‘মাশরাফিকে এমন উপহার আগে কেউ দেয়নি’

মাশরাফি বিন মুর্তজা। এটা শুধু একজন ক্রিকেটারের নাম নয়। লাখো মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস। কোটি কোটি তরুণদের আদর্শ। ভক্তদের কাছে তিনি দেবতুল্য। তাইতো তাকে কাছে পেলে একবার শুধু ছুঁয়ে দেখতে চায়। নিশ্চিত হতে চায় স্বপ্নে দেখছে নাকি সত্যি সত্যিই মাশরাফি সামনে। এতোবেশি ভালোবাসা তিনি ভক্তদের কাছ থেকে পাচ্ছেন। হয়তো যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততোদিন পাবেন। পাবেন নয়ন সম্মুখে না থাকলেও।

মাশরাফিকে নিয়ে তাদের ভক্তরা নানারকম কা- করে থাকেন। কেউ কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনি ডিঙিয়ে মাঠে ঢুকে জড়িয়ে ধরেন প্রিয় তারকাকে। কেউ নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাশরাফির পা ছুঁয়ে সালাম করেন। কেউ দিনের পর দিন এক নজর মাশরাফিকে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গেটে। গেল শ্রীলঙ্কা সফরে হঠাৎ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন মাশরাফি। সেই ঘোষণায় তার লাখ লাখ ভক্ত হতাশ হন। মনোঃকষ্ট পান। তার অবসর ঘোষণার পর বেশ কয়েকজন ভক্ত তাকে গান লিখেন। তাদের মধ্যে একজন চট্টগ্রামের মিসসরাইয়ের ছেলে মহিবুল আরিফ। তিনি ‘ফিরে এসো মাশারাফি’ শিরোনামে গানটি গেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় উঠে আসেন। এরপর বিভিন্ন অনলাইন ও বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। প্রথম আলো তার গানটি নিয়ে নেয় এবং তাদের ইউটিউব চ্যানেলে দেয়। ইউটিউবে তার গানটি প্রায় অর্ধকোটি মানুষ শুনেছে।

প্রশ্ন : মাশরাফিকে নিয়ে গান লিখে আপনি এখন বলতে গেলে তারকা। বিষয়টিকে কিভাবে উপভোগ করছেন?
মহিবুল আরিফ : ভালোলাগা এবং ভালোবাসা দুটোই খুব বেশি কাজ করছে। মাশরাফি ভাইকে নিয়ে আমি আসলে গান লিখেছি ভালোলাগা ও ভালোবাসা থেকে। তার অনেক কিছু আমি অনেকদিন ধরেই ফলো করি। ২০০৬ সাল থেকে আমি পুরোপুরি তাকে ফলো করি। তার মতো একজন দেশপ্রেমিক মানুষের জন্য কিছু একটা করতে পেরে আমারও খুব ভালো লাগছে। ওনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি আমি। সততা, নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিত্ব তো অবশ্যই।
প্রশ্ন : মাশরাফির সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি আপনাকে কী বলেছিলেন?
মহিবুল আরিফ : মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা অনেক দিনের। কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি তার সাক্ষাৎ পাব ভাবিনি। সাক্ষাতে আমি তার সঙ্গে আমার সবকিছু শেয়ার করেছি। তিনি আমাকে বলেছেন ‘সৎ থেকো, পরিশ্রম করে যাও, উপরওয়ালা এর প্রতিদান দেবেন। সাবধানে থেকো।’ আসলে তার সঙ্গে দেখা করে অন্যরকম একজন মানুষকে দেখলাম। তাকে নিয়ে লেখা অনেক অনেক নিউজ ও আর্টিকেল পড়েছি। কিন্তু তার সঙ্গে সাক্ষাতে অনেক কিছু শিখেছি। ভিন্ন একজন মাশরাফিকে দেখেছি।

প্রশ্ন : একজন ভক্ত হিসেবে মাশরাফির সঙ্গে আপনার প্রথম সাক্ষাত হল। কী নিয়ে গিয়েছিলেন তার জন্য?
মহিবুল আরিফ : আসলে আমি তার জন্য যা নিয়ে গিয়ছিলাম সেটা দেখে আশ্চর্য্য হন তিনি। তিনি আসলে ভাবতেও পারেননি যে এগুলোও গিফট হয়। আমি তার জন্য লুঙ্গি, গামছা আর স্যান্ডো গেঞ্জি নিয়ে গিয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস মাশরাফিকে এমন উপহার আগে কেউ দেয়নি। সেই লুঙ্গি নিয়ে তিনি আয়ারল্যান্ডে গিয়েছিলেন। সেই লুঙ্গি পরে সাহরি খেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবিও এসেছিল।
প্রশ্ন : কোন ভাবনা থেকে এরকম ব্যতিক্রম উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন?
মহিবুল আরিফ : আসলে তার মতো একজন মানুষকে দিলে অনেক উপহারই দেওয়া যায়। আমি ভাবলাম তিনি দেশকে খুব বেশি ভালোবাসেন। তাই আমি তাকে বাঙালিয়ানা ও ভিন্ন ঘরনার উপহার দিতে চেয়েছিলাম। তিনি লুঙ্গিটা খুব পছন্দ করেছিলেন। তিনি ভাবেননি তার একজন ভক্ত তাকে এমন উপহার দিতে পারে।

প্রশ্ন : কতক্ষণ সময় দিয়েছিলেন মাশরাফি আপনাকে?
মহিবুল আরিফ : মাশরাফি ভাইয়ের বাসায় ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তার মধ্যে তিনি আমার সঙ্গে গল্পই করেছেন আধাঘণ্টার বেশি। এরপর গান শুনেছেন। গান শোনার আগে তিনি মজা করে বলেছিলেন- শিল্পী আছে, গিটার আছে, গান হবে না কেন? খুব মজার সময় ছিল।

প্রশ্ন : আমরা গানটা শুনেছি এর আগে। বেশ ভালো গেয়েছেন। আপনার গানের হাতেখড়ি কবে থেকে?
মহিবুল আরিফ : গান আসলে ওইভাবে শেখা হয়নি কখনো। ২০০৭ থেকে স্টেজ পারফর্ম করতে করতেই শেখা। আমার এক বন্ধু, তার নাম মামুন। তার সঙ্গে একসঙ্গে আড্ডা দিতাম। গান করতাম। এরপর দুজন মানুষের কাছে গানের উপর ক্লাস করেছিলাম। একজন লিপিকা ম্যাডাম। অন্যজন নির্মল দাস।

প্রশ্ন : গিটারের প্রেমে পড়েছেন কবে থেকে?
মহিবুল আরিফ : গিটারের প্রেমে পড়া ২০১৩ থেকে। ফেনীতে রাজেশ মজুমদারের কাছে আমি গিটার শিখি। এরপর শাহেদ ভাইয়ের কাছে শিখি।

প্রশ্ন : আপনার লক্ষ্যটা কী জানতে পারি?
মহিবুল আরিফ : লক্ষ্য আর কিছু নয়, অনেক দূর যাওয়া। ভালো কিছু করা। আমি বিশ্বাস করি অনেক ভালো জায়গায় এবং উঁচু জায়গায় যেতে পারব।

প্রশ্ন : আপনার স্বল্প সময়ের এই গায়কি জীবনের মজার কোনো ঘটনা যদি বলতেন।
মহিবুল আরিফ : আসলে অনেকগুলো স্মরণীয় ও মজার ঘটনা আছে। ২০১৫ সালে প্রাণ গ্রুপের বেশ কিছু প্রোগ্রাম করেছিলাম। অনেকগুলো জায়গায় করেছিলাম। স্টেজগুলো খুবই জমতো। নোয়াখালীতে আমরা একটি স্কুলে প্রোগ্রাম করছিলাম। চার-পাঁচটা গান হওয়ার পর আমরা সবকিছু প্যাক-আপ করছিলাম। হঠাৎ দেখি স্কুলের ছাত্ররা গেটে তালা মেরে দিয়েছে। তাদের দাবি- গান হতেই হবে। আসলে আমরা বেশ কিছু জনপ্রিয় গান গেয়েছিলাম। ওরা খুব মজা পেয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা মানতে পারছিল না। তালা ঝুলিয়ে তারা আমাদের কাছে এসে বলতে লাগল যে, আপনাদের যা কিছু লাগে সবকিছুর ব্যবস্থা করব। তবু প্রোগ্রাম শেষ করবেন না। আরো গান হতে হবে। আসলে গানের জন্যও মানুষ আন্দোলন করতে পারে, গেটে তালা ঝুলিয়ে দিতে পারে, একজন গানের মানুষ হিসেবে বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছে।

প্রশ্ন : গান গাওয়া কিংবা শেখার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা এসেছিল কিনা?
মহিবুল আরিফ : অনেক এসেছিল। অনেকে অনেক কথা বলেছিল। এখনো বলে। এটা করে কী হবে? হয়তো ভবিষ্যতেও বলবে। আসলে আমি মাস্টার্স শেষ করার পরে আমার কিছু কাছের মানুষ অনেক কিছু বলেছে। এখনো কাঁধে একটা বোঝা নিয়ে ঘোরার কী দরকার? চাকরি বাকরি খোঁজ, কর। আমি তাদের বলেছি যে এটা দিয়ে আমি খাব। এটা দিয়েই আমি অনেক বড় হব। আসলে সার্টিফিকেট অর্জন করেছি শিক্ষিত হওয়ার জন্য। নিজেকে জানার জন্য পড়ালেখা করেছি। কিন্তু মিউজিক নিয়ে আমি অনেক বেশি স্বপ্ন দেখি। পরিশ্রম করে যাচ্ছি, ইনশাল্লাহ ফল আসবে। আমি বিশ্বাস করি অনেক ভালো ফল আসবে।

You Might Also Like