হোম » হিজাব বনাম আধুনিকতা

হিজাব বনাম আধুনিকতা

এখন সময় ডেস্ক- বুধবার, মার্চ ১, ২০১৭

মনসুর আহমদ
উপরোক্ত বিষয়ের উপরে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই আমাদেরকে জেনে নিতে হবে আধুনিকতা বলতে কী বুঝায়। মানুষের চিন্তা- ভাবনা , শিল্প-সংস্কৃতি, শিক্ষা-প্রযুক্তিতে এক কথায় সমাজ জীবনের সমস্ত চালিকা শক্তিতে অগ্রগতি ও উন্নতি আধুনিকতার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যাকে অমরা আধুনিকতা বলে থাকি সেই “আধুনিকতা ধর্ম এবং তার সকল আধ্যত্মিক মূল্যবোধের বিরূদ্ধে একটা প্রচ- বিদ্রোহ। ইউরোপীয় রেনেসাঁ বিশেষ করে মেকিয়াভেলির নীতিজ্ঞান শূন্য রাজনৈতিক দর্শনে এই বিদ্রোহের বীজ অঙ্কুরিত হয়। ১৮ শতকের আলোক প্রাপ্ত ফরাসী দার্শনিকদের হাতে এর পূর্ণ বিকাশ ঘট এবং ১৯ শতকে ইউরোপের ডারউইন, মার্কস এবং ফ্রয়েডের হাতে তা সর্বোচ্চ সীমা প্রাপ্ত হয়। পশ্চিম ইউরোপর জন্ম স্থান থেকে এই দুষ্ট ক্ষত বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে হামলা চালিয়ে দেশীয় সংস্কৃতি ধ্বংস করেছে। বস্তুতঃ এটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, সর্বব্যাপী এবং সার্বজনীন বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। যারাই এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে তাদেরকে আলোক প্রাপ্ত এবং প্রগতিশীল বলে অভিনন্দিত করা হয়েছে। অপর দিকে যারা অনীহা দেখিয়েছে, তাদেরকে অনগ্রসর, মধ্যযুগীয় এবং প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে কোন ঠাসা করা হয়েছে। (ইসলাম এন্ড মডার্নিজম)

বর্তমানে আমরা দূষিত চিন্তায় আবিষ্ট হয়ে বর্তমান বিশ্বের নব নব সংস্কৃতি, আচার-ব্যবহার, রাজনীতি ও সমাজ নীতি তা মানবতার জন্য কতটুকু কল্যাণকর বা কতটুকু ক্ষতিকর না ভেবে তাকে আধুনিক আখ্যায়িত করে সেদিকে হুমড়ি খেয়ে পড়ছি। সে কারণে আমরা আধুনিক ইসলাম, মডারেট ইসলাম ও লিবারেল ইসলাম পর্যন্ত বিভিন্ন বিশেষণ যুক্ত করে ইসলামকে ব্যবহার করছি। বর্তমান বিশ্বের সব কিছুকে আধুনিক ভেবে গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহশীল হয়ে পড়েছি। যা মানুষের জন্য অকল্যাণকর তাকে আধুনিকতার দোহাই দিয়ে গ্রহণ করে চলছি।
এমন একটি বিষয় হিজাব, যাকে ব্যাক ডেটেড বলে উন্নতির অন্তরায় অবহিত করে তাকে অবজ্ঞা করছি, পরিত্যাগের জন্য সমাজে ব্যাপক প্রচেষ্ট চালাচ্ছি। অথচ আল্লাহ্ হিজাবকে নারী পুরুষের জন্য অত্যন্ত জরুরী করে দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে- ওয়া ইযা সাআল্তুমুহুন্না মাতায়ান্ ফাস্আলু হুন্না মিন্ ওয়ারায়ে হিজাবেন, জালিকা আৎহারু লিকুলুবিকুম, ওয়া কুলুবি হিন্নাৃ (আল-আহজাব-৫৩) Ñতোমরা তার পতœীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। এ আয়াত থেকে আন্তরিক পবিত্রতা ও মানসিক কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য পুরুষ ও নারীর মধ্যে পর্দার ব্যবস্থা করা জরুরী মনে করা হয়েছে।
অন্য যায়গায় বলা হয়েছে- হে নবী, আপনি বিবি কন্যা ও মুসলমান নারী জাতিকে বলে দিন, তারা যেন চাদর দিয়ে মুখমন্ডল আবৃত রাখে। এর দ্বারা তাদের চিনতে পারা যাবে বলে আশা করা যায় এবং ফলে কেউ তাদের বিরক্ত ও উত্ত্যক্ত করবে না। (সূরা: আহ্যাব-৫৯)
আধুনিক জ্ঞান ভান্ডার কোরআনে বলা হয়েছে হিজাবের কথা। এই হিজাবকে যারা সেকেলের এবং সমাজ সভ্যতার উন্নতি ও প্রগতির অন্তরায় মনে করেন তারা বিষয়টিকে গভীর ভাবে দেখার সাহস ও যোগ্যতা রাখেন না। সত্যিই কি হিজাব প্রগতির অন্তরায়? নয়, বরং মানব সভ্যতা ও সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। কোরআনের বিধানাবলীকে যারা ব্যাক ডেটেড বলে মনে করে থাকেন তাদের মনে রাখা প্রয়োজন কোরআন আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান ও বিধানাবলীর সর্বাধুনিক জ্ঞান ভান্ডার।
আধুনিতকতার সর্বোত্তম ব্যাখ্যা প্রদান করতে গিয়ে কোরআনে এরশাদ হচ্ছেÑআল্লাহু নাঝ্ঝাালা আহসানাল হাদিসে কিতবাম্ মুতাশাবেহাম্ মাছানিয়াৃ (যুমার-২৩)
“আল্লাহ্ নাজিল করেছেন এক আধুনিক বই মহাবাণীর, সামঞ্জস্যপূর্ণ কিতাব পঠিত হয় যা বারংবার।”
“হাদিস” কোরআনের একটি ব্যাপক পরিভাষা। এর এক অর্থ কথাবার্তা, রাসূলের বাণী, আর এক অর্থ নতুন ঘটনা বা আধুনিক ঘটনা। যেমন হাদিছুস- সানে অর্থ নব্য যুবক। তাই এ আয়াত থেকে এ দাবী করা যৌক্তিক নয় যে কোরআন মহৎ বাণী পূর্ণ একখানা আধুনিক কিতাব। আজ যা আধুনিক কাল তা সেকেলের, কিন্তু কোরআন সর্বকালের সর্বস্থানের জন্য আধুনিক। তাই আধুনিকতার ছায়তলে আশ্রয় খোঁজার উপযুক্ত স্থান মহাপবিত্র আল কোরআন। আসলে আল্লাহ্র তরফ থেকে আগত সকল বিধানই চির আধুনিক ও শাশ্বত। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিব্র“ ভাষা বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রাব্বি আব্রাহাম আইজ্যাক ক্যাটস ১৯৫৪ সালে এক ভাষণে বলেন, হযরত মূসা (আঃ) যে একত্ববাদ প্রচার করেছেন এবং সিনাই পর্বতে তার ওপর যে সব ওহি নাজিল হয়েছে, সেগুলো সকল উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে অপরিহার্য।
এ বিধান কে অগ্রাহ্য করার কারণে সমাজ-সংস্কৃতি ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। ধর্ষণের মতো ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনা শুধু যে ভারত বাংলাদেশে ঘটছে তা ই নয়। অন্যান্য দেশেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলছে। আজ এই অমানবিক অশ্লীল কাজটির মহোৎসব চলছে বিশ্বময়। এফবি আই ইউনিফরম রিপোর্টস ১৯৮১ তে প্রকাশ হয়েছে আমেরিকায় এক বছরে নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৮১,৫৩৬ টি। এফবি আই- এর মতে এই তথ্যই পরিপূর্ণ নয়। বরং ধর্ষণের অপ্রকাশিত সংখ্যা হবে কমপক্ষে এর দশ গুণ।
১৯৯২ সালের ২৪ এপ্রিল রয়টার পরিবেশিত সংবাদ-এ প্রকাশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৯শত মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়, ১৯৯৪ সালে ২লাখ ৭ হাজার ৬১০ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯৩ সালে আমেরিকায় দেড় লাখের বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়, ১৯৯৪ সালের ২৫ জুলাই ইউএসআই এর পরিবেশিত খবরে প্রকাশ, এই আমেরিকায় প্রায় সেকেন্ডে একজন মহিলা ধর্ষিতা হয়।
ইটালীতে প্রতি ঘন্টায় একজন মেয়ে তার সতীত্ব হারাচ্ছে। ১৯৯৫ সালে ফ্রান্সে গঠিত মেডিকেল বোর্ড ঘোষণা করছে যে সে দেশে একজনও সতী নারী নেই। Review Burean of Police Research and Development থেকে পাওয়া এক তথ্যে জানা যায়, ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত এই দশ বছরে সেখানে নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে যথাক্রমে ৩৮৯৩, ৬২০৩, ৪০৫৮, ৪৫৫৮, ৪৩০০, ৫০২৩, ৫৪০১, ৫৪২৭, ৫২৯৮, ৬২০৩, ৬৩৫৬টি।
বৃটেনের অবস্থাও এমন, বিলেতের ‘নাইনটিন’ নামের একটি ম্যাগাজিনে ১৯৮০ সালে ১০ হাজার বিলাতি মেয়ের উপর জরিপ চাালিয়ে বড়ই দুঃখের সাথে বলছে, এ সমাজে কুমারী কনে পাওয়া অত্যন্ত দুর্লভ। ১৯৫৯ সালের ১৭ই ডিসেম্বর এএফবি এর খবরে প্রকাশ, লন্ডনের ক্যান্টবেরী কাউন্সিলের স্বাস্থ্য দফতরের মেডিকেল অফিসার ডা. জেএ স্কট বিবৃতি প্রদান করেছেন যে, লন্ডনে ১০% অবৈধ সন্তান জন্মগ্রহণ করে এবং অবৈধ জন্মহার ক্রমেই বেড়ে চলছে।
যে মানব সভ্যতা ও নারী সমাজের অত্যন্ত প্রয়োজন তা ফুঠে উঠেছে অনেক আধুনিকী নারীদের কথায়। যেমন -জার্মান যুবতী তানিয়া পোলিং মনে করেন, মুসলিম নারীর হিজাব যেন অন্যদের এটা বলছে যে “আমি নিজেকে অন্যদের কাছে প্রদর্শন করতে চাই না। এ আধুনিকা নারী বলেন, আমি এই বাস্তবতা বুঝতে পেরেছি যে, ইসলাম নারীকে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে তাদের মহৎ প্রকৃতি ও আত্মার কারণে, শরীরের কারণে নয়। হিজাব নারীর জন্য আত্মিক ও মানসিক অনেক কল্যাণ বয়ে আনে। এ ছাড়াও সামাজিক পরিবেশকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব রয়েছে হিজাবের। এ ভাবে হিজাব পারিবারিক বন্ধন ও পরিবারের ভিত্তিগুলিও মজবুত করে”
মেক্সিকান বংশোদ্ভূত আমেরিকান এক আধুনিকী নারী এলিজাবেদ ভ্যালেনসিয়া। তিনি তার ইসলাম গ্রহণের এক প্রসঙ্গে বলেন, আমি স্কুলে গিয়ে মুসলমান ছাত্রীর সাক্ষাত পেলাম। তাদের অনেকেই মাথায় হিজাব ব্যবহার করতো।’ কউ কেউ করত না। আমি দ্রুত নামাজ রোজা সহ শরীয়তের বিধানাবলী শিখতে আরম্ভ করলামৃ স্কুলে এবং বাসায় ও হেজাব ব্যবহার করতে শুরু করলাম। একদিন বাসায় বাবা আমাকে হিজাব পরা দেখে ফেললেন। আমি তো ভয়ে অস্থির। হঠাৎ প্রাণে সাহস সঞ্চার হলো। আমি বাবাকে বললাম- আমি মুসলমান। আল্লাহর হুকুম মানার জন্যই এটা ব্যবহার করছি। বাবাও বললেন- সত্যিই তোমাকে স্মার্ট লাগছে। আসলে কোরআনের বিধান হিজাব সমাজের ও নারীদের মঙ্গলের জন্য দেয়া হয়েছে। এডমন্ড বার্ক তাইতো বলতে বাধ্য হয়েছেন, “এ কোরআন এমন এক বিধান যার মধ্যে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা প্রজ্ঞাপূর্ণ, সর্বাপেক্ষা জ্ঞানময় এবং সর্বাপেক্ষা মহামান্বিত ব্যবহার শাস্ত্রের সমন্বয় সাধিত হয়েছে।”
আল্লাহ্ প্রদত্ত হিজাব বিধান যে মানবতার কল্যাণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন তা আধুনিক পশ্চিমা জগতের মহিলাগণ খোলা মনে স্বকিার করছেন। মানব প্রকৃতি বিশেষজ্ঞ মিসেস হাডসন বলেন,“ আমাদের সভ্যতার দেয়াল গুলি ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে, এর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এর কড়িকাঠ বেঁকে যাচ্ছে। জানি না, এগোটা ইমারত কবে মাটিতে মিশে যাবে? বিগত কয়েক বছর ধরেই আমরা দেখে আসছি মানুষ নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলতে আগ্রহী নয়। তার টিকে থাকার একটি মাত্র পথ অবশিষ্ট আছে। তা হলো , নারী ও পুরুষের অবাধ মেলা মেশার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। ।”
হিজাব কোন কালেই নারীদের শিক্ষ- সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও সামজিক কাজে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি। ইসলামের প্রথম যুগে দেখেছি হজরত আয়েশা (রাঃ)কে।
তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা দুই হাজার দুই শত দশটি। তিনি নবী (সঃ) এর ইন্তেকালের পর প্রায় পঞ্চাশ বছর জীবিত ছিলেন। মানুষ তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে ও শুনতে পেরেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার (রঃ)অনেক স্থানে হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানার্জনকারী আটাশি জনের নাম উল্লেখ করার পরে লিখেছেন যে, এ সব ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও বিরাট সংখ্যক লোক তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। এ ভাবে হযরত সাফিয়া (রাঃ), হযরত উম্মে সালমা, হযরত ফাতেমা বিনতে কয়েসের কাছ থেকে সকালীন বহুত পন্ডিত ও হাদিস বিশারদ হাদিস বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করেছেন। এভাবে আমেরা বিনতে আবদুর রহমান, সাইয়েদা নাফিসা সহ বহুত পর্দানসীনা মহিলা শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রেখে গেছেন।
আমরা দেখেছি যুদ্ধ ক্ষেত্রে মহিলা সাহাবা উম্মে আমারা, আসমা বিনতে ইয়াযিদ, হযরত উম্মে সুলাইম, উম্মে হারেসা সহ প্রচুর নারীদেরকে। হিজাব তাঁদের এসব জিহাদে অংশ নিতে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি।
উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগেও পর্দানশীন মহিলারা শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সামাজিক ক্ষেত্রেও উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা রেখে গেছেন। আব্বাসী খলিফা হারুন- আর রশিদের স্ত্রী বেগম জোবায়দা ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেক মসজিদ রাস্তাঘাট এবং কূপ খননে অর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
নহরে জোবায়দার নাম আজও জগতের সকলের মুখে মুখে। উসমানী সুলতান সোলাইমানের স্ত্রী হুররেম সুলতান বিভিন্ন হাসপাতাল পাবলিক টয়লেট, গোসলখানা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা করার অনুদান দেয়ার পাশা পাশি অসংখ্য মাদ্রাসাতে ও আর্থিক সাহয্য দেন। দামেস্কে আইয়ুবী শাসনামলে(১১৭৪-১২৬০) নারীরা ২৬ টি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ করেন।
মুসলিম বিশ্বজুড়ে নারীরা মসজিদে বক্তৃতা দিতেন, মাদ্রাসায় যেতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজরাই শিক্ষকতা করতেন। দ্বাদশ শতাব্দীর স্কলার ইবনে আসাকির জ্ঞান অন্বেষণে প্রায় ৮০ নারী স্কলারের অধীনে জ্ঞানার্জন করেন। ৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে মরক্কোর ফেস নগরীতে মুসলিম বিশ্বের সর্ব প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক মাদ্রাসা “ আল কারওয়ানি বিশ্ববিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করেন ফাতিমা আল ফিহরী নামে একজন বিত্তবান মহিলা। এ সব নারী হিজাব পালন করেই এসব কাজ সম্পন্ন করেছেন। তাই হিজাব প্রগতির পথে কোন অন্তরায় নয়। হিজাব প্রগতির পথে অন্তরায় বলে যারা প্রচার চালান তারা ইতিহাসের এসব ঘটনা গোপন রেখে সমাজকে ধোঁকা দিচ্ছে।
আধুনিক কালেও প্রচুর হিজাবধারী মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করে হিজাব নিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বিশ্বের দিকে দিকে যে সব আধুনিকী নারী ইসলাম গ্রহণ করছেন তাঁরা প্রত্যেকেই সাদরে হিজাবকে গ্রহণ করছেন। ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে অবশেষে মুসলমান হলেন যুক্ত রাষ্ট্রের শরিফা কার্লোস। তিনি হিজাবকে গ্রহণ করেছেন আনন্দ ভরে।