শেখ হাসিনাকে ‘হত্যার ষড়যন্ত্র’: দুই মন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২৪ আগস্ট হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী।

আজ (রোববার) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। এই সংক্রান্ত খবর ভূয়া। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।”

তবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আজ (সকালে) বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

২৩ সেপ্টেম্বর নিউজ ১৮ এ সুবীর ভৌমিক ও মনোজ গুপ্তের করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সাত সদস্য তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ওই প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়, জঙ্গি সংগঠন জামায়াত-উল-মুজাহিদিন-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।

প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত অপর এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ইন্দিরা গান্ধীকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে ঠিক সেভাবেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয় শেখ হাসিনাকে। জঙ্গিদের সমর্থনে কিছু বিশ্বাসঘাতক দেহরক্ষী এ কাজটি করতে চেয়েছিলেন। জেএমবি’র জঙ্গি ও দেহরক্ষীদের মধ্যকার ওই যোগাযোগের বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এরফলে ওই হত্যার পরিকল্পনাকে ভণ্ডুল করে দিতে সক্ষম হন তারা।
ঘটনাটি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রীকে তার অফিসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িতদের আটক করা হয় বলে জানানো হয়েছে ওই সংবাদে। এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, খুব বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা প্রতিহত করা হয়। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত সকলকেই আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা চেষ্টার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক সন্দেহভাজনদের এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে নিশ্চিত করেছে।

তবে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলে কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা এ ঘটনাকে বাংলাদেশের ইস্যু বলে উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

এর আগে গত বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনে যোগ দিতে হাঙ্গেরী যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের জরুরী অবতরণের ঘটনাকে হত্যাচেষ্টার অংশ হিসেবে গণ্য করেছিল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২৮ ডিসেম্বর বলেছিলেন, “বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবারকে ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু চক্রান্ত এখনও শেষ হয়নি। চক্রান্ত এখনও চলছে। শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে যে ঘটনা ঘটলো সেটাকে হালকাভাবে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। এর আগে শেখ হাসিনাকে আক্রমণের জন্য ১৯ বার চেষ্টা হয়েছে। বিমানের ঘটনা নিয়ে তা ২০ বার হলো।”

You Might Also Like