হামলার দায় স্বীকার আইএসের

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অন্তত ছয়টি স্থানে সন্ত্রাসী হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। একটি রেস্তোরাঁর পাশে পড়ে আছে ওই হামলায় নিহত কয়েক ব্যক্তির নিথর দেহ । হামলার পর পর তল্লাশি জোরদার করা হয় প্যারিসজুড়ে। তল্লাশির সময় এক ব্যক্তি রাস্তায় শুয়ে পড়েন এভাবে। ছবি: রয়টার্সহামলায় হতাহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। হামলার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ছয়টি স্থানে বোমা হামলার পর আতঙ্কে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন ওই সব এলাকার লোকজন। পরে ওই সব স্থান থেকে লোকজনকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। ছবিটি আজ শহরের কেন্দ্রস্থলে বাটাক্লঁ কনসার্ট হলের সামনে থেকে তোলা। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ফ্রান্সের কনস্যুলেটের বাইরে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ‘আমরা ফ্রান্সের পাশে আছি’, ‘আমরা ভীত নই’—এসব বার্তা লিখে প্যারিসে হামলায় আহতদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছে মার্কিন নাগরিকেরা।

গত শুক্রবারের হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে ফ্রান্সের প্যারিসের বাটাক্লঁ কনসার্ট হল। আজ শনিবার সকালে হলের সামনের রাস্তা আটকে দেয় পুলিশ। টোকিওতে ফ্রান্সের দূতাবাসের সামনে নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে ফ্রান্সের প্যারিসের বাটাক্লঁ কনসার্ট হল।

জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ফ্রান্সের প্যারিসে হামলার দায় স্বীকার করেছে। অনলাইনে দেওয়া তাদের বিবৃতির বরাত দিয়ে আজ শনিবার এএফপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

অনলাইনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএস দাবি করে, ‘বিস্ফোরক কোমরবন্ধনী পরে ও অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাদের আট ভাই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সফল হামলা করেছে।’ এর আগে এ হামলার ঘটনায় আইএসকে দায়ী করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। তিনি বলেন, ‘স্বাধীন দেশ ফ্রান্সের ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট এ হামলা চালিয়েছে।’

গত শুক্রবার রাতে প্যারিসের কয়েকটি স্থানে সন্ত্রাসী হামলায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত এবং কয়েক শ’ ব্যক্তি আহত হন। এ হামলার পর ফ্রান্সে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। একই সঙ্গে দেশটির সব সীমান্ত বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি দেড় হাজার সেনাসদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের বিচারে দাঁড় করানোর আহ্বান জানিয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফ্রান্সের পাশে থাকার কথা বলেছে ন্যাটো।

যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত জানিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্যারিসে এই সন্ত্রাসী হামলার ভয়াবহতায় ক্ষুব্ধ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এক টুইটে বলেন, সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা নিয়ে তাঁরা ফ্রান্সের মানুষের পাশে থাকবেন। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল প্যারিসে এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ‘বিস্মিত, হতবাক’ বলে জানিয়েছেন। রাশিয়া এই হামলার নিন্দা জানিয়ে ফ্রান্সের সরকার ও জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ। দেশটির প্রেসিডেন্ট ওলাঁদের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

You Might Also Like