আমেরিকার সঙ্গে সুর মেলাবেন না: ইউরোপকে সতর্ক করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা ব্রাসেলসে এক বৈঠকে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, কোনো কোনো কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনের নেতারা অপারমাণবিক ইস্যুতে বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বিষয়ে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শুরু থেকেই পরমাণু সমঝোতার কাঠামোয় কিছু অস্পষ্ট ও দুর্বল দিক ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তিনি এ বিষয়গুলোকে আরো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথাবার্তা ও আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নও বেশ কিছু বিষয়ে আমেরিকা থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। বিশেষ করে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে আমেরিকা নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়ায় দূরত্বের পরিমাণ বেড়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বর্তমানে পরমাণু সমঝোকে কেন্দ্র করে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন পরমাণু সমঝোতার বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে এবং এ ক্ষেত্রে তারা এখন ইউরোপের সমর্থন চাচ্ছে। কিন্তু ইউরোপীয়রা পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে ফের আলোচনায় বসার বিরোধিতা করছে। পরমাণু সমঝোতার অন্যতম একটি পক্ষ হিসেবে ইউরোপ তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রাখার জন্য পরমাণু চুক্তির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে, তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে নিজেদের ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ অন্যসব বিষয়কে পরমাণু সমঝোতার সঙ্গে একীভূত করারও বিরোধিতা করেছে।

তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমেরিকার চাপ এবং অযৌক্তিক আবদারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রভাবিত হতে পারে। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্য সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো ইচ্ছা আমেরিকার নেই। সুইডেনের স্টকহোম পিস রিসার্স ইনস্টিটিউট এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ইরানের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় আমেরিকার হাত রয়েছে। এ অবস্থায় ইউরোপ পরমাণু সমঝোতার ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু ইউরোপ আমেরিকার সঙ্গে অর্থনৈতিক সংঘাতে জড়াবে কিনা তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে ফের আলোচনায় বসানোর এখতিয়ার ইউরোপেরও নেই। অর্থাৎ ইরানের ব্যাপারে তাদের দ্বিমুখী নীতি গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই এবং সেটা গ্রহণযোগ্যও হবে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে ইউরোপের একই সুরে কথা বলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নানা ঘটনাবলী ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এসবের কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ইউরোপের উচিত আমেরিকার পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন এবং অন্যায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীতে ইরানের উপস্থিতি ও দেশটির প্রতিরক্ষা শক্তির বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে সুর মেলানো থেকে বিরত থাকা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ইউরোপ যদি আমেরিকার বলদর্পী নীতির অনুগত হয়ে চলে তাহলে আমরা তা মেনে নেব না।

You Might Also Like