ট্রাম্প কি তাহলে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কোনো অজুহাতে কিংবা কৌশলে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা নষ্ট করার পায়তারা করছেন। তিনি আবারো দাবি করেছেন, ইরান পরমাণু সমঝোতার চেতনা অনুযায়ী কাজ করছে না। হোয়াইট হাউজে সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতাকে তিনি স্বীকৃতি দেবেন কিনা তা খুব শিগগিরি ঘোষণা করা হবে। তিনি দাবি করেন, তার ভাষায় “ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়ার কোনো সুযোগই দেয়া হবে না।” তিনি মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে এরপর দাবি করেছেন, “ইরান সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সহিংসতা, হত্যা, নৈরাজ্য ও অশান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ কারণেই দেশটির পরমাণু উচ্চাভিলাষ থামিয়ে দেয়া জরুরি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান বিদ্বেষ থেকে বোঝা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী দেশ হিসেবে ইসলামি ইরানের অস্তিত্বকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না আমেরিকা ও তার দোসর ইহুদিবাদী ইসরাইল। তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন গতকাল(বৃহস্পতিবার) সেনা অফিসারদের সমাবেশেও একই বক্তব্য দেয়া থেকে বোঝা যায় ইরানকে ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছেন।
জাতিসংঘে দেয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ট্রাম্পের এ বক্তব্য শক্তির দাপট নয় বরং ক্ষুব্ধ ও হতাশার ফল। কারণ আমেরিকা গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে যত ষড়যন্ত্র এঁটেছে ইরানের শক্তিশালী উপস্থিতির কারণে তাদের সব পরিকল্পনাই ভেস্তে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যে বিষেদাগার করেছেন তা পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্ব প্রস্তুতি বলে মনে করা হচ্ছে।

সারা বিশ্বের মানুষ ভালো করেই জানে ইরান সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য আমেরিকা ও ইসরাইলের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান বিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কথাবার্তায় অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য ইসরাইল ও আমেরিকা যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে তাতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

অনেকের মতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেভাবে পরমাণু ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন যাতে বোঝা যায়, কংগ্রেসে তিনি যে প্রতিবেদন পেশ করতে যাচ্ছেন তাতে ‘ইরান পরমাণু সমঝোতা মানছে না’ বলেই তিনি রিপোর্ট দেবেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রতিবেদনে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করবেন এবং এতে করে পরমাণু চুক্তি বানচাল হয়ে যেতে পারে।” দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতাকে প্রত্যাখ্যান করবেন। প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার পর কংগ্রেস পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নিতে পারবে।
তবে ট্রাম্পের পরমাণু সমঝোতা বিরোধী বক্তব্য সেদেশের অভ্যন্তরেও সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেছেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা টিকে থাকলে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের জন্যই তা লাভজনক হবে।

যাইহোক, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে পরমাণু সমঝোতার কিছু নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন যাতে ইরানের ওপর আরো চাপ বাড়ানো যায়। কিন্তু চুক্তিতে সইকারী অপর দেশগুলো ট্রাম্পের এ প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে।

You Might Also Like