বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা নির্ধারণ মামলার রায় সোমবার

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ মামলার রায় হতে যাচ্ছে আগামী সোমবার।  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত (পিসিএ) এ মামলার রায় দেবেন। তবে এ রায় জানতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। কারণ, রায় ঘোষণার পরে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এটি প্রকাশে সালিশি আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

গত ২ জুলাই এ মামলার রায় হওয়ার কথা শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তে তারিখ পরিবর্তন হয়। এ রায়ের ফলে সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই শেষ হয়ে আসছে। এতে মহীসোপানে নিজস্ব এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন ঘোষণার সুযোগ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা মামলার শুনানি শেষ হয়। শুনানির ছয় মাসের মধ্যে রায় ঘোষণার কথা জানান স্থায়ী সালিশি আদালত। অমীমাংসিত সমুদ্রসীমা নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে মামলা চলার পর রায় পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দুই দেশের জলসীমা শুরু হবে কোথা থেকে, সেটাই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধের মূল বিষয়। এছাড়া ভূমিরেখার মূল বিন্দু থেকে সমুদ্রে রেখা টানার পদ্ধতি নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। সালিশি আদালত দু’দেশের উপস্থাপিত যুক্তিতর্ক এবং মেমোরিয়াল ও কাউন্টার মেমোরিয়াল বিবেচনা করে রায় প্রকাশ করবেন।

সদ্য ঢাকা সফর করে যাওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দীন ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, সমুদ্রসীমা বিষয়ে দু’দেশের লড়াই আইনি প্রক্রিয়ায় চলছে। শিগগিরই রায় ঘোষণা হতে পারে। রায় যাই হোক না কেন আমরা তা মেনে নেব। দু’দেশের বন্ধুত্বে এ রায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দু’দেশের সমুদ্রসীমার বিষয়ে ভারতের যুক্তি হলো সমদূরত্বের (ইকুইডিসট্যান্স) ভিত্তিতে রেখা টানতে হবে। বাংলাদেশ এর বিরোধিতা করে ইকুইটি বা ন্যায্যতার ভিত্তিতে রেখা টানার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় রেখা অবতল আকৃতির হওয়ায় বাংলাদেশ ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিষয়টি নির্ধারণে যুক্তি উপস্থাপন করে।

বাংলাদেশের যুক্তি অনুযায়ী ভূমির মূল বিন্দু থেকে সমুদ্রের দিকে ১৮০ ডিগ্রির সোজা রেখা যাবে। তবে ভারতের যুক্তি সমুদ্রতট বিবেচনায় এ রেখা হবে ১৬২ ডিগ্রি। ডিসেম্বরে মৌখিক শুনানির আগে দু’দেশই নিজ নিজে পক্ষে লিখিত যুক্তি ও তথ্য-উপাত্ত আদালতে জমা দেওয়া হয়।

You Might Also Like