৯৯ বছরে এই প্রথম প্রশান্ত তীর থেকে অতলান্তিক তীর পর্যন্ত চাঁদের আড়ালে পড়ছে সূর্য

সূর্যের চারদিকে ঘোরে পৃথিবী, আর পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে চাঁদ। এই প্রদক্ষিণ চক্রে চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন সূর্যগ্রহণ হয়। এবার ইন্দোনেশিয়ার কিছু দ্বীপ থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে। ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের পালেমবাং থেকে তোলা।

চাঁদ ঘুরতে ঘুরতে আজ কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়েছিল। তখনই ফিলিপাইনের ম্যানিলার দর্শনার্থীদের কাছে সূর্য আংশিকভাবে চাঁদের পেছনে চলে যায়।

পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সৌন্দর্য দেখল ইন্দোনেশিয়াবাসী। আর বাংলাদেশ, নেপাল, থাইল্যান্ড, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশের বাসিন্দারা বুধবার উপভোগ করল আংশিক সূর্যগ্রহণ।

বিজ্ঞান-বিষয়ক সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্রের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ বাংলাদেশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই এ সূর্যগ্রহণের দেখা মিলল। ঢাকায় স্থানীয় সময় ভোর ছয়টা ১২ মিনিটে সূর্যোদয়ের পর থেকে গ্রহণ শুরু হয়। সকাল ছয়টা ৩৮ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে সূর্যগ্রহণ পুরো মাত্রায় দেখা যায়। সাতটা ২১ মিনিট ৭ সেকেন্ডে গ্রহণ শেষ হয়। বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, ইন্দোনেশিয়ায় আজ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়েছে। সূর্যগ্রহণের সময়টায় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকে ইবাদত-বন্দেগি করেন। বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী তাদের আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। স্থানীয় সময় ভোর ছয়টা ১৯ মিনিট থেকে পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে যেতে শুরু করে চাঁদ। এর প্রায় ঘণ্টাখানেক পর চাঁদ যখন সূর্যকে ঢেকে ফেলল, তখন দেশটির পশ্চিম অংশে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের দেখা মিলল। মুহূর্তেই চারপাশে নেমে এল রাতের অন্ধকার।

নিহার সিদ্দিকীর ক্যামেরায় নিউ ইয়র্কে সূর্যগ্রহণের একটি দৃশ্য

ধরণীর বুকে পূর্ণ ও আংশিক সূর্যগ্রহণের এমন সৌন্দর্য দেখার জন্য বিভিন্ন দেশের উৎসাহী মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। কেউ কেউ চলে যায় ছাদসহ উঁচু স্থানে। চোখে বিশেষ ধরনের চশমা পড়ে সূর্যগ্রহণ দেখার উৎসবে মাতে তারা।

পূর্ণ সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন দ্বীপে পর্যটকদের ঢল নামে। এ উপলক্ষে তাই ছিল বিশেষ আয়োজন। ছিল মজার দৌড় ও ড্রাগন নৌকার প্রতিযোগিতাসহ নানা উৎসব। এই সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য সুদূর মার্কিন মুল্লুক থেকে ইন্দোনেশিয়ার বেলিতুং দ্বীপে চলে এসেছেন ৫২ বছর বয়সী পর্যটক ডেনিয়েল অরেঞ্জ। তিনি বললেন, ‘এটা অসাধারণ। সব মিলিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখার ব্যাপারটা ছিল সুন্দর। এখানো অনেকে জড়ো হয়েছিলেন। যখন পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হলো, তখন সবাই উল্লাস করে উঠল।’

সূর্যের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে পৃথিবী। পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে চাঁদ। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে চাঁদ যখন কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর মানুষের কাছে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে চাঁদের পেছনে চলে যাওয়ার দৃশ্য আকারে ধরা পড়ে। এটিই সূর্যগ্রহণ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও লক্ষ লক্ষ আমেরিকানের মত সোমবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণের বিরল দৃশ্য দেখেছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ সোমবার বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখছে। ৯৯ বছরে এই প্রথম প্রশান্ত তীর থেকে অতলান্তিক তীর পর্যন্ত চাঁদের আড়ালে পড়ছে সূর্য।

যে এলাকায় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, সেই সব এলাকায়, আনুমানিক হিসেব অনুযায়ী প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাস। ওই এলাকার সূচনা অরিগান রাজ্যের প্রশান্ত উপকূল থেকে আমেরিকার মধ্যাঞ্চল পেরিয়ে সাউথ ক্যারোলাইনা রাজ্যের অতলান্তিক তীর অবধি।

বিভিন্ন শহর নগর এবং উন্মুক্ত উদ্যানে জনগন দুরবীন ক্যামেরা আর বিশেষ চশমা নিয়ে তৈরি হয় সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য। NASA বলছে তারা অনুমান করছে ইতিহাসে সব চাইতে বেশি মানুষ এই সূর্যগ্রহণ দেখবে ও তার ছবি তুলবে।

You Might Also Like