উচ্চ শিক্ষা বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে : টিআইবি

অলাভজনক হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করলেও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সাথে দুর্নীতির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা লাভজনক পণ্যে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে টিআইবি কর্তৃক আয়োজিত ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঃ সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একটি অলাভজনক খাত হওয়া সত্ত্বেও কিছু অসাধু উদ্যোক্তার কারণে বাণিজ্যিক খাত হিসেবে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে অনেক ব্যবসায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন। যারা এটাকে মুনাফা অর্জনের খাত হিসেবে দেখেন।

তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, তদারকি ও সমন্বয়হীনতার ফলে এবং ত্রিপক্ষীয় আঁতাতের কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হুমকীর সম্মুখীন হয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে এই খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের লেনদেন হয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় ৩শ’ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে সনদ প্রদান করে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য ১ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন হয়ে থাকে।

এছাড়া ভিসি, প্রোভিসি, ট্রেজারার নিয়োগের অনুমোদনের জন্য ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিদর্শনের জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, অনুষদ অনুমোদনের জন্য ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, বিভাগ অনুমোদনের জন্য ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা, ভুয়া সার্টিফিকেটের জন্য ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করা হয় এবং টাকা দিয়ে অডিট করার জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, অ্যাসাইনম্যান্ট বাবদ ৫শ’ টাকাসহ পাস করিয়ে দেওয়া এবং নাম্বার বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নগদ অর্থ ও উপহার প্রদান করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

২০১২ সালের জুন থেকে ২০১৪ মে পর্যন্ত নির্বাচিত মোট ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রণীত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিক হাসান, ডেপুটি প্রোগ্রামার নীনা শামসুন নাহার প্রমুখ।

You Might Also Like