মামলায় সাক্ষী হওয়ায় মা-বাবা, মেয়ে খুন?!

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় খুন হওয়া স্বামী-স্ত্রী ও তাদের মেয়ে এক হত্যা মামলায় সাক্ষী ছিলেন। এ কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে।

গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে মঙ্গলবার রাতে মো. দেলোয়ার হোসেন মোল্লা (৫৫), তার স্ত্রী মোসা. পারভীন বেগম (৪২) এবং তাদের মেয়ে মোসা. কাজলি আক্তারকে (১৫) কুপিয়ে খুন করে অজ্ঞাতরা।

পুলিশের ধারণা, নিহত তিনজন কয়েক মাস আগে খুন হওয়া স্কুলছাত্র সফিক হত্যা মামলার সাক্ষী হওয়ায় তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান সংবাদিকদের বলেন, ‘যারা খুন হয়েছেন, তারা দুই মাস আগে সিআইডিতে গিয়ে (সফিক হত্যার বিষয়ে) সাক্ষী দিয়েছিলেন। এ কারণে আসামিরা ধরে নেন, এতে তাদের বড় ধরনের সাজা হবে। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যা করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘যত কারণ পেয়েছি তাতে শফিক হত্যার সঙ্গে জড়িতরাই আমাদের দৃষ্টিতে চলে আসে।’

স্থানীয়রা জানান, দেলোয়ার হোসেন মোল্লা পরিবারের সঙ্গে তার বোন সম্পর্কের রোকেয়া বেগমের ছেলে মাইনুদ্দিন ও মোশারফ গংদের জমি নিয়ে বিরোধ আছে। ওই বিরোধের ফলে দোলোয়ার হোসেনের ভাতিজা ১০ শ্রেণীর ছাত্র শফিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি। ওই ঘটনায় মাইনুদ্দিনসহ তার গ্রুপের ২০ জনকে অভিযুক্ত করে গলাচিপা থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলাটি পুলিশ তদন্ত না করে সিআইডিতে স্থানান্তর করে। শফিক হত্যা মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় মামলার বাদী শফিকের বাবা ইদ্রিস মোল্লাসহ সাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন আসামিরা।

এ সব বিষয় উল্লেখ করে ইদ্রিস মোল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন প্রায় দুই মাস আগে। কিন্তু তাতেও ফল পাননি। শফিক হত্যা মামলার সাক্ষী ছিলেন দেলোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী পারভীন বেগম এবং মেয়ে কাজলি আক্তার।

আসামিদের ভয়ভীতির মুখে দেলোয়ার হোসেন পরিবার নিয়ে কয়েক মাস ঢাকায় আশ্রয় নেন এবং মাস খানেক আগে বাড়িতে ফিরে আসেন।

শফিক হত্যা মামলার আসামিদের অব্যাহত হুমকির মুখে মামলার বাদী ইদ্রিস মোল্লা পরিবার নিয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলার শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করছেন।

তিন খুনের ঘটনায় দেলোয়ার হোসেনের ভাই ও নিহত সফিকের বাবা ইদ্রিস মোল্লা বৃহস্পতিবার গলাচিপা থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

শফিক হত্যা মামলার সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা সেলিম সরদার বলেন, আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ না করে প্রতিবেদন দিতে পারছেন না। তারা আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টায় আছেন। দ্রুতই গ্রেপ্তার করতে পারবেন।

You Might Also Like