হোম » হাতি-মশায় সরগরম সংসদ

হাতি-মশায় সরগরম সংসদ

ঢাকা অফিস- Friday, February 17th, 2017

বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় হাতির অনুপ্রবেশ ও দেশের অভ্যন্তরে মশা সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংসদে দাবি জানিয়েছেন দুই সংসদ সদস্য।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে পয়েন্ট অফ অর্ডারে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেপি) রুহুল আমিন ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মইনউদ্দিন খান বাদল এই দাবি জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

রুহুল আমিন বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া। আর আমরা যারা জনপ্রতিনিধি আমাদেরও দায়িত্ব জনগণকে নিরাপদে রাখা। আমার নির্বাচনী এলাকায় কুড়িগ্রাম-৪ এর রৌমারি উপজেলার আলগারচর গ্রাম দিয়ে ভারত থেকে প্রতিনিয়ত সন্ধ্যার পর ৭০ থেকে ৮০টি হাতি নেমে আসে। যখন ওই পাশে হাতি আসে, তখন বিএসএফ গেট খুলে দেয়। এতে হাতিগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে। হাতিগুলো প্রবেশের পর বিভিন্ন ফসলাদিসহ ভুট্টা খেত ধ্বংস করে। এটা সরেজমিনে দেখার জন্য, আমি নিজে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও আওয়ামী লীগের সভাপতি-সেক্রেটারিকে নিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা হাতির তাণ্ডবলীলা দেখি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সেখানে একজনের একটা ভুট্টা খেতে আগে বিষ দেওয়া ছিল। সে কারণে ভুট্টা নষ্ট করতে পারে নাই। ওদের বাড়ি হাতি ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। এই কারণে ওই অঞ্চলের লোক আতঙ্কে আছে। ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষা দিতে যাবে, আতঙ্কে থাকে। বৃদ্ধ লোকজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে দূরে সরে আছে।’

রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার এলাকায় খেলার চর, আলগার চর, ঝাউবাড়ি ও বড়ইবাড়ি এই কয়েকটি গ্রামে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করেছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।’

এ বিষয়ে জামালপুর বিজিবির সিওকে জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উনি নিজেও সীমান্ত এলাকায় গিয়ে হাতির এই তাণ্ডব লীলা দেখেছেন। তাই আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষগুলো যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, ঘরবাড়ির ক্ষতি না হয়, ফসলের ক্ষতি করতে না পারে, তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

এদিকে, মইনউদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘একজন মাননীয় সংসদ সদস্য সবচেয়ে বড় প্রাণী নিয়ে বলেছেন, যার কোনো নাগরিকত্ব নাই। আসা-যাওয়ার ব্যাপারে কোনো সমস্যা নাই। তারপরও সমস্যা সৃষ্টি করছে। আমি সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রাণী মশা নিয়ে বলছি। আমি গতকাল আমার বাসায় সারা রাত সজাগ ছিলাম। তার কারণ মশা কামড়াচ্ছে। এসিআই বলে একটি কোম্পানি আছে। তাদের মশার ওষুধটি বাসায় ছিল। আমি নিজে পরখ করে দেখলাম যতবার এসিআই দেই ততবার মশা একটু নির্জীব হয়ে যায়, কিছুক্ষণ পর আবার কামড়াতে থাকে। এসিআই বেশ নামকরা কোম্পানি। তাদের এই মশা মারার ওষুধের মধ্যে যদি মশা মারার ক্ষমতাই না থাকে, তাহলে তাদের ওই ওষুধ বাজার থেকে প্রত্যাহার করা উচিত।’

এ বিষয়টি সংসদের নজরে এনে তিনি বলেন, ‘সংসদে শিল্পমন্ত্রীও নাই, বাণিজ্যমন্ত্রীই নাই। এই কোম্পানির ওষুধের বিষয়ে তারা নিজেরাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পারেন। পরবর্তী সময়ে আমি আরো শুনলাম, অনেকের বাসায় এই একই অভিযোগ। বিষয়টি অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে না। কিন্তু সারা রাত সজাগ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়।’