হাওর এলাকার পরিস্থিতি এমন নয় যে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে হবে : মায়া

বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেছেন, হাওরের পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়নি যে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে হবে। হাওরের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আজ (রোববার) এক আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী।

মন্ত্রীর ভাষ্য, পরিস্থিতি এখনো তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার সামর্থ্য তাঁদের রয়েছে।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর মায়া সাংবাদিকদের বলেন, ছয় জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লাখ ৩০ হাজার পরিবারকে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মাসে ৩০ কেজি করে চাল, ডাল, তেল, নুন কিনতে ৫০০ টাকা করে দেয়া হবে।

এছাড়া এসব জেলার ক্ষতিগ্রস্ত যারা রিলিফ নেবেন না এরকম আরও ১ লাখ ৭১ হাজার ৭১৫ পরিবারকে ওএমএসের মাধ্যমে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

এমাসের শুরুতেই অসময়ে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন লাখ লাখ কৃষক।

হাওরবাসীর দুরবস্থার প্রতি সহমর্মীতা জানিয়ে এ অঞ্চলের বাসিন্দা এবং পরিবেশ বাঁচাও অন্দোলনের চেয়ারম্যান জনাব আবু নাসের খান রেডিও তেহরানকে বলেন, এবারের অকষ্মিক বন্যার কারণ প্রাকৃতিক। তা বলে সরকাররে কোনো দায়দায়িত্ব নেই তা নয়।

তিনি পরামর্শ দেন, ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র পরবিারের জন্য সাহায্য বাড়াতে হবে। কৃষি ঋণ মওকুফ বা কিস্তিতে আদায় করতে হবে। নতুন ঋণ দিতে হবে এবং গবাদি পশুর জন্য জরুরি খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।

তিনি আরো জানান, বন্যাজনিত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে এবং হাওরবাসীদের জন্য বিকল্প কৃষি ও আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ রোববার (২৩ এপ্রিল) হাওরের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান ” বাঁধের চেয়ে পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় হাওর এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২৯ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৪ দিনে পানির সমতল সিলেটে প্রায় সাড়ে ৮ মিটার ও সুনামগঞ্জে ৫ মিটার বেড়েছে। আর কখনও এমনটা বাড়েনি। পানির উচ্চতার জন্য বন্যা হয়েছে।’

বর্তমান পরিস্থিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কি করার আছে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির নেতা আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘এই মুহুর্তে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যেটা করতে পারে সেটা হল “যে ক্ষতিটা হয়েছে তা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। “

এর আগে হাওর এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানান। তার জবাবে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব আইনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, কোনো এলাকাকে দুর্গত ঘোষণা করতে হলে, প্রথমে সেখানে খাদ্য সংকট দেখা দিতে হবে এবং দেশে কোনো খাদ্য থাকবে না, খাদ্যগুদাম খালি থাকবে। এখানে সাত হাজার মেট্রিক টন চাল এখনো মজুদ আছে। সচিবের বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এমন দুর্যোগ মুহূর্তে সুনামগঞ্জকে নিয়ে এমন ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য দেয়া হাওরবাসীকে নিয়ে তামাশার শামিল। তারা অবিলম্বে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিবের বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি করেন। -পার্সটুডে

You Might Also Like