সাড়ে ৪ কেজি সোনা বহনে মজুরি ১৮ হাজার টাকা!

দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার সাড়ে ৪ কেজি ওজনের ৪০ সোনার বার বহন করতে মজুরি ধরা হয়েছিল মাত্র ১৮ হাজার টাকা।

সোনা বহনের জন্য নাসিমাকে ৮ হাজার ও জেসমিনকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে চুক্তি হয়। কিন্তু তারা নিজেরাও জানত না কী বহন করতে হবে। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি।

শুল্ক গোয়েন্দার জালে ধরা পড়ে তাদের শেষ ঠিকানা হয়েছে জেলখানা। যদিও সামান্য টাকার জন্য অনিশ্চিত অপরাধ জগতে এটিই ছিল তাদের প্রথম যাত্রা।

বুধবার সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাস্কাট থেকে আসা রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট থেকে সোনার বারসহ ওই দুই নারীকে আটক করে শুল্ক গোয়েন্দার দল।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান রাইজিংবিডিকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সকালে মাস্কাট থেকে আসা রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চট্টগ্রাম হয়ে শাহজালালে এলে শুল্ক গোয়েন্দার দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে দুই নারী যাত্রীর শরীর তল্লাশি করে ২০ পিস করে মোট ৪০টি বার পাওয়া যায়। এই সোনা তাদের শরীরে গোপন অংশে লুকায়িত ছিল।

শুল্ক গোয়েন্দা আরো জানায়, তাদের নাম নাসিমা ও জেসমিন। নাসিমার বাড়ি কক্সবাজারের চকোরিয়া এবং জেসমিনের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়।তাদের উভয়কে ইমরুল নামের এক দালাল সোনা বহনের জন্য ভাড়া করে। আজ ভোরে তাদের বাড়ি থেকে তুলে আনা হয় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর। সোনা বহনের জন্য নাসিমাকে ৮ হাজার ও জেসমিনকে ১০ হাজার টাকা দেবে বলে চুক্তি হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, আকাশপথে আগে থেকে সিটের ভেতরে রাখা এই সোনাগুলো তাদের দেওয়া হয়। তারা এগুলো পরে শরীরে লুকিয়ে ফেলে। তবে এর ভেতর কী আছে তা তারা জানত না। এটি তাদের প্রথম সোনা বহন। এর ভেতরে সোনা দেখে তারাও বিস্ময় প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার উপস্থিতিতে পরিমাপ করে দেখা যায় আটক সোনার পরিমাণ ৪ কেজি ৬০ গ্রাম। এর মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আটক নারী যাত্রীদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

You Might Also Like