মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হবে : মুহিত

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে মিয়ানমার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

রোববার গাজীপুরের টঙ্গীতে অ্যাননটেক্স কারখানায় স্বাস্থ্য ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, অ্যাননটেক্স কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাদল ইউনুছসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হবে।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে মিয়ানমার এ দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী এ দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে দোলা দিয়েছে। তবে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এর আগেও একইভাবে মিয়ানমার ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নির্যাতন করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছিল, এ কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। এবার আরো বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গাকে ঠেলে পাঠিয়েছে। যেভাবে তাদের নিজ দেশের জনগণের ওপর অত্যাচার করেছে তাতে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছি। আমাদে বিপুল সংখ্যক মানুষ সেদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচারে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। আমরা জানি, নিজের অধিকার আদায করতে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে দেশটির সেনাবাহিনীর তথাকথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নিহত হয়েছে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা।

জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এ সংকট নিরসনে জাতিসংঘ ও ক্ষমতাধর দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়নোর আহ্বান জানান। এরপর থেকে মিয়ানমানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।

You Might Also Like