উত্তরায় গৃহবধূ হত্যা মামলায় দারোয়ানের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর উত্তরায় গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম হত্যা মামলায় বাসার দারোয়ান গোলাম নবী ওরফে রবির মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তার লাবণ্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল- ৩ এর বিচারক সাঈদ আহমেদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি গোলাম নবীকে দশ হাজার টাকা জারিমানা করা হয়েছে। আর লাবণ্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গৃহবধু মনোয়ারা বেগম তার স্বামী ডা: মোহাম্মদ ইউসুফ মারা যাওয়ার পর রাজধানীর উত্তরার ৯ নং সেক্টরে বাসার দোতলায় একা বসবাস করে আসছিলেন। তার তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মোহাম্মদ ইকবাল ইউসুফ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী, মেজো ছেলে লে: কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ বিন ইউসুফ সেনাবাহিনীতে কর্মরত আর ছোট ছেলে মোহাম্মদ আরমান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। মনোয়ারা বেগম তার বাড়ীর নীচতলা, তৃতীয় তলা ও চতুর্থ তলা ভাড়া দেন। তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া আসামি লাইলী আক্তার লাবণ্য বাইরে থেকে মেয়েদের এনে দেহ ব্যবসা শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মনোয়ারা বেগম তাকে বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যথায় তাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেবেন বলে জানিয়ে দেন। এ কারণে লাবণ্য ক্ষিপ্ত হয় এবং বাড়ির দারোয়ান গোলাম নবীকে সাথে নিয়ে মনোয়ারা বেগমকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

পূর্ব পরিকল্পনা মতে ২০১৬ সালের ৪ জুন মাগরিবের নামাজের পর তারা কৌশলে মনোয়ারা বেগমের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। মনোয়ারা বেগমের মুখ চেপে ধরা হয় এবং গোলাম নবী ছুরি দিয়ে মনোয়ারা বেগমের গলায় পোচ দিয়ে গলা কেটে খুন করে। এরপর তারা আলমারি ভেঙে এক লক্ষ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

ওই ঘটনায় লে: কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ বিন ইউসুফ বাদী হয়ে উত্তরা-পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্ত করে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ওই বছরের ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ২১ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচারকাজ চলাকালে ২২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। আসামি গোলাম নবী হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি মো: মাহবুবুর রহমান। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল, আবদুর রউফ ও মেহেদী হাসান। আর আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন ও মিঠু।

You Might Also Like