হাজী মহাসম্মেলন থেকে পারিবারিক জীবনে হজের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর আহ্বান

 হজ পালনের পর একজন হাজীর ব্যাক্তি ও পারিবারিক জীবনে হজের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আর তা হলেই হজের উদ্দেশ্য পূরণ হবে বলে উল্লেখ করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেম আল্লামা তারেক মুনাওয়ার। তিনি গত ১০ ডিসেম্বর সুন্নাতি হজ ও ওমরাহ গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত হাজী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন। আমেরিকান মুসলিম সেন্টারের আয়োজনে জ্যামাইকা হাজী ক্যাম্প মসজিদে এই হাজী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আলহাজ মির্জা মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ট্রাস্টিবোর্ড চেয়ারম্যান ডাঃ বিল্লাহ, জেএমসির ইমাম ও খতিব মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ, ইকনা মারকায মসজিদের ইমাম ও ডাইরেক্টর হাফেজ জফীর আলী, জামেয়া কোরআনীয়া মাদ্রাসার মোহতারাম হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম, হাজী ক্যাম্প মসজিদের ইমাম ও ডাইরেক্টর হাফেজ রফিকুল ইসলাম, হাজী ক্যাম্প মসজিদের সভাপতি আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

এই মহতি সম্মেলনের পরিচালনায় ছিলেন সুন্নাতি হজ ও ওমরাহ গ্রুপের কর্ণধার সকল আয়োজনের প্রাণসঞ্চারক ও কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব মুফতি মাওলানা আব্দুল মালেক।

প্রধান বক্তা আল্লামা তারেক মুনাওয়ার আরো বলেন, দিশেহারা মানুষ, শীথিল পারিবারিক বন্ধন, স্বার্থদ্বন্ধে জর্জরিত

SONY DSC

সমাজ অশান্তির দাবাণল জ্বলছে দিকে দিকে। সর্বত্র মহা বিপর্যয়ের ভয়ংকর আশংকা দেখা দিয়েছে। ঠিক এমন সময় মানুষ হিসেবে কেউ নির্বিকার থাকতে পারেনা। প্রত্যেকের কিছু না কিছু দায়িত্ব আছে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার। বিশেষ করে হাজীগণই পারেন বিশ্ব শান্তি মিছিলের নেতৃত্ব দিতে। অন্যান্য বক্তাগণের বক্তব্যৌ এমন আশাবাদ ব্যক্ত হয়।

সম্মেলনের সভাপতি আলহাজ মির্জা মশিউর রহমান উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, হাজীর মর্যাদা যেমন বড় দায়িত্বও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। দাওয়াহ কাজই হবে হাজীর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

হাজী ক্যাম্প মসজিদের সভাপতি আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সাত্তার হাজী মেহমানদারদেরকে স্বাগত জানিয়ে হজ পরবর্তী করণীয় স্মরণ করিয়েছেন। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ট্রাস্টিবোর্ড চেয়ারম্যান ডাঃ বিল্লাহ শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, বিপুল সংখ্যক হাজীবৃন্দের উপস্থিতিতে তিনি অবিভুত। তিনি আরো বলেন, সময়ের দাবী ঐক্যবদ্ধ মুসলিম কমিউনিটি। মুফতি আমিনুল ইসলাম বলেন, হজের আদাব থাকতে হবে হাজীদের দৈনিন্দিন জীবনে।

হাজী ক্যাম্প মসজিদের ইমাম ও ডাইরেক্টর হাফেজ রফিকুল ইসলাম বলেন, হজ ও হাজীর অনেক বড় মর্যাদাই বলে দেয় এই

SONY DSC

মহতি অনুষ্ঠানের ধারাবাহিক প্রয়োজনীয়তা। আমাদের উচিত প্রতিটি নেক কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকা।

ইকনা মারকায মসজিদের ইমাম ও ডাইরেক্টর হাফেজ জফীর আলী বলেন, হজের উপর টিকে থাকার ক্রমাগত চেষ্টা চালাতে হবে। জেএমসির ইমাম মির্জা আবু জাফর বেগ সর্বোপরি তাওবাহ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। জামেয়া কোরআনীয়া মাদ্রাসার মোহতারাম হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, বৈষয়িক সুযোগ সুবিধার চেয়ে খালেছ ইবাদতের প্রতি বেশি মনযোগী হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানের পরিচালক মুফতি আব্দুল মালেক বলেন. বায়তুল্লাহর আকর্ষণ আল্লাহর ভালবাসার নিদর্শন। তাকওয়া হাজীদের ভূষণ। হজ্বের স্মৃতিচারণ ঈমানের উজ্জীবণ তাওবাহ ও দোয়ার আয়োজন এই মহতি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ সকলের প্রয়োজন।

SONY DSC

পরিশেষে এই মহা সম্মেলন থেকে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে সম্মানিত হাজী ভাই-বোনদের সহযোগীতায় সমাজকে অব্যাহতভাবে আলোকিত করা এবং হাজীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার মহৎ লক্ষ্যে গঠিত ‘হাজী কল্যাণ পরিষদ’ বা হাজী কেয়ার মিশন’র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ‘হাজী কল্যাণ পরিষদ’র আহবায়কবৃন্দ হলেন, আলহাজ মির্জা মশিউর রহমান, আলহাজ শামসুল হক, আলহাজ মুহাম্মদ শাহ আলম, আলহাজ মুহাম্মদ আবু সাঈদ, আলহাজ মঈন উদ্দিন, আলহাজ মুহাম্মদ মেছবাহ উদ্দীন,   আলহাজ মুহাম্মদ হোছাইন খান, আলহাজ জাহাঙ্গীর সরকার, আলহাজ মাওলানা সানা উল্লাহ, আলহজ মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, রোকসানা আলম, ইসরাত জাহান উদ্দিন, কহিনূর বেগম, শামসুন নাহার, তানিয়া রহমান (তাহেরা আল কোরআন একাডেমির পৃষ্ঠপোষক)।

এই মহান সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটি, আলবেনী, নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া ও অন্যান্য স্থান থেকে বহু সংখ্যক হাজীবৃন্দ জমায়েত হয়েছেন। ইকনা মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল ও এএমসি সদস্য মাওলানা আতাউর রহমান, এএমসি ইনচার্জ মাওলানা মানজুরুল কারীম, সমাজ সেবক শামসুদ্দীন ও মনির উদ্দীনসহ অন্যান্য উলামা এবং সুধীবৃন্দ।

You Might Also Like