ট্রাম্পের হুমকি : ইরানের পাশে বিশ্বশক্তি

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিলে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেওয়ার পর এর বিরোধিতা করেছে বিশ্বশক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ট পশ্চিমা মিত্ররা জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যে পরমাণু চুক্তি হয়েছে, তা বহাল রাখবে তারা। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘চুক্তিটি আমাদের পারস্পরিক জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়েছে।’

শুক্রবার ট্রাম্প হুমকি দেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার নেবেন তিনি। এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেছেন, কোনো একক দেশ এ চুক্তি বাতিল করতে পারে না।

২০১৫ সালে চুক্তি সম্পন্নের চূড়ান্ত মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে বিশ্বশক্তির বৈঠকগুলোতে সভাপতিত্ব করেছিলেন মোগেরিনি। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘যে চুক্তি কাজ করছে, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এমন কোনো চুক্তি নস্যাৎ হতে দিতে পারি না।’

ট্রাম্পের হুমকির পর পশ্চিমা শক্তিগুলো চুক্তি মেনে চলার কথা জানানোয় ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ‘যেকোনো সময়ের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন বেশি একঘরে।’ তিনি বলেছেন, ‘একজন প্রেসিডেন্ট কি একটি বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল করতে পারেন?… স্পষ্টতই মনে হচ্ছে, এটি যে শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নয়, তা তিনি জানেন না।’

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তি পরমাণু চুক্তি করে। এতে মধ্যস্থতা করে ইইউ। চুক্তি অনুযায়ী, পরমাণু কার্যক্রম বন্ধ রাখবে ইরান এবং এর ফলে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। চুক্তির অংশীদার দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন ও জার্মানি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার অভিযোগ করেন, ইরান পরমাণু চুক্তির শর্ত মানছে না। ইরানকে ‘ধর্মান্ধ রাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাস ও সহিংসতা ছড়ানোর জন্য অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের ইসলামি রেভ্যুলিউশনারি গার্ডের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বিশ্ব সম্প্রদায়কে পাশ কাটিয়ে গায়ের জোরে ইরান চুক্তি বাতিল করতে উদ্ধত হয়েছেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, পরমাণু চুক্তির কোনো লঙ্ঘন করছে না ইরান। কিন্তু কারো কথায় কান দিচ্ছেন না ট্রাম্প।

ট্রাম্পের হুংকারের পর এখনো পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া জানায়নি চীন। তবে এর আগে তারা বলেছিল, চুক্তিতে থাকা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে মর্মাহত কিন্তু চুক্তিটি বাতিল হোক, তা তারা চায় না।

পরমাণু চুক্তি হওয়ার পর ২০১৬ সালে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যরা। ইরানের সঙ্গে দ্রুত অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ হতে থাকে তাদের। ইরানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। তাদের সঙ্গে তেল ও জ্বালানি চুক্তি করেছে অন্যরা।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন

You Might Also Like