হোম » হাওয়াইয়ান শালতিতে বিশ্বভ্রমণ

হাওয়াইয়ান শালতিতে বিশ্বভ্রমণ

ঢাকা অফিস- Sunday, June 18th, 2017

বিশ্ব ঘুরে এল একটি হাওয়াইয়ান শালতি নৌকা। ‘হকুলে’য়া’ নামের এই ঐতিহ্যবাহী পলিনেশীয় নৌযাত্রার নৌকা সারা পৃথিবী ঘুরে হাওয়াইয়ের হনলুলুতে ফিরে এসেছে।

শনিবার হাওয়াই বাসিন্দারা হনলুলুর ম্যাজিক আইল্যান্ড পেনিনসুলায় হকুলে’য়াকে স্বাগত জানায়। এর মধ্য দিয়ে এই প্রথম এ ধরনের কোন জলযান সারা পৃথিবী ভ্রমণ সম্পূর্ণ করল। হকুলে’য়া মানে ‘আনন্দের শুকতারা।’

বিশ্ব ঘুরে আসতে শালতিটির সময় লেগেছে তিন বছর। এর নাবিকরা নৌযাত্রায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেননি। দিক নির্দেশক হিসেবে শুধু আকাশের তারা, বায়ুপ্রবাহ ও সামুদ্রিক জোয়ার-ভাঁটা ব্যবহার করেছেন। শত শত বছর আগে পলিনেশীয় বসতকারীরা যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাওয়াইয়ে এসে পৌঁছেছিল, তারা তা ব্যবহার করেছেন। নৌকাটিতে একবারে ১২ থেকে ১৩ জন থাকতে পারে। নৌকাটি ২০২৫ সালে সিডনি ও ২০১৬ সালে নিউ ইয়র্কে পৌঁছায়।

৭০-এর দশকে নির্মিত এই হকুলে’য়া তার সদ্য ভ্রমণে ৪০ হাজার নটিক্যাল মাইল বা ৭৪ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করেছে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মালামা হনুয়া ভ্রমণ’, যার অর্থ ‘পৃথিবী নামের দ্বীপের যত্ন নেওয়া’। এর উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক সংরক্ষণ ও আদিবাসী সংস্কৃতি রক্ষার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে বার্তা ছড়ানো।

হাওয়াইয়ান মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ওইউই টিভি পুরো অভিযানটি ভিডিও করেছে। এর নির্বাহী প্রধান ও ভ্রমণকারীদের একজন নালেহু অ্যান্থনি হাওয়াই পাবলিক রেডিওকে জানান, তারা যেখানেই নোঙর ফেলেছেন, স্থানীয়রা তাদের হাওয়াইয়ান ভাষায় ‘আলোহা’ (ভালোবাসা) বলে স্বাগত জানিয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের অভিযানটিকে ফিরে দেখার পর যে বিষয়টি তার কাছে সবচেয়ে প্রশংসনীয় বলে মনে হয়েছে, তা হলো তারা যেখানেই গেছেন, সেখানকার মানুষদের কাছে নোঙর করার অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। তারা কোথাও নিজের ইচ্ছেমতো নোঙর ফেলেননি। বরং কোথাও পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের সবিনয়ে অনুরোধ করেছেন তাদের ঢুকতে দেওয়ার জন্য।

নালেহু অ্যান্থনি আরো বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে তারা আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছেন। এ ছাড়া মানব সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘পার্থক্যের চেয়ে সাদৃশ্য বেশি’ তাও পুনঃপ্রমাণিত হলো।

এই ভ্রমণের আয়োজকরা তাদের ওয়েবসাইটে বলেন, হকুলে’য়া তার অভিযানের মাধ্যমে হাওয়াইয়ান সংস্কৃতি, ভাষা ও পরিচয়ের পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছে। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে ভ্রমণ ও নৌচালনা ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন হয়েছে।