হোম » স্বাধীনতা নিয়ে গণভোটে ইরাকি কুর্দিরা

স্বাধীনতা নিয়ে গণভোটে ইরাকি কুর্দিরা

ঢাকা অফিস- Monday, September 25th, 2017

প্রতিবেশীদের বিরোধিতা-হুমকি উপেক্ষা করে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান প্রদেশে স্বাধীনতার প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত গণভোট শুরু হয়েছে।

কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের (কেআরজি) উদ্যোগে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট শেষ হওয়ার ৭২ ঘন্টার মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রায় ৫৬ লাখ ভোটারের জন্য ২ হাজার ৬৫টি ভোটকেন্দ্র খোলা হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দেবেন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্বাধীনতার পক্ষে গণরায় এলেই কুর্দিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করবে এমন নয়। এই রায়ের ওপর ভিত্তি করে কেআরজি’র নেতা মাসুদ বারজানি স্বাধীনতার প্রশ্নে বাগদাদের কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক শতাব্দি আগে তুরস্কের ওসমানি সাম্রাজ্য পতনের পর সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক নৃগোষ্ঠী কুর্দিরা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও এই গণভোট হয়তো কুর্দিদের একটি রাষ্ট্রীয় পরিচয় এনে দেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।

আঞ্চলিক রাজধানী ইরবিলের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে অপেক্ষমান তালাত নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বাজে সময় দেখেছি, আমরা অবিচার, হত্যা ও অবরোধ দেখেছি।’

তবে কুর্দিদের এই গণভোট নিয়ে বাগদাদ এবং প্রতিবেশী দেশগুলো কড় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি গত সপ্তাহে বলেছেন, ‘আমাদের নাগরিকদের সামাজিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এটা একটা অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত। আমরা গণভোট কিংবা এর ফলাফলকে স্বীকৃতি দেব না।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে কোনো নতুন গঠন ও অবস্থা পরিবর্তনকে কখনোই সহ্য করবে না তুরস্ক।’

একই ধরণের সতর্কতা উচ্চারণ করেছে প্রতিবেশী ইরান। তারা সাফ জানিয়েছে, এই গণভোটের স্বীকৃতি তেহরান দেবে না।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিতর্কিত অঞ্চলে এই গণভোট সুনির্দিষ্টভাবে উত্তেজনা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি করবে।

সর্বশেষ সংবাদ