২০১৮ সাল বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা, সংকট ও চ্যালেঞ্জ একটিই : সকল দলের অংশগ্রহণে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন

২০১৮ সালে সব সমস্যা সংকটরে বিষয় ছাড়িয়ে নির্বাচনিই হবে রাজনীতির প্রধান ইস্যু। খেটে খাওয়া মানুষ, ব্যবসায়ী বা রাজনীতির পর্যবেক্ষক বিশ্লেষকসহ সবাই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতিতে একটা গরম পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে মনে করছেন। জাতীয় রাজনীতি ও নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি আর আওয়ামী লীগ সমঝোতা করুক- নির্বাচনটা যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হয় – সেটা দেশের জনমানুষের প্রত্যাশা।

গত নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশ নেয়নি আওয়ামি লীগ, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নানা দ্বিমতের কারণে। দেশটির জনসংখ্যার একটি বড় অংশ মনে করে বিএনপি ঐ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করর প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে আওয়ামি লীগের অধিনে নির্বচন সুষ্ঠু হতে পারে না।

বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসা নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানালেন একজন কেমিস্ট মোঃ সাইদুল ইসলাম।

বাংলাদেশের জনগণ মনে করেন, বিএনপিকে অবশ্যই সামনের নির্বাচনে আসতে হবে। সেজন্য এই সময়ের মধ্যে নিজেদের আভ্যন্তরীণ বিভেদ ভুলে দলের সাংগঠনিক শক্তি –সমন্নয়তা বাড়িয়ে জনসমর্থন অর্জন এবং জনগণকে ইজ্জীবিত করতে হবে। তবেই জনগণকে নিয়ে রাজপথ থেকে নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা যাবে। বিরোধী দল বলতে দেশে মূলত বিএনপিকেই বুঝায়। দুই দল যদি একত্রে বসে সমঝোতায় আসে সেটা দেশের জন্যেই ভালো।

এখন সারা বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের হাওয়া বইছে। বাংলাদেশও। এখন বাংলাদেশকেও অর্থনৈতিক দিক থেকে অনগ্রসর থাকার উপায় নেই। দেশটিতে একশ্রেণীর রাজনীতিক, আমলা ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এত দুর্ণীতির পরও অর্থনীতি, কৃষি, বাণিজ্যে উন্নয়নের উজ্জল সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই মুহূর্তে আবার যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় তাহলে দেশটির জনগণই ভুক্তভোগী হবে।

কিন্তু নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে হলে, তার পরিবেশ তৈরিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগেরই দায়িত্ব বেশি মনে করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। আর এই মেরামতের কাজটা আওয়ামী লীগকেই করতে হবে। দেশটিতে বর্তমানে যে `autocracy pattern’ শাসন,  দেশ চালনায় অটোক্রেসী কালচার তৈরি হতে যাচ্ছে সে মুহূর্তে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে নানা রকম চ্যালেঞ্জ আছে বলে একজন প্রবাসী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মত প্রকাশ করেছেন। এই পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে দেশটিরটির সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

নির্বাচনের জন্য সময় বাকী আছে এক বছরেরও কম। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েই এখনো বিপরীত অবস্থানে আছে বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। সরকারি দল ও সরকারের দায়িত্বশীল লোকেরা বিএনপি নির্বাচন থেকে দূরে থাকুক এই মিশন নিয়েই নেমেছেন, তাদের বক্তব্য শুনে বিশ্লেষকগণ এমনটিই মনে করেন।

সুবিধাভোগি নন এমন প্রবাসি আওয়ামি নেতা কর্মিরাও মনে করেন আগামি নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে দেশে বিদেশে গ্রহণযোগ্য না হলে বাংলাদেশ চূরান্তভাবে ভাবমূর্তির সংকটে পড়বে। সর্বোপরি আওয়ামি লীগ দলটির জন্যও অপেক্ষা করবে খারাপ পরিণতি। সব মিলিয়ে আগামি নির্বাচনটিকে সর্বোতভাবে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করা যেমন আওয়ামি লীগের দায় বেশি, তেমনই দেশটিকে সঠিক ট্রেকে ও ভাবমর্যাদায় পুন: প্রতিষ্ঠা করার দায়-দায়িত্ব রয়েছে প্রধান বিরোধিদল বিএনপি ও দেশটির জনগণের।

You Might Also Like