লোকসভায় তুমুল হট্টগোল, কংগ্রেসের ৫ সদস্য সাসপেন্ড

ভারতের লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন কংগ্রেসের ৫ সদস্যকে সাসপেন্ড করেছেন। কংগ্রেস সদস্যরা স্পিকারের চেয়ারের দিকে কাগজের টুকরো ছুড়ে মারায় তিনি ওই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

অধীর চৌধুরি, গৌরব গগৈ, কে সুরেশ, রণজিৎ রঞ্জন এবং সুস্মিতা দেবকে অধিবেশন থেকে ৫ দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। গো-রক্ষার নামে গণপিটুনি ইস্যুতে সংসদে তুমুল হট্টগোলের জেরে তাদের বিরুদ্ধে ওই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

আজ (সোমবার) লোকসভার কাজ শুরু হতেই কংগ্রেস সদস্যরা গো রক্ষা ইস্যুতে সহিংসতা নিয়ে ব্যাপক গোলযোগ সৃষ্টি করেন। তারা প্রশ্নোত্তরপর্ব স্থগিত রেখে ওই ইস্যুতে আলোচনার দাবি জানান। স্পিকার তাতে সম্মত না হওয়ায় কংগ্রেস সদস্যরা ওয়েলে নেমে এসে স্লোগান দিয়ে হট্টগোল শুরু করেন।

স্পিকার বলেন, প্রশ্নোত্তরের পরেই ওই ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু ক্ষুব্ধ সদস্যরা তাতে শান্ত না হয়ে এক পর্যায়ে স্পিকার সুমিত্রা মহাজনের দিকে কাগজ ছুঁড়ে দিলে অবস্থা চরমে ওঠে। গোলযোগ বাড়তে থাকায় স্পিকার অধিবেশনের কাজ বেলা ২ টা পর্যন্ত মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হন।

আজ সংসদে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে উন্মত্ত জনতার হাতে গণপিটুনিতে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

খাড়্গে বলেন, ‘গো-রক্ষার নামে লোকেদের উপরে প্রাণঘাতী হামলায় দেশে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দেশে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী ওই ইস্যুতে ৩ বার উপদেশ দিয়েছেন কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যতদিন পদক্ষেপ না নেয়া হবে এ ধরণের ঘটনা থামবে না।’

মল্লিকার্জুন খাড়্গে আজ গো-রক্ষার নামে গণপিটুনি এবং দলিতদের উপরে সহিংসতা ইস্যুতে সংসদে আলোচনার দাবি জানান।

সরকার পক্ষে বিজেপি নেতা ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অনন্ত কুমার বলেন, ‘গোটা দেশের জন্য গরু মায়ের মতো সেজন্য আমাদের গরুকে রক্ষা করা উচিত। সংবিধানও আমাদের গরু রক্ষা করার শিক্ষা দেয়। কিন্তু গরুর নাম করে কোনো সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।’

আজ কংগ্রেস সদস্যরা সংসদে গোলযোগ সৃষ্টি করলে স্পিকার সুমিত্রা মহাজন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সদস্যদের আচরণ গোটা দেশবাসী দেখছে।

২০১৫ সালেও তুমুল গোলযোগের জেরে ২৫ কংগ্রেস এমপিকে ৫ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিলেন। সে সময় কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ওই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের কালো দিন’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

You Might Also Like