হোম » ‘হ্যাঁ’ শুনেই ছেলেটি কয়েক ফুট লাফিয়ে উঠল : ঐন্দ্রিলা

‘হ্যাঁ’ শুনেই ছেলেটি কয়েক ফুট লাফিয়ে উঠল : ঐন্দ্রিলা

ঢাকা অফিস- Wednesday, February 14th, 2018

আমি প্রথম লাভ লেটার পাই ক্লাস ওয়ানে, প্রথম ‘আই লাভ ইউ’ শুনি প্লে গ্রুপে থাকতে। যদিও তখন কাউকে ‘লাভ ইউ’ বলার প্রচলন খুব বেশি ছিল না। প্রেমের প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’-এর বিষয়টি বেশি প্রচলিত ছিল। প্রেমের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’, ‘না’-এর ঘটনা আমার জীবনে একটিই ঘটেছিল।

যে ছেলেটির সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছিল, সেই ছেলেটি আমাদের ফ্যামিলি ফ্রেন্ড ছিল। আমরা ছোটবেলায় একসঙ্গে খেলাধুলা করতাম। একসঙ্গে বাইরে ঘুরতে যেতাম। ওদের পরিবারের সদস্যরাও আমাদের বাসায় যাতায়াত করত। আমরা একই সঙ্গে বেড়ে ওঠেছি। ছেলেটি আমাকে পছন্দ করে তা আমিও বুঝতাম তবে চুপচাপ থাকতাম। তা ছাড়া বাইরের অন্য ছেলেদের সঙ্গে মেশার তেমন সুযোগ ছিল না। আব্বু আমাদের খুব আগলে রাখতেন-

আমি তখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। ছেলেটি তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। একবার ঈদুল ফিতরে ছেলেটিসহ অনেক আত্মীয়-স্বজনই আমার এক বেস্ট ফ্রেন্ডের বাসায় যাই। খাবার খাওয়া শেষ হলে অন্য সবাই পাশের রুমে আড্ডা দিচ্ছিল। এক রুমে আমি আর ছেলেটি বসে কথা বলছিলাম। একপর্যায়ে ছেলেটি আমাকে বলে, ‘আমি যে, তোমাকে পছন্দ করি, লাভ করি সেটা কি তুমি বোঝ?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, বুঝি।’ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ছেলেটি বলে, ‘তুমি কি ভয় পাচ্ছ?’ জবাবে আমি বলি, ‘না’। ছেলেটি বলে, ‘তবে তোমার চেহারা এমন বদলে গেল কেন?’

তারপর আমার মতামত জানতে চাইলে আমি বলি, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই।’ এ কথা শুনে ছেলেটি বলে, ‘তবে কি তুমি আমাকে পছন্দ করো না?’ আমি বলি, ‘করি’। এরপর ছেলেটি জানতে চায়, আমি তাকে কেমন পছন্দ করি। লাভ করি কি না? জবাবে বলি, ‘তা আমি বলতে পারব না’। এমনভাবে কিছুক্ষণ কথা চলতে থাকে।

আমার যে বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল সেও আমার ফ্যামিলি ফ্রেন্ড। তবে ছেলে বন্ধু না, বান্ধবী। ছেলেটির সঙ্গে আমার অন্য বন্ধুদেরও যোগাযোগ ছিল। আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের সঙ্গেও ছিল। আমি যেখানেই যেতাম সেখানেই ছেলেটির উপস্থিতি দেখতে পেতাম। তার মানে বন্ধুরা পরিকল্পনা করেই যেত। যাই হোক, আমার মতামত জানতে চাওয়ার পর আমি বলেছিলাম, আমার বান্ধবীর সঙ্গে আগে একা কথা বলব। এরপর বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে বারান্দায় চলে আসি। ছেলেটি তখন রুমের ভেতরে ছিল। আমার বান্ধবী বলল, ‘ছেলেটি দেখতে সুন্দর। আমার মনে হয় তোর হ্যাঁ বলা উচিৎ।’ আমার বান্ধবীর ইতিবাচক সাড়া পেয়ে আমিও রাজি হয়ে যাই। কারণ আমিও তো ছেলেটিকে পছন্দ করি। আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি, খেলাধুলা, দৌড়া-দৌড়ি সব একসঙ্গে করেছি। আর ছেলেটির বাবা-মাও আমাকে খুব পছন্দ করত। সবকিছু মিলিয়ে রাজি হই। পরে আমি বারান্দা থেকে ছেলেটিকে বললাম ‘হ্যাঁ।’ আমার এ কথা শুনেই ছেলেটি ইয়াহু বলে কয়েক ফুট লাফিয়ে উঠল। এ অবস্থা দেখে আমিও হাসতে লাগলাম।

তখন সিডি ছিল না। ক্যাসেট প্লেয়ারে গান শুনতে হতো। ছেলেটি আমাকে অনেক ক্যাসেট গিফট করত। আমরা যোগাযোগের জন্য টিএনটি ফোন ব্যবহার করতাম। কিন্তু মুশকিল ছিল ছেলেটি তো ফোন করে বাবা-মাকে বলতে পারত না আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। তাই আগে একটি মিসড কল দিত। মিসড কল পেলেই বুঝতে পারতাম এটা কার ফোন। আমি চলে আসতাম ফোন সেটের কাছে। আবার কল আসা মাত্রই ফোন রিসিভ করতাম। আমাদের দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ কম ছিল। তখন সময়টা বর্তমান সময়ের মতোও ছিল না। ইচ্ছে করলেই বাইরে গিয়ে দুজনে ঘুরব এমনটা কঠিন ছিল।

আমাদের সম্পর্কটা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। আমি যখন দশম শ্রেণিতে পড়ি তখন ছেলেটি পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে চলে যায়। এরপর আমি কম্পিউটার কিনি। ইন্টারনেটে ই-মেইল আদান-প্রদানের মাধ্যমে আমাদের যোগাযোগ হতো। বাসায় টিএনটি ফোন ছিল কিন্তু আইএসডি কল বলে ততটা ফোন ব্যবহার করতে পারতাম না। তারপর ফোনে যোগাযোগ হতো। এভাবে কয়েক বছর আমাদের যোগাযোগ হয়। অনার্সে ওঠার পর দেখলাম ফোন আসা কমে গেছে, এরপর আস্তে আস্তে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।