ও ভীতিকর দুর্দশার শিকার হয়েছে, তাতে আমরা গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছি। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘বেসরকারি গোষ্ঠী ও নজরদারি কমিটিসহ যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই নৃশংসতার জন্য দায়ী হলে তাদের নিশ্চিতভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’ বিবৃতিতে বলা হয়, গ্লোবাল ম্যাগনিৎস্কি আইনের আওতায় এ অবরোধ আরোপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
গ্লোবাল ম্যাগনিৎস্কি আইনের অধীনে বিশ্বের যেকোনো স্থানে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ও দুর্নীতি কারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লে সেসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারে না, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পদ তারা ভোগ করলে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলনমানরা যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসলেও গত বছর থেকে তারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কঠোর অবরোধের মুখে পড়েছে। সেখানে সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের যেতে দেয়া হচ্ছে না। তবে সেনাবাহিনী এবং উগ্র বৌদ্ধদের বর্বর হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতনের মুখে যারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা তাদের ওপর চালানো পাশবিক অত্যাচারের লোমহর্ষক বর্ননা দিয়েছেন।
গত আগস্ট মাসে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বর্বর অভিযান শুরু করলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এখনো রোহিঙ্গারা আসছে। জাতিসংঘের হিসাবমতে, এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি বিশ্বসম্প্রদায় আহ্বান জানালেও তাতে কান দেয়নি তারা। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ এই নির্যাতনকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ।

You Might Also Like