বিচার বিভাগের সমালোচনায় আওয়ামী লীগ: প্রতিক্রিয়া বিএনপি ও বাম মোর্চার

বাংলাদেশের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আওয়ামী লীগ বরাবরই হুমকি, ধমকি ও ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে চলছে। এখন বিচার বিভাগকেও ছাড় দিচ্ছে না। আগে দেখেছি উপনেতা, পাতি নেতারা ক্ষমতার দাপট চালিয়েছিল। এখন দেখছি সর্বোচ্চ নেতাও একই ভাষায় কথা বলছেন। এমন একটা ভাব আওয়ামী লীগ দেখাচ্ছে যেন- এদেশের মালিক, জোতদার, জমিদার, রাজা সবই তারা। আর আমরা সকলই প্রজা; আওয়ামী লীগ হুকুম করবে, আমাদেরকে তাদের ইচ্ছে মত চলতে হবে।”

আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শুকানপুকুরী কালীগঞ্জ এলাকায় বন্যা কবলিত অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের সময় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আপিল বিভাগ যে সকল সত্য কথাগুলো বলেছে আওয়ামী লীগের মধ্যে আগুন জ্বলে উঠেছে- কেন বিচার বিভাগের মুখ থেকে এসব কথা বের হলো? এজন্য তারা এখন বিচার বিভাগেও আক্রমণ করছে।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে চাই। যে ভোট আপনারা দিতে পারেন নাই, সে ভোট আবার দেওয়াতে চাই। সেজন্য সকলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সরকার জনগনের ওপর জেল জুলুম, অত্যাচার চালাচ্ছে, অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।”
‘সরকার সীমালংঘন করে যাচ্ছে’
এদিকে, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সরকার সীমালংঘন করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাম মোর্চা নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা, তাদের সমর্থিত আইনজীবীরা, মন্ত্রী-এমপিরা যেভাবে এই রায়, রায়ের পর্যবেক্ষণ, উচ্চ আদালত, এমনকি প্রধান বিচারপতিকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছেন যা উচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণার সামিল।
বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকার ও সরকারি দল, মন্ত্রীবর্গ, তাদের বিভিন্ন স্তরের এমন তৎপরতা আদালত অবমাননার নজীরবিহীন সব উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। আইনসিদ্ধ পথে না হেটে যুদ্ধংদেহি মনোভাব নিয়ে উচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে তারা যেভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন সেটা বিচারব্যবস্থার মূলে কুঠারাঘাতের সামিল।
বাম মোর্চা নেতৃবৃন্দ সরকার ও সরকারি দলকে বিচার বিভাগকে ধ্বংস করার আত্মঘাতী খেলা অবিলম্বে বন্ধের আহবান জানান।
তোপখানা রোডে কমরেড নির্মল সেন মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনে মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতাশুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহবায়ক হামিদুল হক, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু।

You Might Also Like