বাংলাদেশ সব সমস্যা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী

আগামীকাল (শনিবার) দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে প্রায় তিন সপ্তাহের সফর শেষে শনিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশের পথে লন্ডনের উদ্দেশ্যে সোমবার ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন। লন্ডনে তিনদিন অবস্থান শেষে শনিবার দেশে ফিরছেন।

সফরকালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দেয়া ভাষণে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। তার এসব প্রস্তাবের প্রশংসা করেন বিশ্ব নেতারা। রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোয় বিদেশি একটি গণমাধ্যম তাকে মাদার অব হিউম্যানিটি আখ্যা দেয়। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগ।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ কখনো কোন সমস্যা দেখে ভয় পায় না এবং মিয়ানমার থেকে নির্মমভাবে তাড়িয়ে দেয়া লাখ লাখ লোক বাংলাদেশে চলে আসা সত্ত্বেও এ দেশ এগিয়ে যাবে।

লন্ডনের একটি হোটেলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আজ (শুক্রবার) এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন। সেখানে তার হোটেল কক্ষে মতবিনিময় করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা বাঙালি জাতি যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি। ফলে কোন সমস্যা দেখা দিলে আমরা কখনো ভয় পাই না। আমরা বরং এই সমস্যা মোকাবেলা করার মাধ্যমে আরও এগিয়ে যেতে চাই।

মিয়ানমারের একজন সিনিয়র প্রতিনিধির সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আলোচনা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সব সময় মানবতায় বিশ্বাস করে। মানবিক দিক বিবেচনা করে মিয়ানমার ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হওয়া এসব লোকজনকে আশ্রয় দিতে আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। মানুষ মানুষের জন্য। ফলে আমরা তাদেরকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিতে পারি না। ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে, চরম দুঃসময়ে পালিয়ে আসা পাঁচ থেকে সাত লাখ রোহিঙ্গাকেও খাওয়াতে পারবো। যথাযথ সেবা নিশ্চিতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা দুর্ভাগা রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে স্থানান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনপ্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছা সেবকরা রোহিঙ্গাদের ভোগান্তি দূর করতে কঠোর পরিশ্রম করছে। কোন বৈদেশিক সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে সাধ্য অনুযায়ী তাদের থাকা, খাওয়া ও ওষুধের ব্যবস্থা করেছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের জনগণের এ ধরনের বদান্যতা দেখে বিস্মিত হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর, বিদেশে শরণার্থী জীবনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি ও আমার বোন ছয় বছর ধরে এ ধরনের জীবনযাপন করায় শরণার্থী জীবনের ব্যাপারে আমরা ভালো জানি।

You Might Also Like