টিআইবিকে ধন্যবাদ দিতে চাই

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-কে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। ৩০ জুন টিআইবি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে। এতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্নীতি এবং ত্রিপক্ষীয় আঁতাতের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশ টিভি ওই রাতেই একটি টকশোর আয়োজন করেছিল, যেখানে মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আজাদ চৌধুরীর সঙ্গে আমিও আমন্ত্রিত অতিথি ছিলাম।

টিআইবির এই রিপোর্ট নিয়ে অধ্যাপক চৌধুরী মৃদু আপত্তি জানিয়েছেন। তার অবস্থান (ইউজিসির চেয়ারম্যান) থেকে এটা করা খুবই স্বাভাবিক। আমি এতে খুব অবাক হইনি। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নানা দুর্নীতি রোধে তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেননি, বাস্তবতা এটাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরপর দুই টার্মের ভিসি হিসেবে তিনি নিজেকে অত্যন্ত যোগ্য একজন উপাচার্য হিসেবে প্রমাণ করেছিলেন। কিন্তু কেন জানি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) তার সেই যোগ্যতা আজ প্রশ্নের মুখে। একটা জিনিস আমরা হয়তো ভুলে যাই- একজন দক্ষ চেয়ারম্যান যদি মঞ্জুরি কমিশনে না থাকেন, তাহলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না। পদসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, জনবলও বেড়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য, মঞ্জুরি কমিশনের সদস্যরা রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে রাজনৈতিক চাপের কাছেই আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেননি। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সখ্য ইত্যাদি নানা কারণে মঞ্জুরি কমিশনের কর্মকাণ্ড আজ অনেকটা স্থবির। ভাবতে খারাপ লাগে, এক সময় মঞ্জুরি কমিশনের আমিও সদস্য ছিলাম। তখন আমাদের কর্মকাণ্ড মিডিয়ায় প্রশংসিত হয়েছিল। আজ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে ইউজিসির সদস্যদের ভূমিকাকে খুব আলোচিত হতে দেখি না। এটা এখন অনেকটা কাগুজে প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
অধ্যাপক আজাদ চৌধুরী আমার প্রিয় মানুষদের একজন। আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। টকশোতে তিনি আইনের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন। মিথ্যা বলেননি তিনি। ইউজিসি শুধু সুপারিশ করতে পারে। কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা তাদের নেই। কিন্তু ইউজিসি কিছু করতে পারে না, এটা আমি বিশ্বাস করি না। টিআইবির গবেষণায় আছে সরাসরি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ। টিআইবি যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছে, তার মাঝে রয়েছে : ১. উচ্চশিক্ষাকে লাভজনক পণ্যে পরিণত করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, ২. স্বতন্ত্র ও স্বাধীন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল ৪ বছরেও গঠন না করা, ৩. শিক্ষার নামে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, ৪. মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক আইন ভঙ্গকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ ও সনদ বাতিল না করা, ৫. নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনে রাজনৈতিক প্রভাব, অনুমোদনে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেন, ৬. মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগসাজশে ইউজিসি কর্তৃক উত্থাপিত অভিযোগ অদৃশ্য উপায়ে মীমাংসা হওয়া, ৭. শাস্তি প্রদান না করে বারবার আলটিমেটাম দিয়ে দায়িত্ব সম্পন্ন করা, ৮. ইউজিসিকে না জানিয়ে সাধারণ তহবিলের টাকা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, ৯. শিক্ষকদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে প্রভাব বিস্তার, ১০. যোগ্যতা কম এবং বিষয় সম্পর্কে উচ্চতর কোনো ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো শিক্ষককে বিভাগীয় প্রধান করা, ১১. ট্রাস্টি বোর্ডের কোনো কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত ও আর্থিক সুবিধা লাভ, ১২. ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রি দেখিয়ে উপাচার্য পদ গ্রহণ এবং অবৈধভাবে অধ্যাপক পদবি ব্যবহার (দূতাবাসে চাকরি করা লোক এখন উপাচার্য এবং কোনোদিন যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেননি, তারাও এখন উপাচার্য!), ১৩. ১২ বছরে স্থায়ী সনদ গ্রহণ না করা, ১৪. ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া কোর্স কারিকুলাম পড়ানো, ১৫. শিক্ষার্থীদের কাছে বাধ্যতামূলক নোট বিক্রি করে অবৈধ অর্থ সম্পদ অর্জন, ১৬. অযোগ্য ও অদক্ষ লোকদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, ১৭. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের নাম ব্যবহার করে ছাত্রদের আকর্ষণ করা, ১৮. ক্লাস না করিয়ে, পরীক্ষা না নিয়ে, ব্যবহারিক পরীক্ষা ছাড়াই টাকার বিনিময়ে সনদ বিক্রি, ১৯. গবেষণায় কোনো অর্থ ব্যয় করা হয় না, ২০. প্রশ্ন বলে দেয়া, অতিরিক্ত নম্বর দেয়ার জন্য শিক্ষকদের বাধ্য করা, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উপঢৌকন নেয়া, যৌন হয়রানি, ২১. ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, আর্থিক লেনদেন ইত্যাদি। মোটা দাগে এসবই অভিযোগ। এসব অভিযোগের পেছনে সত্যতা যে নেই, তা বলা যাবে না।
এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে ঝুঁকছে। মানহীন এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী নিত্য জব মার্কেটে প্রবেশ করছে এবং তারা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাকে ব্যবহার করে সরকারি পদগুলো পেয়ে যাচ্ছে। তারা সমাজকে কী দেবে, সঙ্গত কারণেই সে প্রশ্ন উঠেছে। আমরা ধীরে ধীরে একটি সার্টিফিকেট সর্বস্ব জাতিতে পরিণত হতে যাচ্ছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় খুলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও সনদ বিতরণ কেন্দ্রে পরিণত করেছি। অথচ দেখার কেউ নেই।

টিআইবির এ রিপোর্ট তাই যুগোপযোগী। মাত্র ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে করা এই গবেষণা হয়তো পূর্ণাঙ্গ নয়। আমি অনুরোধ করব, টিআইবি বাকি ৫৭ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও দ্বিতীয় আরেকটি গবেষণা পরিচালনা করবে। আমি মনে করি, ইউজিসির উচিত হবে এ রিপোর্টটিকে বিবেচনায় নিয়ে কীভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন করা যায়, সে ব্যাপারে শিগগিরই একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া। ইউজিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে তিনজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নিয়ে। এই কমিটি কী রিপোর্ট দেবে জানি না। কিন্তু তাদের কেউ কেউ নিজেরাও অভিযুক্ত। রাজনৈতিক বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগও আছে। ফলে এই কমিটি লোক দেখানো কমিটি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ইউজিসি যে কাজগুলো এখন করতে পারে তা হচ্ছে : ১. বিতর্কিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যাপারে একটি শক্ত অবস্থান নেয়া। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে পরিবর্তনের সুপারিশ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা; ২. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শক্ত অবস্থানে যাওয়া। সমস্যাটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিয়েই। সর্ষের ভূত সেখানেই। আমার বিশ্বাস, ছাত্রতুল্য শিক্ষা সচিব মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের অবস্থানের বাইরে যেতে পারবেন না। শিক্ষকের দাবি নিয়ে তিনি এ কাজটি আদায় করে নিতে পারেন; ৩. জনমত সৃষ্টি করাও জরুরি। জাতিকে বারবার জানানো প্রয়োজন শিক্ষা নিয়ে কারা অনিয়ম করছে। তাদের বয়কট করাও প্রয়োজন।
একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যের কাছে এর চেয়ে বড় সমাধান আর কিছু হতে পারে না। তিনি এ বিষয়টি কতটুকু উপলব্ধি করেন, আমার সন্দেহ রয়েছে। মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান পদ কিংবা একজন প্রতিমন্ত্রীর সম্মান কখনও তার মর্যাদাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে না। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তিনি তার সীমাবদ্ধতার কথা আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু এ সীমাবদ্ধতা তাকে অভিযুক্তের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো থেকে মুক্তি দেবে না। শিক্ষা এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কিসিমের সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্স চালু হয়েছে। যারা কোনোদিন ঢাকা কিংবা জাহাঙ্গীরনগরে অনার্স পর্যায়ে ভর্তি হতে পারেননি যোগ্যতা না থাকার কারণে, তারা তখন টাকার বিনিময়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার মান কতটুকু বাড়ল, সে প্রশ্ন করাই যায়। এভাবে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স নয়, বরং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্বিতীয় শিফট অথবা দ্বিতীয় ক্যাম্পাস চালু করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে কিংবা প্রতি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে উচ্চশিক্ষার মান বাড়ানো যাবে না। মেধাহীনদের ডিগ্রি দিয়ে, ঘরে ঘরে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী জন্ম দিয়ে আমরা আর যাই করি না কেন, আমরা উচ্চশিক্ষার মান বাড়াতে পারব না। আমাদের নীতিনির্ধারকরা যতদিন এ বিষয়গুলো বুঝবেন, ততই আমাদের মঙ্গল।

সেদিনের টকশোতে ইউজিসির চেয়ারম্যান আমাকে বলেছিলেন, ঢালাওভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে মন্তব্য করা ঠিক নয়, যা টিআইবি করেছে বলে তিনি মনে করেন। এটা ঠিক, দুচারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান ধরে রেখেছে। এটা অস্বীকার করা যাবে না। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের নামিদামি ব্যক্তিদের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যিনি আজীবন সচিবালয়ে কাটিয়েছেন, কিংবা দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাংক থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, তিনি কী করে অধ্যাপক হয়ে যান? একই সঙ্গে আইনজীবী আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, এটা কীভাবে সম্ভব! ইউজিসিকে নিয়ে সমস্যাটা এখানেই। একটি অদৃশ্য সম্পর্ক ইউজিসির নেতাদের আদৌ কোনো মনিটরিং ব্যবস্থায় যেতে দিচ্ছে না। টিআইবি বলছে অবৈধ অর্থ লেনদেনের কথা। এক্ষেত্রে ইউজিসি তার দায়িত্বটি পালন করছে না। কোর্স চালু হলেও সেখানে শিক্ষক আছে কি-না, নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে কি-না, কারা সেখানে পড়াচ্ছে, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী- এসব ইউজিসি মনিটর করছে না। অথচ আইনে কোথাও বাধা নেই। উচ্চ আদালতে মামলা করে কিছু অবৈধ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। ইউজিসি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করে তাদের দায়িত্বটি পালন করেছে। কিন্তু রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য যে আলোচনা প্রয়োজন, তা তারা সিরিয়াসলি করেননি। অথবা করলেও তাতে দায়সারা গোছের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখানেই ইউজিসির সীমাবদ্ধতা।

আসলে মঞ্জুরি কমিশনে যারা আসেন, তারা অনেকটা চাকরি করতে আসেন। তাদের কোনো ভিশন নেই। নেই কোনো কমিটমেন্ট। তারা ভুলে যান জাতি তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। ইউজিসিতে আসা কোনো চাকরি হতে পারে না। প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি আছে। তারা যদি কিছু করতে না পারেন, তাহলে দায়িত্বটি না নেয়াই মঙ্গল। এ জাতির বড় দুর্ভাগ্য এখানেই যে, রাজনৈতিক বিবেচনায় যাদেরই এখানে নিয়োগ দেয়া হয় (সদস্য ও চেয়ারম্যান), তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা প্রশ্নের মুখে থাকে। বয়সের ভারে ক্লান্ত কেউ কেউ শেষ সময়টা এখানেই কাটিয়ে যান। ভুলে যান তাদের অনেক কিছুই করার আছে। আমি কাউকে খাটো করছি না। কিন্তু আস্থার জায়গাটা আমাদের নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিকদের একটা সংস্থা আছে। তাদের একমাত্র কাজ অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়ার জন্য তদবির করা। অন্য কোনো কাজ যেন তাদের নেই। কী করে এখানে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা যায়, কী করে দুর্নীতি নির্মূল করা যায়, কী করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো যায়- এসব দিকে তাদের দৃষ্টি নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক নেতৃত্ব নেই। এগুলো পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আমরা যারা শিক্ষা নিয়ে কাজ করি, তাদের সঠিক পথে চলার পরামর্শ দিলেও তা থাকছে উপেক্ষিত। ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কজন উপাচার্যকে এ জাতি জানে ও চেনে? কজনের সেই যোগ্যতা আছে? তদবির আর অর্থের জোরে উপাচার্য হওয়া ব্যক্তিদের কোনো ভিশন থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক।

আমরা এভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চলতে দিতে পারি না। অর্থ লেনদেনের বিষয়টি প্রয়োজনে দুদক তদন্ত করুক। টিআইবি যে ত্রিপক্ষীয় আঁতাতের কথা বলেছে, সে ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুগের চাহিদা মেটাচ্ছে। তাই বলে তারা এ জাতিকে একটি সার্টিফিকেট সর্বস্ব জাতিতে পরিণত করবে- আমরা তা হতে দিতে পারি না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তার দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন করছে না। সর্ষের মধ্যের ভূত না তাড়ালে আমরা মেধাশূন্য এক জাতিতে পরিণত হব। টিআইবির এই রিপোর্ট আমাদের জন্য একটি ওয়েক-আপ কল। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনই।
ড. তারেক শামসুর রেহমান : অধ্যাপক ও ইউজিসির সাবেক সদস্য

You Might Also Like