হোম » স্মার্টফোনই কি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে?

স্মার্টফোনই কি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে?

ঢাকা অফিস- Thursday, September 21st, 2017

প্রযুক্তির এই যুগে নিত্য নতুন প্রযুক্তির আগমন ঘটছে। বাড়ছে ব্যবহারকারীরও সংখ্যা। আধুনিক এই যুগে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মোবাইল ফোন।

মোবাইল ফোনের প্রথম বাণিজ্যিক সংস্করণ বাজারে আসে ১৯৮৩ সালে। প্রথমে মোবাইল ফোন শুধু কথা বলার জন্য ব্যবহার করা হলেও এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করে কি না করা যায়। আগে ব্যবহারকারী ফোন নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন নাকি স্মার্টফোনই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে!

এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক বছরে স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারীরা দিনে ৮৫ বার তার স্মর্টফোনটি ব্যবহার করে এবং পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে। যা জেগে থাকা সময়ের এক তৃতীয়াংশ।

গবেষণাধর্মী ফার্ম ফ্লারি ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একটি গবেষণা করে। সেখানে বলা হয়েছে, দিনে ১৫২ থেকে ৩০০ মিনিট পর্যন্ত সময় ব্যয় করা হয় স্মার্টফোনের পেছনে।

গবেষণায় দেখা যায়, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ১৯ শতাংশের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম। এ ছাড়া ১৫ শতাংশ ব্যক্তি গান শুনে, গণমাধ্যমের খবর জানতে কিংবা অন্যান্য বিনোদনের জন্য ব্যবহার করে। এ ছাড়া ১১ শতাংশ ব্যবহারকারী বিভিন্ন ধরনের গেম খেলে সময় ব্যয় করে। স্নাপচ্যাট করে ২ শতাংশ ও ইউটিউবে ভিডিও দেখে ৪ শতাংশ লোক সময় ব্যয় করে। সেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশের ১১ শতাংশ লোকজন অন্যান্য প্রযুক্তিতে আসক্ত। আর এ স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাজ্যের সোওয়ানজি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে উদ্বিগ্নতা, উচ্চ রক্তচাপসহ হার্টের সমস্যা হতে পারে।

তবে স্মার্টফোন ব্যবহারের শুধু খারাপ দিক রয়েছে তা নয়। এটির অফুরন্ত ইতিবাচক দিকও রয়েছে। স্মার্টফোন ব্যবহার করে যেকোনো বিষয়ে সহজেই তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া শিক্ষা অর্জনেও কাজে লাগানো যেতে পারে। যোগাযোগ সহজ থেকে আরো সহজ করেছে স্মার্টফোন।

ব্যাংকিং, বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ, পরিষেবা গ্রহণসহ নিত্যকার কাজকর্ম সহজ করে দিয়েছে এই ফোন। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বজুড়ে তথ্যের মুক্তির যে স্বপ্ন, তার বেশ খানিকটা পূরণ করেছে স্মার্টফোন। ক্রমেই ডিজিটাল বিশ্বের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠছে দ্রুত যোগাযোগের এই যন্ত্রটি।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠানের (ইউএসএআইডি) মতে, কোনো দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া ৯৩ শতাংশ নারী মোবাইলের কারণে নিরাপদ বোধ করে।

স্মার্টফোন ব্যবহার করে অনেক বিষয়েই সুবিধা পাওয়া যেতে পারে যদি স্মার্টফোনই আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ না করে।