১৯ জানুয়ারি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী

১৯ জানুয়ারি, মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৭৯তম জন্মবার্ষিকী।

দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। এ উপলক্ষে বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুষ্পস্তবক অর্পন ও দোয়া-মোনাজাত করবে বিএনপি। এ সময় দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

প্রেসিডেন্টে জিয়াউর রহমানের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে যুগান্তকারী অবদানের জন্য জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে তাকে স্মরণ করবে।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ক্ষণজন্মা এ মহাপুরুষ। পিতা মনসুর রহমান ও মাতা জাহানারা খাতুন ওরফে রানীর পাঁচ সন্তানের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়।

জিয়াউর রহমানের পিতা কলকাতা শহরে এক সরকারি দপ্তরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার শৈশবের কিছুকাল বগুড়ার গ্রামে ও কিছুকাল কলকাতা শহরে অতিবাহিত হয়। ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়ার পর তার পিতা পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি শহরে চলে যান। তখন জিয়া কলকাতার হেয়ার স্কুল ত্যাগ করে করাচি একাডেমি স্কুলে ভর্তি হন। ওই স্কুল থেকে তিনি ১৯৫২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ১৯৫৩ সালে করাচিতে ডিজে কলেজে ভর্তি হন। একই বছর তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানের বর্বর হানাদার বাহিনী যখন নিরীহ বাঙালির উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠে, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এ মহানায়ক। চট্টগ্রাম থেকে বেতারে প্রচারিত তার এ ঘোষণায় মুক্তিকামী জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও আশান্বিত করে তোলে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জেড ফোর্সের প্রধান ছিলেন জিয়াউর রহমান।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করে।

এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদলীয় বাকশাল সরকারের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ পাল্টা অভ্যুত্থানে ঘোষণা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। জাতির সেই ক্রান্তিকালেও ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন জেনারেল জিয়াউর রহমান। সেনাপ্রধান হিসেবে তার সে দুর্দান্ত সাহসী ভূমিকা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে নয়, বংলাদেশের সেনাবাহিনীকেও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিল।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ক্ষমতায় এসেই জিয়াউর রহমান বিগত সময়ে শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশালী শাসনের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশে একদলীয় বাকশালী শাসনব্যবস্থা বাতিল করে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। সব রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেন। জিয়াউর রহমানের আমলেই দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে ঢাকা ফিরে এসে দেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।

তার উদ্যোগেই ১৯৭৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ছোট-বড় সব দল। সংবিধানে শুরুতে  ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ এবং রাষ্ট্র ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস যুক্ত করেছিলেন তিনিই।

মাত্র তিনি বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে তিনি দেশের কৃষি, শিক্ষা, শিল্পসহ সকল ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ দুর্ভিক্ষের রাষ্ট্র থেকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করে। শিল্প ক্ষেত্রে তিনিই প্রথম বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের গোড়াপত্তন করেন। বৈদেশিক যোগাযোগ ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সার্ক গঠন করেছিলেন।

দেশ ও জাতি গঠনে জিয়াউর রহমানের এসব অবদান ইতিহাসে উল্লেখ থাকবে। তিনি জাতির মধ্যে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

You Might Also Like