সিইসি কী বার্তা দিচ্ছেন?

মুনশী আবদুল মাননান : বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান কাজ কি? সবাই বলবেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা। শর্ত হলো, সেই নির্বাচনটি হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। এই শর্ত পূরণ করে নির্বাচন সম্পন্ন করা বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে মোটেই সহজ কাজ নয়। অত্যন্ত কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ। এ কাজ নির্বাচন কমিশন করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় ও সন্দেহ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য আশাবাদী; তার পক্ষে কাঙ্খিত নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই রোডম্যাপ ‘সংলাপ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। সে সংলাপ শুরু হয়েছে। প্রথমে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। এরপর দু’দফায় গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। অত:পর নিবন্ধিত রাজনৈতিকদলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বলা হয়েছে, এসব সংলাপের মাধ্যমে উঠে আসা মতামত, প্রস্তাব বা সুপারিশ একসঙ্গে করে তার একটি খসড়া তৈরি করা হবে এবং পরে সেই খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। প্রশ্ন উঠতে পারে, চূড়ান্তকৃত মতামত, প্রস্তাব বা সুপারিশ নির্বাচন কমিশন কি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে? এ ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা তার নেই। নির্বাচন কমিশন দৃঢ় ও আন্তরিক হলে এক কথা, না হলে ভিন্ন কথা। বিষয়টি তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। সদিচ্ছাপ্রবন হলে ভালো, না হলে এসব সংলাপ লোক দেখানো বলেই পরিগণিত হবে। অনেকেই সে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা এর মধ্যেই এমন কিছু কথা বলেছেন যা এই আশংকাকে জোরদার করেছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়, তখন সিইসি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন অবস্থায় বর্তমান ইসির পক্ষে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নির্বাচন করা সম্ভব। যদি তাই সম্ভব হয়, তবে তো এত ঘটা করে সংলাপের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। একাদশ সংসদ নির্বাচনে এটা একটা বড় ইস্যু। বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে নারাজ। এই ইস্যুতেই দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ বহু দল অংশ নেয়নি। এর ফলে ওই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হতে পারেনি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, ওই নির্বাচন নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেছেন, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন ওইরকম হোক, তিনি তা চান না। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সৃষ্ট প্রশ্নের কোনো মীমাংসা হয়নি। বিএনপির তরফে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবি জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সংবিধানের বাইরে যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বলেছে, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে। বিএনপি এর পাল্টা বক্তব্য দিয়ে বলেছে, বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। এই বাস্তবতা যখন বহাল, তখন সিইসি যদি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন অবস্থায় ইসির পক্ষে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, তখন বুঝা যায়, সিইসি সরকারের পক্ষেই ইসির অবস্থান নির্দিষ্ট বা স্পষ্ট করতে চাইছেন। অনেকে বলতে পারেন, নির্বাচনের সময় কোন ধরনের সরকার ক্ষমতায় থাকবে তা বলা বা নির্ধারণ করার ক্ষমতা অথবা এখতিয়ার ইসির নেই। কথাটি সত্য, তবে এ ব্যাপারে পরামর্শমূলক বক্তব্য ইসির পক্ষে রাখতে দোষের কিছু নেই। সিইসি সেদিকে না গিয়ে সরকারের অবস্থানের প্রতি প্রকান্তরে সমর্থন দিয়েছেন। নির্বাচনকালে কী ধরনের সরকার ক্ষমতায় থাকবে, সেটা রাজনৈতিক বিষয়। রাজনৈতিক দলগুলো পারস্পরিক আলোচনা বা সংলাপের মাধ্যমে এ বিষয়ের ফয়সালা করতে পারে। আসলে সেটাই হওয়া দরকার এবং বিভিন্ন মহল থেকে সে তাকিদই বরাবর উচ্চারিত হচ্ছে। অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য দেয়, অতীতে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়নি। কাজেই, একাদশ সংসদ নির্বাচন যদি সকল দলের অংশগ্রহণভিত্তিক ও গ্রহনযোগ্য করতে হয় তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার আগেই সিইসির এ বিষয়ে কথা না বলাই হতো সঙ্গত ও উচিৎ।

ওইদিন সাংবাদিকরা সিইসির কাছে সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তরে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, এ ব্যাপারে ইসির কিছু করার নেই। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই ইসি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিষয়টি দেখবে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। এ ব্যাপারে ইসি তার দায় এড়িয়ে যেতে পারে না কিংবা বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার ওপর ছেড়ে দিতে পারে না। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ চাইলে ইসিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডও তৈরি করতে হবে। সরকারী দল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে নির্বাচনের প্রচারণা তফসিল ঘোষণার আগেই চালিয়ে যেতে থাকবে আর বিরোধীদল কি-ও করতে পারবে না, এটা হতে পারে না। ইসি রাজনৈতিক দলগুলোকে তার কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে বাধ্য করবে, তাদের হিসাব-নিকাশ নিরীক্ষা করবে, কোনো দলের শর্ত পূরনের ব্যর্থতা বা অপারগতায় তার নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে অথচ নির্বাচনের মাঠে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারবে না, এটা মানা যায়না। এখন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব শুধু নির্বাচনের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তার কার্যপরিধি অনেক বেড়েছে এবং দিনকে দিন বাড়ছে। রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণতন্ত্র উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর এক প্রকার অভিভাবকত্ব লাভ করেছে। অভিভাবকের দায়িত্ব সে অস্বীকার করতে পারে না।

গত ৩১ জুলাই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসির সংলাপে উপস্থিত অনেকেই নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। কেউ কেউ সিইসির ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ইসির কিছু করণীয় নেই,’ এ ধরনের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। সিইসি অবশ্য সমালোচনার কোনো জবাব দেননি। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার বিষয়ে সংলাপে জোর আলোচনা হয়। বলা হয়, সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে বিশ্বের কোথাও সংসদ বহাল রেখে সংসদ নির্বাচনের নজির নেই। বলা হয়, এরকম ব্যবস্থায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে আর কিছু থাকে না। মন্ত্রী-এমপিরা স্ব-স্ব পদে বহাল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন, সরকারী সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করবেন আর অন্য প্রতিদ্ব›িদ্বরা বঞ্চিত থাকবেন, এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে পারে না।

সংলাপে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হোক, এটা কামনা করেন। কয়েকটি বিষয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যমত্যও লক্ষ্য করা যায়। এই বিষয়গুলোর মধ্যে ‘না’ ভোটের পুন:প্রবর্তন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অনেকে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। গত ১৬ আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রায় একই ধরনের মতামত উঠে আসে। বিশেষভাবে উঠে আসে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়টি। এ ব্যাপারে ইসিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়। গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা এর পাশাপাশি নির্বাচনী আইন সংস্কারসহ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, নির্বাচনে আইন শৃংখলা বজায় রাখার প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সর্বোপরি ইসিকে রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থাশীলতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন।

সিইসি এদিনের সংলাপে কিছু না বললেও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের পরের দিনের সংলাপে মুখ খোলেন এবং কিছু মন্তব্য করেন যা বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংলাপের শেষ দিকে প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাফ জানান, রাজনৈতিকদলগুলোর মধ্যস্থতা করা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। ইসি সেটা করতেও চায় না। নির্বাচনের সময় কোন ধরনের সরকার থাকবে, তাও ইসির দেখার বিষয় নয়। সরকারের ঠিক করে দেয়া নির্বাচন পদ্ধতিতে ইসিকে নির্বাচন করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে তারা দলগুলোর কথা শুনবেন। এটা হবে শুধু সংলাপ। কে নির্বাচনে আসবে বা আসবে না সেই ইস্যু সেখানে থাকবে না।

সত্য বটে, বিধানগতভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা করা ইসির কাজ নয়। অতীত আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা বিবদমান দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ব্যর্থ হয়েছেন। এর উল্লেখ সিইসিও করেছেন এবং বলেছেন, এ ব্যাপারে কোনো রিস্ক তিনি নিতে চান না। পর্যবেক্ষক-বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, বিদ্যমান, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিধি-বিধানের আওতায় কিংবা কিছুটা তার বাইরে গিয়ে হলেও ইসি তার প্রভাব খাটাতে পারে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং ইসির প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা বাড়াতে ইসির পক্ষে সম্ভবপর ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে যা ইসিরও কাঙ্খিত বলে বিবেচিত হতে পারে না।

সিইসির বক্তব্য সম্পর্কে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে বক্তব্য দিয়েছেন সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসাবে তা সঠিক হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়া দরকার। এজন্য কমিশনকেই উদ্যোগ নিতে হবে। কমিশনের নিজের উচিৎ সক্রিয় হওয়া। নিকট অতীতে দেখেছি, ইসি নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ অনীহা দেখিয়েছে। সেটা সুষ্ঠু নির্বাচন অর্জনে কাজে আসেনি। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন বলেছেন, নির্বাচনকে প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ করার ক্ষেত্রে যদি কোনো বড় দল বলে, আমরা এই পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে নির্বাচনে যেতে পারব না, সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের একটা উদ্যোগ নেয়ার দায়িত্ব রয়েছে। আমি কিছু জানিনা, কিছু করবো না বললে প্রতিদ্ব›িদ্বতামূলক নির্বাচন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন-এগুলো শুধু শুধু কথা বলা হবে। কেউ যদি বলে, এই ধরনের অবস্থা না হলে নিরপেক্ষতা থাকবে না, তবে সেটা দেখতে হবে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের মূল কাজ হচ্ছে নির্বাচন করা। নির্বাচনটা গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক করার জন্য যা যা করা দরকার, সম্ভব সবই তাদের করা উচিৎ। এখানে তাদের আইনে কোনো জায়গায় তাদের বাধা দেয়না। যখন দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গÐগোল হচ্ছে তখন তারা ভূমিকা রাখতে পারে। কাজের বাইরে আইনের বাইরে আমরা কিছু করবো না এ গুলো ভিন্ন কথাবার্তা।

একথা তো সকলেই জানা, ইসির প্রতি সব রাজনৈতিক দলের সমান আস্থা নেই। আস্থার ঘাটতি বা সংকট ইসি গঠনের প্রক্রিয়া থেকেই শুরু। কীভাবে ইসি গঠিত হয়েছে, তা কারো অবিদিত নেই। একটি ‘নিরপেক্ষ’ ইসি গঠনের জন্য নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মত বিনিময় হয়, তাদের পরামর্শ ও প্রস্তাব নেওয়া হয়। বাস্তবে সেই পরামর্শ ও প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। সরকার যেভাবে চেয়েছে সেভাবেই ইসি গঠিত হয়েছে। যাদের নিয়ে গঠন করতে চেয়েছে তাদের নিয়েই গঠন করা হয়েছে। এনিয়ে যা কিছু হয়েছে, তা অনেকটাই নাটক। ফলে সরকার ও সরকারী জোটের বাইরে বিভিন্ন দল ও জোটের ইসি প্রতি এক প্রকার অবিশ্বাস ও আনাস্থা রয়েছে। একারণে শুরু থেকেই এই মর্মে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, ইসিকে সব রাজনৈতিক দল ও জোটের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে হবে। এটা সম্ভব হলে কাঙ্খিত নির্বাচন অনুষ্ঠান অনেক সহজ হয়ে যাবে। বহু প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে যাবে।

ইসির কাজ কেবল মাত্র নির্বাচন করা নয়, নির্বাচনে যাতে সব দলের অংশগ্রহণ থাকে তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও ইসির। এ জন্য যদি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে হয়, যত রিস্ক থাকুক, নিতে হবে। কিন্তুু সিইসি যখন বলেন, তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেবেন না, সরকার যেভাবে চাইবে সেভাবে নির্বাচন করবেন তখন হতাশ না হয়ে পারা যায়না। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের প্রসঙ্গে তিনি যা বলেছেন তাতে সঙ্গতকারণের প্রশ্ন ওঠে, তাহলে ওই সংলাপের প্রয়োজন কি? শুধু কথা শোনার জন্য সংলাপের আদৌ দরকার আছে বলে মনে হয় না। আসলে সিইসি তার পূর্বাপর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মনে হয় একটি বার্তা দিতে চাইছেন। কী সেই বার্তা?

You Might Also Like