‘স্বার্থান্বেষীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি’

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করা ‘ষড়যন্ত্র’ ছিল বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন।

শনিবার ফেসবুকে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাংকের আনা দুর্নীতির অভিযোগটি পদ্মা সেতু ও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কানাডার আদালতের এই রায় প্রমাণ করে, পদ্মা সেতু নিয়ে আমাকে জড়িয়ে বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগ করেছিল তা সর্বৈব মিথ্যা। বাংলাদেশে তৎকালীন বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি গোল্ড স্টেইন এবং বাংলাদেশের পত্রিকার অসত্য রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক যে কাল্পনিক অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল, তা শুধু মিথ্যা নয়, ষড়যন্ত্রমূলক। আমি বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশি স্বার্থন্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। এ ষড়যন্ত্র আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম, মর্যাদা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পথকে বাধাগ্রস্ত করেছে। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের স্বীকারোক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার চীনের এক আন্তর্জাতিক ফোরামে সাক্ষাৎ হয়। তিনি তখন বলেছিলেন, আমি বুঝতে পারছি, পদ্মা সেতু এবং আপনি ষড়যন্ত্রের শিকার। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা তখন বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও বিশিষ্ট কতিপয় লোকের কথায় প্রভাবিত হয়েছেন। এ জন্য আমি অনুতপ্ত।’

আবুল হোসেন তার বিবৃতিতে আরো বলেন, ‘আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সাকো-কে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে জড়ানো হয়েছে। পরামর্শক নিয়োগে ৩৭ মিলিয়ন ডলার দর প্রস্তাবের ৩৫ মিলিয়ন ঘুষ লেন-দেনের অভিযোগ করা হয়েছে। টকশোতে এ বিষয় নিয়ে বিশিষ্টজনরা রাতের ঘুম হারাম করে আলোচনায় অংশ নেন, তা ছিল উদ্দেশ্যমূলক। বাংলাদেশে এসে বিশ্বব্যাংকের আইন উপদেষ্টা ওকাম্পো যে আইনবিরোধী লম্প-ঝম্প দেখালেন, সরকার, পদ্মা সেতু এবং আমার বিরুদ্ধে যে মিথ্যাচার করলেন, তা ষড়যন্ত্রের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে থাকবে।’

You Might Also Like