বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বাড়ি ভাড়া না দেয়ার নির্দেশ, পরিবহন না করার অনুরোধ

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাড়ি ভাড়া না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ ক্যাম্পে অবস্থানের নির্দেশ দেয়াসহ আরো কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

গতকাল (শনিবার) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্থান-খাওয়া এবং চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তারা নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্যাম্পেই অবস্থান করবেন। তারা ক্যাম্পের বাইরে তাদের আত্মীয়-স্বজন অথবা পরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতে অবস্থান-আশ্রয় গ্রহণ বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমনাগমন করতে পারবেন না। তাদেরকে নির্দিষ্ট ক্যাম্পের বাইরে কেউ যেন বাসা-বাড়ি ভাড়া না দেয়।”
বিজ্ঞপ্তিতে সব ধরনের পরিবহনের চালক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রোহিঙ্গাদের পরিবহন না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের কেউ আশ্রয় দিলে কিংবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ও অবস্থানের খবর জানলে তা স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধও করা হয়।

দমন-নিপীড়নের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়ার খবরের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের তরফে এ নির্দেশনা জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী এসেছে। এদের বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তথ্যও আছে আমাদের কাছে। নতুন শরণার্থীদের জন্য কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে আশ্রয়শিবির করেছে সরকার। সেখানে তাদের নিবন্ধনও করা হচ্ছে।’
তিনি আরো জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উখিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। মধ্যাঞ্চলের মানিকগঞ্জ এবং পূর্বাঞ্চলের সুনামগঞ্জেও রোহিঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জে ২৭টি চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ

এদিকে, রোহিঙ্গারা যাতে চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে যেতে না পারে, সে জন্য চট্টগ্রাম রেঞ্জে ২৭টি চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম, কক্সাবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় এসব চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের ইস্যু করে কেউ যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্য কোনোভাবে উসকানি ছড়াতে না পারে, সে জন্য রেঞ্জের পুলিশ সুপারদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে রেঞ্জের ১১ জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি কুসুম দেওয়ান, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনাসহ ১১ জেলার পুলিশ সুপার এবং চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত বক্তব্য দেন।

You Might Also Like