দূতাবাসে গৃহকর্মীর পদ সৃষ্টির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে গৃহকর্মীর পদ সৃষ্টির জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব দু’টি ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি কোনো পদ না থাকায় বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে নিয়োগ পাওয়া কূটনীতিকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে গৃহকর্মী নিয়োগ দিয়ে জটিলতার মুখে পড়ছেন, যা ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গৃহকর্মীর দেয়া মামলায় কূটনীতিক আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ম্লান হচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন-ভাতা ও সুবিধাদি নির্ধারিত রয়েছে। নির্ধারিত এই বেতন-ভাতা বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশের জীবনযাত্রার মানের তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক বিদেশী মিশনে যোগ দেয়ার পর সরকারের কাছ থেকে যে বেতন পান, তা দিয়ে উন্নত দেশগুলোর নির্ধারিত হারে গৃহকর্মীদের বেতন দেয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে মৌখিক সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নেয়া গৃহকর্মীদের ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অনেক গৃহকর্মী যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়া বা বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রত্যাশায় সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় শ্রম আইনের আওতায় মামলা ঠুকে দেন। এই প্রক্রিয়ায় কয়েকজন সফল হওয়ায় কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীদের মামলা করার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতও একই ধরনের সমস্যায় রয়েছে। গৃহকর্মীর মামলাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় কূটনীতিক দেবজানিকে হেনস্থা করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দেশটির সম্পর্কে টানাপড়েন, এমনকি পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া পর্যন্ত গড়িয়েছিল। গৃহকর্মী ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশী কূটনীতিকদের সাম্প্রতিক জটিলতাও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

You Might Also Like