১৫ বছরে ইসরাইলি নৃশংসতায় ২০০০ ফিলিস্তিনি শিশু শহীদ

গত ১৫ বছরে দখলদার ইহুদিবাদী সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইসরাইলিরা প্রায় ২০০০ ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে।

এই তথ্য দিয়েছে ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইন (DCIP) নামের একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা।

সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে অধিকৃত পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস বা পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জমির ওপর ইসরাইলি জবরদখল ও অবৈধ বসতি নির্মাণের ইসরাইলি নীতির নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এর ফলে ফিলিস্তিনি পরিবার ও শিশুরা ইসরাইলি দখলদারদের শত্রু হয়ে উঠছে।

জেনেভা-ভিত্তিক এই সংস্থা আরও বলেছে, ইসরাইল অবৈধ বসতি বাড়াতে থাকায় ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য গভীর সামরিক পরিবেশ গড়ে উঠছে এবং ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা এই শিশুদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত সহিংসতা চালাচ্ছে।

ডিসিআইপি আরও বলেছে, কেবল গত বছরই পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসে ১২ ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। আর তাদের বেশিরভাগই নিহত হয়েছে ইসরাইলি সেনাদের গোলা-বারুদের আঘাতে। নিহত এইসব ফিলিস্তিনি শিশুর কেউই ইসরাইলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল -এমন কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালে কেবল গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত হয়েছে ৫৭৭ ফিলিস্তিনি শিশু। নিহত এই শিশুদের ৬৮ শতাংশেরই বয়স ছিল ১২ বছরেরও কম। গাজায় গত বছরের ইসরাইলি হামলায় শহীদ হন প্রায় দুই হাজার ২০০ জন ফিলিস্তিনি। এ ছাড়াও আহত হন ১১ হাজার ১০০ জন। আহতদের মধ্যে রয়েছে ৩৩৭৪ শিশু , ২০৮৮ নারী ও ৪১০ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল ১৯৬৭ সালের পর থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনে গড়ে তুলেছে ১২০টি অবৈধ উপশহর বা কলোনি এবং এইসব বসতিতে বসবাস করছে ৫ লাখেরও বেশি বহিরাগত ইহুদিবাদী।

জাতিসংঘের ইশতিহারে ১৯৬৭ সালে দখলকৃত সব ফিলিস্তিনি অঞ্চল ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে ইসরাইলকে। কিন্তু ইসরাইল নিরাপত্তা পরিষদের এই ইশতিহারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো অব্যাহত রেখেছে।

পিএলও’র সমর্থক ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর, পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস ও গাজাকে নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। অন্যদিকে হামাস ও জিহাদের সমর্থক ফিলিস্তিনিরা গোটা ফিলিস্তিন থেকে ইসরাইলি জবরদখলের অবসান ঘটাতে চায়। আর তা কেবল অবৈধ ইসরাইলকে পুরোপুরি উচ্ছেদ করা ছাড়া সম্ভব নয়।

You Might Also Like