অবশেষে দেখা দিলেন ‘পদ্মাবতী’

চিতোরের রানি পদ্মাবতীর রূপের ছিল ভীষণ সুখ্যাতি। রানির অপরূপ রূপের কথা শুনেই তাঁকে দেখতে দিল্লি থেকে চলে এসেছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি। রাজপুতদের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি রাজস্থানের মেবারের উদ্দেশে সেনাদল নিয়ে ১৩০০ সালের শুরুর দিকে রওনা হয়েছিলেন দিল্লির সুলতান খিলজি। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন, দুর্গটি এতই সুরক্ষিত যে সেখানে হামলা করা খুব একটা সহজ হবে না। অবস্থা বুঝে সুলতান পদ্মাবতীর স্বামী রানা রাওয়াল রতন সিংকে তাঁর দুর্গে ডেকে পাঠালেন। আরজি জানালেন, তাঁর অপূর্ব সুন্দরী স্ত্রীকে একটিবারের জন্য দেখতে চান।

খিলজির হাত থেকে বাঁচতে রতন সিং সেই আবদার পূরণে রাজি হলেন। স্ত্রীর কাছে গিয়ে জানালেন আলাউদ্দিন খিলজির ইচ্ছার কথা। কিন্তু রানি পদ্মাবতী তো শুধু সুন্দরীই ছিলেন না, ছিলেন বুদ্ধিমতীও । তাই তিনি স্বামীকে বললেন, দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজিকে তিনি নিশ্চয়ই দেখা দেবেন। তবে সরাসরি নয়। তাঁকে সুলতানের দেখতে হবে আয়নার প্রতিবিম্বের মাধ্যমে।

রানির প্রস্তাবে খিলজি রাজি হলেন। আয়নায় রানির রূপের এক ঝলক দেখেই তাঁর প্রেমে পাগল হয়ে যান সুলতান। পদ্মাবতীকে তাঁর যেকোনো মূল্যে চাই-ই চাই।

ঐতিহাসিক এই কাহিনির ওপরই নির্মিত হচ্ছে সঞ্জয় লীলা বানসালির ছবি ‘পদ্মাবতী’। বাস্তবে পদ্মাবতীর রূপ দেখার জন্য যেমন মরিয়া হয়ে ছিলেন সুলতান, তেমনি দর্শকও সিনেমায় পদ্মাবতীরূপে দীপিকা পাড়ুকোনকে দেখার জন্য অধীর হয়ে ছিলেন। অবশেষে রানি আজ বৃহস্পতিবার নবরাত্রির দিন দেখা দিলেন। আয়নার প্রতিবিম্বে নয়, পদ্মাবতীর লুকে দীপিকাকে দেখা গেল এই সিনেমার পোস্টারে।
দীপিকা পাড়ুকোন আগেই জানিয়েছিলেন, ‘পদ্মাবতী’ ছবির ‘ফার্স্ট লুক’ তিনি প্রকাশ করবেন সূর্যোদয়ের মতো। আর সেই ঘটনা হবে নবরাত্রি উৎসবের মতো বিশেষ কিছু। কথা অনুযায়ীই কাজ করেছেন এই শিল্পী। আজ শারদ নবরাত্রি উৎসবের প্রথম দিন ভোরের দিকে ‘পদ্মাবতী’ ছবির প্রথম পোস্টার টুইটারে প্রকাশ করেন এই তারকা। ছবির অন্য দুই শিল্পী শহীদ কাপুর ও রণবীর সিং তাঁদের টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্টারটি শেয়ার করেছেন।

আগামী ১ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে সঞ্জয় লীলা বানসালির এই ঐতিহাসিক ছবি। ছবির গল্প শুধু ঐতিহাসিক নয়, এটি নির্মাণে যে পরিমাণ ঝক্কি পরিচালককে পোহাতে হয়েছে, তা-ও বুঝি বলিউডে ইতিহাস হয়ে থাকবে। প্রথম দিকের শুটিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে এক কুশীলবের মৃত্যু দিয়ে ফাঁড়ার শুরু। এরপর রাজস্থানে শুটিংয়ের সময় সেট ভাঙচুর ও লাঞ্ছিত হওয়ার পর বাধ্য হয়ে শুটিং বন্ধ করতে হয় বানসালিকে।
তারপর বেশ কিছুদিন বিরতি দিয়ে মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক নগর কোলাপুরে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ‘পদ্মাবতী’র সেট নির্মাণ করা হয়। উগ্রবাদীরা সেখানেও হামলা চালায়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুরো সেট। রাজা রতন রাওয়াল সিংয়ের মতো অনেক নিরাপত্তা নিয়েও সুবিধা করতে পারছিলেন না ‘পদ্মাবতী’র পরিচালক। অবশেষে এই ছবি আলোর মুখ দেখতে পেলেই বানসালিকে বলা যাবে প্রকৃত বিজয়ী।

You Might Also Like