হোম » ৭ মার্চের ভাষণ ঐতিহাসিক বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর!

৭ মার্চের ভাষণ ঐতিহাসিক বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর!

ঢাকা অফিস- Sunday, November 26th, 2017

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যে ভাষণ দিয়েছেন, তাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে ‘ঢাকঢোল পিটিয়ে সমাবেশ করা’র সমালোচনা করেছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘৭ মার্চের যে ভাষণ, তা ঐতিহাসিক। নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক ভাষণ। ইউনেস্কোর একটা তালিকায় এ ভাষণ যুক্ত হয়েছে, খুব ভালো কথা তো। অস্বীকার কে করেছে। আপনারা এত বছর পর যখন হঠাৎ ঢাকঢোল পিটিয়ে নামছেন, তখন কিন্তু দেশের মানুষ কষ্টে আছে। হাওর এলাকাগুলোতে সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আবারও চালের দাম ৬০ টাকা হয়েছে। বলেছেন, বিনামূল্যে সার দেবেন, এখন সেই সারের দাম তিন গুণ আগের চেয়ে।’

শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে ‘তারেক রহমানের রাজনীতি এবং কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি টিচার্স (এগ্রিকালচারাল সায়েন্স)। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বড় গলায় বড় বড় অনুষ্ঠান করে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষকদেরকে সরকারি চিঠি পাঠায়, হাজির হতে হবে, না হলে সরকারি অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে, চাকরি চলে যাবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিঠি দেয়, হাজির না হলে পাঁচ/ছয় দিনের বেতন কাটা যাবে। বিশাল বিশাল সমাবেশ করতে লেক তৈরি করা হয়েছে। সেই লেকের পাশে স্টেজ নির্মাণ করে বুলেটপ্রুফ মঞ্চের মধ্যে বক্তৃতা দিয়ে এই কথা বলা হয় যে, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সমঝোতা নিয়ে প্রশ্ন ফখরুলের
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ‘সমঝোতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকার রোহিঙ্গা বিষয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে চুক্তি করে ফেলল মিয়ানমারের সঙ্গে, ভালো কথা। কিন্তু আমি পেলাম কী? কিছুক্ষণ আগে জানতে পারলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফিং করেছেন, ২০১৬ তে যারা আসলো শুধুমাত্র তাদের ফেরত নেবে। বাকিগুলোর ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতিসংঘকে সম্পূর্ণ বাইরে রেখে অন্যান্য দেশগুলো যারা ইন্টারেস্টেড তাদের বাইরে এই কাজগুলো করে আসলেন অতি দ্রুততার সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী একবারও মিয়ানমার, চীন, ভারত বা রাশিয়ায় গেলেন না এই জিনিসগুলো আমাদের পক্ষে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে। আমরা বার বার বলেছি, ডিপ্লোমেটিক এফোর্টের কথা। কিন্তু সেই এফোর্টগুলো আমরা দেখতে পেলাম না।”

‘উন্নয়ন ক্ষমতাসীনদের পকেটে’
দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তা শুধুমাত্র ক্ষমতাসীনদের পকেটে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘ডেভেলপমেন্ট কার হচ্ছে? ডেভেলমেন্ট আপনাদের হচ্ছে। উন্নয়ন হচ্ছে আপনাদের, গুটিকতক মানুষের। যারা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে একদিকে বিদ্যুৎ খাত থেকে লুটছেন, অন্যদিকে মেগা প্রকল্প, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেস ওয়ে ইত্যাদি করে লুটপাট করেছেন।’

‘উন্নয়নের কথা বলে তারা (ক্ষমতাসীন) তাদের পকেটের উন্নয়ন করছে। তারা নিজেদের বিত্ত তৈরি করছে, সেই বিত্ত তৈরি ছাড়া আর কিছু হচ্ছে না। কিছুদিন আগেও পত্র-পত্রিকায় সংবাদ বেরিয়েছে, বাংলাদেশে কিছু সংখ্যক মানুষ অনেক উন্নত হচ্ছে, তাদের বিত্ত বাড়ছে আর কিছু সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার আরো নিচে চলে যাচ্ছে,’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশাসন শেষ হয়ে গেছে। এখানে তাদের পছন্দমতো লোককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে এবং দলীয়করণ করা হচ্ছে সর্বক্ষেত্রে। বিচার বিভাগ শেষ করে ফেলেছে। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে মতের মিল না হওয়ায় তাকে প্রথমে এক মাসের ছুটি নিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং পরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে স্থায়ীভাবে চলে যেতে হয়েছে এবং তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।’

টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়, উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাসটেইনেবল ইকোনমিক ডেভেলমেন্ট হতে হলে সাসটেইনেবল ডেমোক্রেসি দরকার। সেজন্য সবার আগে দরকার একটা নির্বাচন। সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং তাতে সকল দলের অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। সেই নির্বাচনে অবশ্যই জনগণ অংশ নেবে এবং তারা যে রায় সেটা জনগণের সরকার তৈরি করবে।’

কৃষি উন্নয়নে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার নানা পদক্ষেপ এবং দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ইদ্রিস মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক তাহমেরী এস ইসলাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুজ্জামান কায়সার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন কচি, অধ্যাপক মো. মাহবুব আলম, অধ্যাপক আমীর হোসেন, অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক সিদ্দিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আবু তালেব, দেলোয়ার হোসেন টিটু, সামিউল ইসলাম, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, তৌহিদুল ইসলাম, এনামুল কাদির প্রমুখ।