৪ শিশুর মরদেহসহ বরিশালে ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধার, নিখোঁজ ১০

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে ডুবি যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চটি অবশেষে উদ্ধার হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’ লঞ্চটি পানির উপর টেনে তোলে। এ সময় লঞ্চের ভেতর থেকে ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এখনো ১০ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে।

নিহতরা হলেন- দাসেরহাটের মসজিদ বাড়ী এলাকার আ. মজিদের স্ত্রী রহিমা বেগম (৬০), বানারীপাড়ার সৈয়দকাঠীর আবুল ঘরামীর ছেলে মিলন ঘরামী (৪৫), সাতবাড়িয়া এলাকার আলম মীরের ছেলে সাগর মীর (২০), মজিবর রহমানের স্ত্রী কহিনুর বেগম (৪০), আ. মজিদ হাওলাদারের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৫৫), মসজিদ বাড়ী এলাকার মুজাম্মেল মোল্লা (৬০), মৃত চান্দু মিঞার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৪৫), জিরাকাঠীর আ. রহিমের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৩০) এবং উজিরপুরের সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে জয়নাল হাওলাদার (৫৫), সিদ্দিকুর রহমান মোল্লার শিশু মেয়ে শান্তা (১১), মনিন্দ্রনাথ মল্লিকের ছেলে সুখদেব মল্লিক (৩৫), কেশবকাঠী এলাকার মৃত ওয়াজেদ হাওলাদারের ছেলে ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আ. রাজ্জাক (৭৫), পিরোজপুরের স্বরুপকাঠীর কামাল হোসেনের স্ত্রী হিরা বেগম (২৫) ও মনোয়ারা।

বৃহস্পতিবার সকালে লঞ্চের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো-সাফওয়ান (৩), রিয়াদ (৪), মাফিয়া আকতার (৩) ও মাইশা (৪)।

বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। জাহাজটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই নিখোঁজদের স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। তবে লঞ্চ‌টি উদ্ধারে দেরি হওয়ায় বিক্ষোভ করেন নিখোঁজদের স্বজনরা।

বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. গাজী সাইফুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনকে প্রধান করে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়।

গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের দাসেরহাট মজিদবাড়ী লঞ্চঘাট এলাকায় এমএল ঐশী লঞ্চটি ডুবে যায়।

বেঁচে যাওয়া কয়েকজন যাত্রী জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বানারীপাড়া লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চটি ৪০-৫০ জন যাত্রী নিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা উজিরপুরের হাবিবপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লঞ্চটি সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত দাসেরহাট মজিদবাড়ী ঘাটে ভেড়ে। যাত্রী ওঠানামার একপর্যায়ে নদীতীরের একটি বিরাট অংশ ভেঙে লঞ্চের ওপর পড়লে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একদিকে কাত হয়ে তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায়। লঞ্চডুবির খবর পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া লঞ্চের নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে ১৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

You Might Also Like