‘৮০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া’

বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থাগুলোর কাছে প্রায় ৮০৬ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। এরমধ্যে শুধু মাত্র সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়া বিলের পরিমাণ ৪০১ কোটি টাকা। আর বকেয়া বিলের শীর্ষে রয়েছে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের উত্তরে এসব তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ (বিদ্যুৎ বিভাগ) প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি সংসদকে জানান, বকেয়া বিলের মধ্যে আধাসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার কাছে প্রায় ৪০৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী জানা যায়, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কাছে সর্বাধিক ২৭৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া ১১০ কোটি ২৬ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়া ৪৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কাছে মোট বকেয়ার ৬৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার মধ্যে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বকেয়া রিফিউজি ক্যাম্পের কাছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়া ৩৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়া ৩৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়া ৩৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে ১১ কোটি ৬০ লাখ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ কোটি ১১ লাখ।  প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৭ কোটি ৯৭ লাখ, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬ কোটি ৮৫ লাখ। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের কাছে ৪ কোটি ২২ লাখ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৮ কোটি ৩২ লাখ। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ৫ কোটি ৩৭ লাখ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ৫ কোটি ৪৬ লাখ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬ কোটি ৭৬ লাখ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে ২৪ কোটি ৪৩ লাখ। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ৪ কোটি ৮৮ লাখ। শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৭ কোটি এক লাখ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়া পাওনা ১১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এসব বকেয়া বিল আদায়ের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও সংসদকে জানান নসরুল হামিদ।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতর, সংস্থার বকেয়ার তালিকা প্রস্তুতকরে পরিশোধের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদানের জন্য সচিবদের ডিও পত্র প্রদান করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে এমন সংস্থার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে প্রতিমাসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রি-পেমেন্ট মিটার চালু, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

এ কে এম মাইদুল ইসলামের এক প্রশ্নের উত্তরে নসরুল হামিদ বলেন, দেশে বর্তমানে কি পরিমাণ এলপিজি’র সঠিক চাহিদা জানা নেই। তবে আনুমানিক বার্ষিক এক লাখ টনের মতো চাহিদা হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে দুটি কোম্পানির মাধ্যমে বছরে ১৯ থেকে ২০ হাজার টন এলপিজি উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে পেট্রোবাংলার আওতাধীন সিলেটের গোলাপগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) আওতাধীন এলপিজি উৎপাদন প্ল্যান্ট থেকে গড়ে বার্ষিক ছয় হাজার মেট্রিক টন এলপিজি উৎপাদিত হয় যা চাহিদার ১০ ভাগ। এছাড়া বিপিসি’র অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারিতে একটি ক্রড অয়েল ফ্রাকশনেশনের সময় উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) হিসেবে বছরে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি উৎপাদন করা হচ্ছে।

নসরুল হামিদ বলেন, দেশীয় দুটি কোম্পানির উৎপাদিত এলপিজি ব্যতীত অবশিষ্ট এলপিজি কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। দেশে এলপিজি সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য বিপিসি’র মালিকানায় বার্ষিক এক লাখ টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বটলিং প্ল্যান্ট এবং পাবলিক প্রাইভেট অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে আরও একটি বার্ষিক এক লাখ টন এলপিজি বটলিং স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

বেগম সানজিদা খানমের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কয়লা সম্পদ মজুদের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার ১০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন যা ৭৫ থেকে ৭৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমতুল্য। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৫টি কয়লা খনি আবিষ্কৃত হয়েছে। দেশে আবিষ্কৃত কয়লা খনির মধ্যে একমাত্র দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া খনি থেকে ২০০৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হতে বাণিজ্যিকভিত্তিতে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে।

You Might Also Like