হোয়াইট হাউজে ইফতার পার্টি : রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দীনের অংশগ্রহণ

প্রথমবারের মত যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ইফতার পার্টির আয়োজন করেন এবং এই ইফতার পার্টিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কূটনীতিকদের সম্মানে গত ৬ জুন বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে প্রথমবারের মত এই ইফতার পার্টির আয়োজন করেন। ইফতার পার্টিতে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে একই টেবিলে বসে ইফতার ও রাতের খাবার গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে বিভিন্ন কুশলাদি বিনিময় করেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আয়োজিত হোয়াইট হাউজের এই ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিল না বেশ কয়েকটি শীর্ষ আমেরিকান মুসলিম সংগঠন। এছাড়া এ সময় হোয়াইট হাউজের সামনেও বিক্ষোভ করেছেন অনেকে। জানা যায়, ট্রাম্প আয়োজিত ইফতার পার্টিতে প্রায় ৫০ জন অতিথি অংশ নেন। এর মধ্যে ছিলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতেরা। একই সঙ্গে এই ইফতারের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউজের বাইরে প্রতিবাদ করেছেন কয়েক ডজন আমেরিকান মুসলিম। তারা হোয়াইট হাউজের বিপরীতে অবস্থিত লাফায়েত্তে পার্কে বিকল্প ইফতারের আয়োজন করেন।
ট্রাম্প প্রশাসন থেকে ইফতারে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন, ট্রাম, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন ও ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার। ইফতারে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত জর্ডানের রাষ্ট্রদূত দিনা কাওয়ারের পাশে বসেন ট্রাম্প। অন্যান্য আরব দেশের মধ্যে সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, তিউনিসিয়া ও ইরাকের রাষ্ট্রদূতেরা ইফতারে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প অনুষ্ঠানের সূচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ দিয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থার প্রশংসা করে। তিনি বলেন, ইফতারে পরিবার ও বন্ধুরা এক হয় শান্তি উদযাপনের জন্য।
ট্রাম্প বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলেই কেবল আমরা সবার জন্য নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ অর্জন করতে পারবো। তিনি বলেন, এই কারণে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম সফর মুসলিম বিশ্বের প্রাণকেন্দ্রে হওয়াতে আমি গর্বিত। সেখানে আমি পঞ্চাশটিরও বেশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতাদের সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছি। এটা ছিল অনেক বড় বিষয়।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সর্ব প্রথম সৌদি আরবে সফর করেছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের ইফতার আয়োজনে অংশ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো শীর্ষ মুসলিম সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে, ইসলামিক সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা ও দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস। তারা আয়োজনটির সমালোচনা করে বলেন, এতে আমেরিকান মুসলিমদের চেয়ে বিদেশী প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল বেশি। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। পাশাপাশি তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় করা মুসলিম বিদ্বেষী মন্তব্যগুলোর বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।

You Might Also Like