১৮ জনকে অস্ট্রেলিয়ায় পাচারের চেষ্টাকালে তিনজন গ্রেফতার

রাজধানীর দক্ষিণখান ও ফকিরাপুলে পৃথক অভিযান চালিয়ে মানবপাচারের অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি শেখ নাজমুল আলম। গ্রেফতারকৃতরা হলেন; দক্ষিণখানে গোলাম রব্বানী, শাহাদাৎ হোসেন ওরফে মাসুদ এবং ফরিকাপুলে শফিকুল ইসলাম। এ সময় দক্ষিণখানের আশকোনা বাজারে হোটেল ডিরিফাজ থেকে ১৮ ভিকটিমকে উদ্ধার করে গোয়েন্দারা। এছাড়া হোটেল থেকে বেশ কিছু পাসপোর্টসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়। রোববার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তিনি জানান, ভুক্তোভোগীা কবির আহম্মেদের অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম আশকোনায় হোটেল ডিরিফাজে অভিযান চালিয়ে মানবপাচারের অভিযোগে ওই দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধভাবে মানবপাচারের সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ‘জিএলসি প্রাইভেট লিমিটেডের’ এমডি মাহামুদুর, ম্যানেজার বাবুল হোসেন, ক্যাশিয়ার মাহফুজুর রহমান, মাহাবুব ও ওবাইদুর পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘প্রতারকরা ভিকটিমদের মোটা অঙ্কের বেতনে প্রলোভন দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দ্বীপরাষ্ট্র পালাউতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে জন প্রতি সাত লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেয়। কিন্তু পালাউ যেতে ভিসা লাগেনা। পোর্ট এন্ট্রি দিয়ে ওই দেশে প্রবেশ করা যায়। দালালরা পোর্ট এন্ট্রির মাধ্যমে পালাউতে ঢুকে ওখানে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করে তাদের লোকজনের মাধ্যমে নৌকা যোগে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে।

নাজমুল আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিম কবির ও অন্যান্যরা জানান যে, গোলাম রাব্বানী ও শাহাদৎ এর মাধ্যমে তারা পালাউদেশ সম্পর্কে জানতে পারে। পরবর্তীতে শাহাদৎ হোসেনের মাধ্যমে মালিবাগের জিএলসি প্রাইভেট লিমিটেডর এমডি মাহামুদুর রহমানের সাথে তাদের পরিচয় হয়। মাহামুদুর রহমান তাদের উচ্চ বেতনে পালাউ দেশে চাকরি প্রলোভন দেখায় এবং তাদের কাছ থেকে জন প্রতি ৭ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেয়। তাদের চাহিদা মত টাকা পরিশোধ করার পরও বার বার পালাউ দেশে পাঠানোর তারিখ নির্ধারণ করেও পাঠায়নি। অবশেষে গত রোববার ভিকটিমদের ‘পালাউ’ পাঠানো জন্য ওই হোটেলে উঠায়। কিন্তু এর মধ্যে ৫ জনের ফ্লাইটে সময় শেষ হয়ে গেলেও তাদের না পাঠানোয় ভুক্তোভোগীদের মধ্যে সন্দেহ হয়। তখন কবির বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশে অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ওই দুই জনকে গ্রেফতার করে।

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের অপর একটি টিম ফকিরাপুলের ‘জি ন্যাট টাওয়ারের’ পিছনের একটি বাড়ি থেকে শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দারা। তাকেও ভুক্তোভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

ডিসি নাজমুল আলম বলেন, ‘এ দুইটি ঘটনায় দক্ষিণখান ও মতিঝিলে পৃথক দুইটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

এ চক্রের সাথে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের গ্রেফতার করে আইনে আওতায় আনা হবে বলে জানান ডিসি।

You Might Also Like