রাম রহিমের গোপন আশ্রমে যা যা আছে

ভারতের ধর্ষক ধর্মগুরু রাম রহিমের হরিয়ানার প্রধান আশ্রমে রয়েছে দৃষ্টিগ্রাহী নানা জিনিস। প্রকৃতপক্ষে সেখানে কী কী আছে, তার খোঁজ জানিয়েছে গণমাধ্যম।

স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক ‘রকস্টার গুরু’ গুরমিত সিং হারিয়ানা রাজ্যের সিরসা শহরে ১ হাজার একর জায়গার ওপর গড়ে তুলেছেন তার প্রধান আশ্রম ‘ডেরা সাচা সৌদা’। শুনলে অনেকে অবাক হবেন, কতটা বিলাসবহুল করে তৈরি করা হয়েছে এই আশ্রম। আশ্রম বললে যেমনটি বোঝায় তা আসলে বলা কঠিন- আধুনিকতার সব বন্দোবস্ত আছে এখানে।

রাম রহিমের প্রধান ডেরায় যা যা আছে : বিশাল আশ্রমে প্রবেশের জন্য রয়েছে ১০টি ফটক। এসব প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকে ঘুরতে ঘুরতে চোখে পড়বে একটি বিশাল হাসপাতাল। এই হাসপাতালে ভক্ত-অনুসারী ও দরিদ্রদের চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় লোকজন এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকে।

ডেরায় একটি সুরম্য অবকাশকেন্দ্র আছে। গুরুর বিশেষ ভক্তরা এখানে আরাম-আয়েশের সুযোগ পান। অবকাশকেন্দ্রের পাশাপাশি একটি হোটেল রয়েছে। আরো আছে বিশাল একটি অডিটোরিয়াম, বাবার ভক্ত-অনুসারী ও শিষ্যরা এখানে গানবাজনা, ধ্যানজ্ঞানসহ নানা অনুষ্ঠান করে থাকে।

আশ্রমে বাবা রাম রহিমের জন্য একটি চাকচিক্যময় ভবন রয়েছে। এই ভবনে শুধু তিনিই থাকেন। আর তার সেবাযত্নে থাকে তার নারী ভক্তরা। কোনো পুরুষের কারবার নেই ভবনটিতে, শুধু বাবা আর বাবার নারী শিষ্যরা থাকেন। এই ভবনের একটু দূরে রয়েছে একটি ধ্যানকক্ষ, যেখানে ভক্তরা ধ্যান করেন।

ডেরা সাচা সৌদা নামের আশ্রমকে সিরসা শহরের মধ্যে আরেকটি শহর বললে ভুল হবে না। আশ্রম ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। চাইলেই যেকেউ বাবার দর্শন পায় না।
আশ্রমে রয়েছে সিনেমা হল, স্কুল ও বিনোদনের সব আয়োজন। আছে খেলার মাঠও। আশ্রমের নামে মনের মতো করে সাজিয়েছেন রাজকীয় এই কমপ্লেক্স। কিন্তু এই আশ্রমসহ গুরুর সব সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

১ হাজার একরের বিশাল কমপ্লেক্স হওয়ায় আশ্রমের মধ্যেই একসঙ্গে বহু মানুষের খাবারের আয়োজন করা সম্ভব হয়। সোমবার রাম রহিমের ২০ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার দিন সিরসার এই আশ্রমে প্রায় ৪০ হাজার ভক্ত-অনুসারী প্রবেশ করে। সেখানে তাদের খাবার-দাবারের আয়োজনও করা হয়।

দুই নারী ভক্তের করা ধর্ষণ মামলায় দোষী প্রমাণিত হয়েছেন গুরুমিত সিং থেকে রাম রহিম নাম ধারণকারী এই রকস্টার সুপার-গুরু। যোগী বা ধ্যানী বলতে যেমন বোঝায় রাম রহিম তেমন নন। তিনি মূলত দান-দক্ষিণার রাজা, বিপুল সম্পদের মালিক। নিজেই আইন তৈরি করেন আর নিজেই ভাঙেন। তবে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় আইনের কাছে হারতে হলো তাকে।

You Might Also Like