গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে আজও মোর্চা-পুলিশ সংঘর্ষ, কেন্দ্রীয় সরকারকে আল্টিমেটাম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে গণআন্দোলন ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা’র পক্ষ থেকে আজ (রোববার) সকালে আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁয় মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় মোর্চা ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

অনুমতি না থাকায় মোর্চার মিছিল আটকে দেয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। মিছিল আটকানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মোর্চা কর্মী-সমর্থকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইট নিক্ষেপ করে। এমনকী তারা পেট্রোল বোমাও ছোঁড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পুরো ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।

ওই ঘটনার জেরে জয়গাঁ সীমান্তের ভুটান গেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়ায় দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

প্রায় ঘণ্টা খানেক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, আজ সকালে মোর্চার নারী কর্মী-সমর্থকরা সুকনায় মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দিলে মোর্চা সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখায়। মোর্চার পক্ষ থেকে আজ সুকনা বনধের ডাক দেয়া হয় এবং পাথর ফেলে ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়।

এদিকে, শনিবার মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষে মোর্চার সহকারী সম্পাদক বিনয় তামাং গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার বৈঠক না ডাকলে আমাদের আন্দোলনে ১০ ও ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক বিপর্যস্ত হবে৷’

তামাং দাবি করেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুলিশের গুলিতে তাদের ৮ জন কর্মী নিহত ও ৪৫ জন আহত হয়েছে৷ একটানা ৪৬ দিন ধরে পাহাড়ে বনধ চলছে৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার চুপ করে আছে! রাজ্য সরকারের দমন নীতির জন্য পাহাড়ের অনেক সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে বলেও বিনয় তামাং অভিযোগ করেছেন।

You Might Also Like