গরুর কল্যাণে মন্ত্রণালয় হচ্ছে ভারতে!

গরুর কল্যাণে মন্ত্রণালয় খোলার চিন্তা-ভাবনা করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।

ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সম্প্রতি এমন তথ্য জানিয়েছেন। সোমবার লখনোতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গরুর কল্যাণে মন্ত্রণালয় তৈরির জন্য অনেক সুপারিশ আসছে। এ নিয়ে আলোচনা চলছে।’

কলকাতা টেলিগ্রাফের অনলাইন সংস্করণে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতে গরুর জন্য মন্ত্রণালয় খোলার ধারণা বেশি দিনের নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ দাবি জোরলো হয়। ২০১৪ সালে রাজস্থানের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা বিজয়ী হলে গরুর কল্যাণে একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। রাজস্থান বিধানসভায় বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রতিশ্রুতিমতো গরুর কল্যাণে তারা একটি মন্ত্রণালয় তৈরি করে।

রাজ্যসরকারে গরুর কল্যাণে মন্ত্রণালয় রাখা হলে কেন্দ্র সরকারে কেন নয়? হয়তো শিগগিরই মোদির মন্ত্রিসভায় গরুমন্ত্রীর জন্য একটি আসন দেওয়া হবে। এর পক্ষে স্পষ্ট সাফাই রয়েছে উত্তর প্রদেশের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের। তিনি ভারতের গোরক্ষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা।

কলকাতা টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গরু মন্ত্রণালয়ের কাজ কী হবে, তা পরিষ্কার করেননি অমিত শাহ। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ। বলা হয়ে থাকে, ২০১৪ সালে গরু মন্ত্রণালয় খোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে প্রথম সুপারিশ করেছিলেন তিনি।

জাতীয় নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল, সরকার গঠন করলে দেশজুড়ে গরু জবাই নিষিদ্ধ করবেন তিনি। করেছেনও তাই, যা নিয়ে ভারতে তুলকালাম চলছে। এ ছাড়া মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটে গরু জবাইয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবনের বিধান করা হয়েছে।

ভারতে গোরক্ষা নিয়ে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ফ্রিজে গরুর মাংস রাখার জন্য, গরু জবাইয়ের জন্য বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তথাকথিত ‘গোরক্ষা কমিটি’। এ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মঞ্চ কম গরম হয়নি। লোকসভা ও রাজ্যসভা থেকে শুরু করে বলিউড পর্যন্ত বিতর্কের উত্তাপ ছড়িয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত গোরক্ষা কমিটির বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এ ধরনের কমিটির কার্যক্রম প্রতিহত করার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

You Might Also Like