‘আমি নিশ্চিত প্রধান বিচারপতি তাঁর বাসভবনে আছেন’

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটিতে যাওয়া বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) তাঁর বাসায় আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সিনিয়র আইনজীবীদের আদালতে দৃষ্টি আকর্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি একথা জানান। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক তিন সভাপতি ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এ জে মোহাম্মদ আলী এবং সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

সকালে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞার নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এজলাসে বসার পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এস কে সিনহার অবস্থা জানতে চেয়ে লিখিত আবেদন পাঠ করে শোনান। লিখিত আবেদনে তিনি বলেন, গত ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বাসভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তাদের যেতে দেওয়া হয়নি।
জবাবে আদালত বলেন, ‘আমরা আইনে আবদ্ধ। আপনারা যে আবেদন করেছেন, সেটি সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদের মধ্যে পড়ে কি-না? পড়লে আমরা যেতে পারি।’

জয়নুল আবেদীন এ সময় বলেন, “সেটা পড়ে। আমরা একটা আবেদন নিয়ে আসছি, সেটা আগে পড়ি।”

বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা এ সময় বলেন, “আমি কিন্তু প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছি। আমি নিশ্চিত উনি তাঁর (বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) বাসভবনে আছেন। তিনি কার সঙ্গে দেখা করবেন বা করবেন না, এটি কি আমাদের কাজ? আমরা কি নির্দেশনা দিতে পারি?”

এর পর ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- তিনি (প্রধান বিচারপতি) অসুস্থ।

তখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ঠিক আছে আপনার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। আপনারা আমার চেম্বারে আসেন না। এটি তো প্রকাশ্য আদালতের বিষয় না। আপনারা আমার চেম্বারে আসতে পারতেন।

এ সময় সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব হোসেন আদালতকে বলেন, আপনারা (আদালত) একজন রেজিস্টার পাঠিয়ে বিষয়টি জানতে পারতেন।

তখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা বিষয়টি দেখব। আপনারা উদ্বেগ জানিয়েছেন, আমরা (আদালত) শুনলাম।
পরে সাংবাদিকদের জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বুধবারের (০৪ অক্টোবর) সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা সংবিধানের অভিভাবক সর্বোচ্চ আদালতের কাছে গিয়েছিলাম। সেখানে আমরা বলেছি, প্রধান বিচারপতি অসুস্থ হলেও আমরা তাকে দেখতে চাই, কথা বলতে চাই। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের এ অধিকার আছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদেরকে যেতে দিচ্ছে না। আপনারা সংবিধানের অভিভাবক। আপনাদের কাছ থেকে একটা প্রোপার সিস্টেম চাই।’

‘আদালত আপনাদেরকে কি বলেছেন?’- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আদালত আমাদের কথা শুনেছেন এবং বলেছেন, আপনাদের বিষয়টি আমরা চিন্তা-ভাবনা করে দেখছি। আপনারা এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চেম্বারে আসুন।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা অবশ্যই দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করব। তবে কখন দেখা করব, সেটি সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেব।’

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে থাকা প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নানাবিধ শারীরিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে গত মঙ্গলবার থেকে এক মাসের ছুটিতে গেছেন। এর পর সোমবার রাতেই বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচাপতি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের রায়ের জের ধরে ‘আক্রোশমূলকভাবে’ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

তবে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এই ছুটির সঙ্গে রায়ের কোনো সম্পর্ক নেই, চাপেরও কোনো বিষয় নেই।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাওয়া বিচারপতি সিনহার চাকরির মেয়াদ রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

You Might Also Like