হাঙ্গেরিতে অভিবাসীদের বেধড়ক পিটুনি: ‘মর্মাহত’ জাতিসংঘ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে ইউরোপে যাওয়া অভিবাসীদের নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে হাঙ্গেরির পুলিশ। আর এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। তিনি বলেছেন, আশ্রয়প্রার্থী ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন নির্দয় আচরণ ‘অগ্রহণযোগ্য’।

বুধবার হাঙ্গেরি ও সার্বিয়ার সীমান্তে অভিবাসীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হাঙ্গেরির পুলিশ। জার্মানিগামী নিরস্ত্র ও অসহায় মানুষরা যাতে সার্বিয়া থেকে হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য দেশটির পুলিশ প্রথমে অভিবাসীদের ওপর টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এরপর নারী ও শিশুসহ বেসামরিক এসব মানুষকে বেধড়ক পেটায়। অসহায় অভিবাসীরা প্রচণ্ড আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। বহু মানুষ আহত হন এবং পুলিশের পিটুনিতে অনেকের মাথা ফেটে যায়।

হাঙ্গেরি সরকার অবশ্য পুলিশের এই নির্দয় আচরণ সমর্থন করে বলেছে, অভিবাসীরা একটি গেট ভেঙে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে ২০ জন পুলিশ আহত হয়। এরপরই পুলিশ অ্যাকশনে যায়। দেশটির একজন সরকারি মুখপাত্র দাবি করেন, ‘সংঘর্ষের সময়’ অভিবাসীরা শিশুদেরকে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করেছে।

এর আগে মঙ্গলবার হাঙ্গেরি সরকার সার্বিয়ার সঙ্গে তার পুরো সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়। ভূমধ্যসাগর হয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অভিবাসীরা যাতে সার্বিয়া থেকে হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য এই পদক্ষেপ নেয় বুদাপেস্ট। জার্মান সরকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর লাখ লাখ অভিবাসীকে আশ্রয় দেবে বলে ঘোষণা দেয়ার পর সড়কপথে বুলগেরিয়া, সার্বিয়া, হাঙ্গেরি,অস্ট্রিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র হয়ে জার্মানিতে পৌঁছার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন হাজার হাজার অভিবাসী। কিন্তু হাঙ্গেরি সরকার কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে অসহায় এসব মানুষের গতিরোধের চেষ্টা করছে।

You Might Also Like