যার বন্দুকে ‘মৃত্যুর রাত’ লাস ভেগাসে

বিনোদন ও প্রমোদনগর লাস ভেগাসে যার বন্দুকে এল ‘মৃত্যুর রাত’, সেই নৃশংস ব্যক্তি সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য।

একাই গুলি করে ৫৯ জনকে হত্যা করেছেন তিনি। তার বন্দুকেই আহত হয়েছেন ৫২৮ জন। আহতদের মধ্যে আরো অনেকে মারা যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্বর এই হত্যাকারীর পরিচয় খুব বেশি জানা ছিল না যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের। গণমাধ্যম ও তদন্তকারীদের মাধ্যমে অনেক অজানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে পৈশাচিক এই নরঘাতক সম্পর্কে। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানা যায় তার নাম স্টিফেন প্যাডক।

পেশাজীবনে তিনি ছিলেন উঁচুদরের হিসাবরক্ষক। তবে সাদামাটা জীবনের আড়ালে তিনি নাকি জুয়াড়ি ছিলেন। শান্ত স্বভাবের হলেও দুই স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় তার। অবসর জীবনে বান্ধবীর সঙ্গে এক বাসায় থাকতেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা রাজ্যের জাঁকজমকের নগর লাস ভেগাস। নৈশক্লাব ও ক্যাসিনোর জন্য বিখ্যাত এই প্রমোদনগর। এর পাশে মেসকুইটে থাকতেন প্যাডক। পাইলট ও শিকারি হিসেবে লাইসেন্স ছিল তার। তবে কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই।

প্যাডকের এক প্রতিবেশীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সহজ-সরল হলেও তিনি ছিলেন পেশাদার জুয়াড়ি এবং অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ। কী সেই অদ্ভুততা, তা এখনো পরিষ্কার হওয়া যায়নি।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা। ২০১৬ সালের জুন মাসে ফ্লোরিডা রাজ্যের অরল্যান্ডোয় নৈশক্লাবে বন্দুক হামলায় ৪৯ জন নিহত হন, রোববারের হামলায় যেখানে ৫৯ জন নিহত ও ৫২৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মান্দালয় বে হোটেলের ৩২ তলা থেকে কনসার্টে হামলার সময় পুলিশ তার কাছাকাছি পৌঁছালে প্যাডক তার বন্দুক নিজের ওপর তাক করেন এবং গুলি ছুঁড়ে সেখানেই নিহত হন।

লাস ভেগাসের শেরিফ জোসেফ ল্যামবার্ডো সাংবাদিকদের বলেছেন, গত বৃহস্পতিবার মান্দালয় বে হোটেলে ওঠেন প্যাডক। হোটেলের ৩২ তলায় একটি কক্ষ ভাড়া নেন। সেখান থেকে ১৬টি বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরপর পুলিশ তার মেসকুইটের বাড়ি তল্লাশি করে ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। তার গাড়ি ও বাসার অন্য স্থানে বিস্ফোরকও পাওয়া যায়। সেখান থেকে কিছু ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসও পাওয়া গেছে।

অস্ত্র বিক্রয়ের প্রতিষ্ঠান নিউ ফ্রন্টিয়ার আর্মরির ডেভিড ফামিগিলিয়েট্টি বলেছেন, নর্থ লাস ভেগাসে তাদের কাছ থেকে জুন-জুলাই মাসে আগ্নেয়াস্ত্র কেনেন প্যাডক। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের সব শর্ত পূরণ করে এবং এফবিআইয়ের ছাড়পত্র দেখিয়ে তিনি অস্ত্র নিয়েছিলেন। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, যেসব শটগান ও রাইফেল প্যাডক কিনেছিলেন, তা দিয়ে এত বড় হামলা চালানো সম্ভব নয়- যেমনটি আমরা শুনছি বা ভিডিওতে দেখছি।

প্যাডকের কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকলেও তার বাবার ছিল। তার ভাই এরিক প্যাডক জানিয়েছেন, তাদের বাবা প্যাট্রিক বেঞ্জামিন প্যাডক ছিলেন ব্যাংক ডাকাত। তিনি এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন। একবার জেল থেকে পালিয়েছিলেন তাদের বাবা। আইনপ্রয়োগকারী বিভাগের ১৯৬৯ সালের এক রেকর্ড থেকে দেখা যাচ্ছে, বেঞ্জামিন প্যাডক ছিলেন মানসিক বিকারগ্রস্ত।

তবে এরিক প্যাডক বলেছেন, তার ভাই-ই লাস ভেগাসের ঘটনা ঘটিয়েছেন- এমন খবরে তাদের পরিবার হতবাক হয়েছে। তার দাবি, ‘তার এ কাজ করার কোনো যুক্তি বা কারণ নেই।’

এদিকে, এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, সম্প্রতি জুয়াসংক্রান্ত বেশ কিছু লেনদেন করেছেন স্টিফেন প্যাডক। তবে এগুলো হার না জিতের লেনদেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্যাডকের আরেক ভাই ব্রুস প্যাডক জানিয়েছেন, তার ভাই ছিলেন সম্পত্তি খাতে মাল্টি-মিলিয়নার বিনিয়োগকারী।

পুলিশ জানিয়েছে, প্যাডক একবার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করেছিলেন। এ ছাড়া আইন ভঙ্গের দিক থেকে তার আর কোনো রেকর্ড নেই।

নেভাদার রেনো থেকে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে মেসকুইটের অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের আবাসিক এলাকা বাবলিং ব্রুক কোর্টে নিজের দ্বিতল বাড়িতে আসেন প্যাডক। সেখানে ৬২ বছর বয়সি বান্ধবী ম্যারিলো ড্যানলির সঙ্গে থাকতেন তিনি।

ড্যানলির খোঁজ দিতে জনগণের সাহায্য চেয়ে বার্তা দেয় পুলিশ। কিন্তু জানা গেছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। শেরিফ ল্যামবার্ডোর তথ্যানুযায়ী, তিনি জাপানে আছেন। হামলার সঙ্গে তার যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে পুলিশ। তা ছাড়া মান্দালয় হোটেলে ওঠার সময় প্যাডকের সঙ্গে ছিলেন না ড্যানলি।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ছোট বিমান চালানোর লাইসেন্স ছিল প্যাডকের এবং তার নিজের দুটি বিমান ছিল। প্যাডকের সাবেক প্রতিবেশী ডিয়ানে ম্যাককে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, ‘তিনি ও তার বন্ধবী ঘরেই আবদ্ধ সময় কাটাতেন। তিনি ছিলেন অদ্ভুত লোক। সব সময় নিজেকে নিয়ে থাকতেন। তিনি এমনভাবে বসবাস করতেন, যেন আশপাশে কেউ নেই।’

সেই অদ্ভুত লোকটি শেষ জীবনে কালরাত্রির জন্ম দিলেন লাস ভেগাসে।বিনোদন ও প্রমোদনগর লাস ভেগাসে যার বন্দুকে এল ‘মৃত্যুর রাত’, সেই নৃশংস ব্যক্তি সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য।

একাই গুলি করে ৫৯ জনকে হত্যা করেছেন তিনি। তার বন্দুকেই আহত হয়েছেন ৫২৮ জন। আহতদের মধ্যে আরো অনেকে মারা যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্বর এই হত্যাকারীর পরিচয় খুব বেশি জানা ছিল না যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের। গণমাধ্যম ও তদন্তকারীদের মাধ্যমে অনেক অজানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে পৈশাচিক এই নরঘাতক সম্পর্কে। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানা যায় তার নাম স্টিফেন প্যাডক।

পেশাজীবনে তিনি ছিলেন উঁচুদরের হিসাবরক্ষক। তবে সাদামাটা জীবনের আড়ালে তিনি নাকি জুয়াড়ি ছিলেন। শান্ত স্বভাবের হলেও দুই স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় তার। অবসর জীবনে বান্ধবীর সঙ্গে এক বাসায় থাকতেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা রাজ্যের জাঁকজমকের নগর লাস ভেগাস। নৈশক্লাব ও ক্যাসিনোর জন্য বিখ্যাত এই প্রমোদনগর। এর পাশে মেসকুইটে থাকতেন প্যাডক। পাইলট ও শিকারি হিসেবে লাইসেন্স ছিল তার। তবে কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই।

প্যাডকের এক প্রতিবেশীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সহজ-সরল হলেও তিনি ছিলেন পেশাদার জুয়াড়ি এবং অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ। কী সেই অদ্ভুততা, তা এখনো পরিষ্কার হওয়া যায়নি।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা। ২০১৬ সালের জুন মাসে ফ্লোরিডা রাজ্যের অরল্যান্ডোয় নৈশক্লাবে বন্দুক হামলায় ৪৯ জন নিহত হন, রোববারের হামলায় যেখানে ৫৯ জন নিহত ও ৫২৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মান্দালয় বে হোটেলের ৩২ তলা থেকে কনসার্টে হামলার সময় পুলিশ তার কাছাকাছি পৌঁছালে প্যাডক তার বন্দুক নিজের ওপর তাক করেন এবং গুলি ছুঁড়ে সেখানেই নিহত হন।

লাস ভেগাসের শেরিফ জোসেফ ল্যামবার্ডো সাংবাদিকদের বলেছেন, গত বৃহস্পতিবার মান্দালয় বে হোটেলে ওঠেন প্যাডক। হোটেলের ৩২ তলায় একটি কক্ষ ভাড়া নেন। সেখান থেকে ১৬টি বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরপর পুলিশ তার মেসকুইটের বাড়ি তল্লাশি করে ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। তার গাড়ি ও বাসার অন্য স্থানে বিস্ফোরকও পাওয়া যায়। সেখান থেকে কিছু ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসও পাওয়া গেছে।

অস্ত্র বিক্রয়ের প্রতিষ্ঠান নিউ ফ্রন্টিয়ার আর্মরির ডেভিড ফামিগিলিয়েট্টি বলেছেন, নর্থ লাস ভেগাসে তাদের কাছ থেকে জুন-জুলাই মাসে আগ্নেয়াস্ত্র কেনেন প্যাডক। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের সব শর্ত পূরণ করে এবং এফবিআইয়ের ছাড়পত্র দেখিয়ে তিনি অস্ত্র নিয়েছিলেন। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, যেসব শটগান ও রাইফেল প্যাডক কিনেছিলেন, তা দিয়ে এত বড় হামলা চালানো সম্ভব নয়- যেমনটি আমরা শুনছি বা ভিডিওতে দেখছি।

প্যাডকের কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকলেও তার বাবার ছিল। তার ভাই এরিক প্যাডক জানিয়েছেন, তাদের বাবা প্যাট্রিক বেঞ্জামিন প্যাডক ছিলেন ব্যাংক ডাকাত। তিনি এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন। একবার জেল থেকে পালিয়েছিলেন তাদের বাবা। আইনপ্রয়োগকারী বিভাগের ১৯৬৯ সালের এক রেকর্ড থেকে দেখা যাচ্ছে, বেঞ্জামিন প্যাডক ছিলেন মানসিক বিকারগ্রস্ত।

তবে এরিক প্যাডক বলেছেন, তার ভাই-ই লাস ভেগাসের ঘটনা ঘটিয়েছেন- এমন খবরে তাদের পরিবার হতবাক হয়েছে। তার দাবি, ‘তার এ কাজ করার কোনো যুক্তি বা কারণ নেই।’

এদিকে, এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, সম্প্রতি জুয়াসংক্রান্ত বেশ কিছু লেনদেন করেছেন স্টিফেন প্যাডক। তবে এগুলো হার না জিতের লেনদেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্যাডকের আরেক ভাই ব্রুস প্যাডক জানিয়েছেন, তার ভাই ছিলেন সম্পত্তি খাতে মাল্টি-মিলিয়নার বিনিয়োগকারী।

পুলিশ জানিয়েছে, প্যাডক একবার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করেছিলেন। এ ছাড়া আইন ভঙ্গের দিক থেকে তার আর কোনো রেকর্ড নেই।

নেভাদার রেনো থেকে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে মেসকুইটের অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের আবাসিক এলাকা বাবলিং ব্রুক কোর্টে নিজের দ্বিতল বাড়িতে আসেন প্যাডক। সেখানে ৬২ বছর বয়সি বান্ধবী ম্যারিলো ড্যানলির সঙ্গে থাকতেন তিনি।

ড্যানলির খোঁজ দিতে জনগণের সাহায্য চেয়ে বার্তা দেয় পুলিশ। কিন্তু জানা গেছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। শেরিফ ল্যামবার্ডোর তথ্যানুযায়ী, তিনি জাপানে আছেন। হামলার সঙ্গে তার যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে পুলিশ। তা ছাড়া মান্দালয় হোটেলে ওঠার সময় প্যাডকের সঙ্গে ছিলেন না ড্যানলি।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ছোট বিমান চালানোর লাইসেন্স ছিল প্যাডকের এবং তার নিজের দুটি বিমান ছিল। প্যাডকের সাবেক প্রতিবেশী ডিয়ানে ম্যাককে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, ‘তিনি ও তার বন্ধবী ঘরেই আবদ্ধ সময় কাটাতেন। তিনি ছিলেন অদ্ভুত লোক। সব সময় নিজেকে নিয়ে থাকতেন। তিনি এমনভাবে বসবাস করতেন, যেন আশপাশে কেউ নেই।’

সেই অদ্ভুত লোকটি শেষ জীবনে কালরাত্রির জন্ম দিলেন লাস ভেগাসে।

You Might Also Like