`হারি জিতি নাহি লাজ’

ভারতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পাশাপাশি নিজের আসন আমেথির হার মেনে নিয়ে স্মৃতি ইরানিকে অভিনন্দন জানালেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী। বললেন, ‘স্মৃতি ইরানজিকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমেথির মানুষ তার ওপর ভরসা করেছেন। জিতিয়েছেন। আশা করব, স্মৃতি ইরানিজি মানুষের সেই বিশ্বাস রাখবেন।’ নরেন্দ্র মোদি ফের দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি বলেও উল্লেখ করেন কংগ্রেস সভাপতি। হারের জন্য রাহুল গান্ধী সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিতে চান বলেও খবর। যদিও এই ব্যাপারে এক প্রশ্নের উত্তরে কংগ্রেস সভাপতির জবাব, ‘এ বিষয়টি আমার আর কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির ওপর ছেড়ে দিন।’ হারের বিশ্লেষণ করতে রাহুল গান্ধী শিগগিরই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকছেন বলেও খবর।

কেন এই হার হলো, তা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণে যেতে না চাইলেও এদিন বিকালে ২৪ আকবর রোডে সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় বললেন, ‘হারের ১০০ শতাংশ দায়িত্ব আমার। নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ছিল আদর্শের লড়াই। সেখানে পরাজিত হয়েছি। জনতাই দেশের মালিক। আর মালিকের রায় স্পষ্ট, নরেন্দ্র মোদিকেই তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছেন। আমি সেই রায়কে সম্মান করি।’ মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাহুল। গতবারের চেয়ে এমপির সংখ্যা কিছু বাড়লেও কংগ্রেসের জন্য বিরোধী বেঞ্চই বজায় রইল। এবারে কংগ্রেসের আট জন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভোটে হেরেছেন। এরা হলেন, শীলা দীক্ষিত, ভূপিন্দর সিং হুদা, হরিশ রাওয়াত, দিগ্বিজয় সিং, সুশীলকুমার সিন্ধে, বীরাপ্পা মইলি, মুকুল সাংমা ও নবাম টুকি।

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আদর্শের লড়াই লড়েছি। ভবিষ্যতেও লড়ব। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’ হার স্বীকার করেই এদিন সংবাদ সম্মেলন করেন রাহুল গান্ধী। বোন তথা দলের স্টার প্রচারক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে এদিন তিনি এআইসিসিতে আসেন। ২০১৪ সালের মোদি ঝড় ২০১৯-এ সুনামিতে পরিণত হওয়ায় কংগ্রেসের গড়ও রক্ষা করতে পারলেন না রাহুল গান্ধী। নির্বাচনী প্রচারে মোদির বিরুদ্ধে চৌকিদার চোর হ্যায় স্লোগানকে জনপ্রিয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন বটে, কিন্তু মানুষের মন থেকে মোদির গ্রহণযোগ্যতাকে এতটুকু কমাতে পারেনি। এমনকী আমেথিতে নিজের গড়ও রক্ষা করতে ব্যর্থ রাহুল গান্ধী। ২০০৪ সালে রাজনীতিতে আসার পর থেকে উত্তরপ্রদেশের আমেথি থেকে পরপর তিনবার জিতে এসেছেন তিনি। কিন্তু এবার হারলেন।

স্মৃতি ইরানি গতবার টক্কর দিলেও পেরে ওঠেননি। কিন্তু লাগাতার লেগে থেকে এবার রাহুলকে হারিয়ে নিজেকে ‘জায়েন্ট কিলার’ প্রমাণ করলেন স্মৃতি। আর আমেথির পরাজয় রাহুল গান্ধী তো বটেই, গোটা কংগ্রেসের কাছেই একপ্রকার বিপর্যয় বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে আমেথি থেকে হারলেও কেরলের ওয়ানাড় থেকে জিতেছেন রাহুল গান্ধী। ওয়ানাড় থেকে এবারই প্রথম লড়েছিলেন। কিন্তু তাতেও দক্ষিণে কি আদৌ কংগ্রেস কিছু করে উঠতে পারবে? উঠছে প্রশ্ন।

You Might Also Like