হরিণ শাবকের সঙ্গে চিতার খেলা

শিকারি চিতার সাথে খেলছে হরিণ শাবক। ঘাড়ে মুখ ঘষছে, মুখ খামচে ধরছে। কিন্তু কতক্ষণ চলবে এই বন্ধু বন্ধু খেলা…

সাধারণত নিরীহ শিকারকে দেখে হামলে পড়ে  হিংস্র শিকারি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার কুরুগার ন্যাশনাল পার্কে এবার ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা। শিকারকে শিকারের বদলে উল্টো মজার খেলায় মেতেছিল এক জোড়া চিতা বাঘ। নিজের সন্তানের মতোই হরিণ শাবকের সাথে লুটোপুটি খাচ্ছিল, কখনো দৌঁড়ে ছোঁয়াছুঁয়িও খেলছিল।

প্রাণীদের এ মধুর সম্পর্ক দেখে নিজেকে ভাগ্যবান ভাবছেন বনরক্ষক ইস্টিয়ান হাউ। পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দী করেছেন তিনি।

ডেইলি মেইলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইস্টিয়ান বলেন, ‘আমি অনেক বছর ধরেই এই পার্কে কাজ করছি। কিন্তু কখনো এমন দৃশ্য দেখিনি।’

ঘটনার দিন একদল পর্যটক নিয়ে সাফারি পার্কে ঘুরে দেখাচ্ছিল ৩১ বছর বয়সী এই বনরক্ষক। হঠাৎই তার চোখ আটকে যায় এক জোড়া চিতা বাঘ ও একটি হরিণ শাবকের ওপর।

প্রথমে ভেবেছিলেন, ছোট্ট শিকারটাকে খামচে ধরবে চিতা বাঘ। কিন্তু দেখলেন চিতা বাঘটি হরিণ শাবকটির গায়ে আলতো থাবা দিচ্ছে। ভাবলেন, হয়ত শিকারের সাথে কিছুক্ষণ খেলবে তারপর কামড় বসাবে। কিন্তু চিতা তো খেলেই চলছে। এক সময় শাবকটি দৌঁড় দিল, পিছু নিল চিতা।

‘আহ..হা..রে এবার তো শিকার হবেই’ আফসোস হচ্ছিল ইস্টিয়ানের। কিন্তু ইস্টিয়ানকে অবাক করে হরিণ শাবকের গায়ে আলতো আঁচড় দিয়েই লুটোপটি খেলতে থাকল চিতা।

ইস্টিয়ান বলেন, ‘দূর থেকে মনে হচ্ছিল এই তো এক্ষুণি হরিণ শাবকটিকে ধরে ফেলবে। থাবাও দিয়ে ফেলেছে কিন্তু…।’

‘ততক্ষণে আমি বুঝে ফেলেছি, চিতা হরিণ শাবকের সাথে দুষ্টামি করছে। কোনোভাবেই যেন শাবকটি ব্যাথা না পায়, সেদিকে সতর্ক ছিল চিতা। অপরদিকে ছোট্ট শিকারটি কিন্তু কোনোই ছাড় দেয়নি। চিতা বাঘের মুখ খাঁমচে দিয়েছে বার বার।’

ইস্টিয়ান বলেন, পুরো ঘটনা দেখে আমি এতো আশ্চর্য এবং খুশি হয়েছি যে, যদি সুযোগ থাকত তাহলে পুরো ঘটনাটি আমি আবার দেখতাম। তবে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, চিতাটি হয়ত হরিণ শাবকের মায়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। শাবককে নিতে মা হরিণ কাছে  এলেই হামলে পড়বে মায়ের ওপর।

প্রায় একই বক্তব্য চিতা বাঘ নিয়ে গবেষণাকারী উইলিয়াম ফক্সের। তিনি বলেন, ‘চিতা বাঘের এ কাণ্ড দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ এই জাতীয় প্রাণীর স্বভাব এটি। শিকারের আগে শিকারকে নিয়ে খেলতে থাকে ওরা। আমি বহুবার এ ধরণের ঘটনা দেখেছি। একই বৈশিষ্ট্য বাড়ির পোষা বিড়ালটিরও। লক্ষ্য করলে দেখবেন, বাড়ির বিড়ালটি ইঁদুর ধরার পর সাথে সাথে খায় না। কিছুক্ষণ খেলে তারপর মেরে খেয়ে ফেলে।’

‘এটা ভাবতে ভালো লাগে যে, ছোট্ট শিকারকে হত্যা না করে মজা করে খেলছে, বন্ধুত্ব হয়ে যাচ্ছে হিংস্র শিকারির সাথে । কিন্তু সমাপ্তিটা হয়ত এতোটা মধুর নয়!’

You Might Also Like